বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা • Chattogram Board • চট্টগ্রাম বোর্ড ২০২৫

বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা প্রশ্ন

  1. ক)

    নবোপলীয় যুগ কী?

    (1)
  2. খ)

    সিন্ধু সভ্যতার অর্থনৈতিক ব্যবস্থা কেমন ছিল?

    (2)
  3. গ)

    ১নং চিত্রটিতে যে সভ্যতার ইঙ্গিত রয়েছে কাগজ আবিষ্কারে সে সভ্যতার অবদান ব্যাখ্যা করো।

    (3)
  4. ঘ)

    ২নং চিত্রটি প্রাচীন সভ্যতার একটি গুরুত্বপূর্ণ স্থান দখল করে আছে- বিশ্লেষণ করো।

    (4)

উত্তর ও ব্যাখ্যা

  1. ক)

    নতুন পাথরের যুগ বা নবোপলীয় যুগ হলো পাথর যুগের শেষ পর্যায়, যখন মানুষ উদ্যান কৃষি ও পশুপালনের মাধ্যমে স্থায়ী আবাস গড়ে তোলে।

  2. খ)

    সিন্ধু সভ্যতার অর্থনীতি ছিল মূলত কৃষিনির্ভর। সিন্ধু নদের উর্বর অববাহিকায় গম, যব ও তুলার চাষ হতো। পাশাপাশি পশুপালন ও শিল্পকাজও ছিল। তাদের ব্যবসা-বাণিজ্যও বেশ উন্নত ছিল। এ সভ্যতার মানুষ স্থলপথ ও জলপথে অন্যান্য অঞ্চলের সাথে বাণিজ্য করত।

  3. গ)

    ১নং চিত্রে পিরামিড দেখা যাচ্ছে, যা মিশরীয় সভ্যতার ইঙ্গিত দেয়। ফারাওদের মমি রক্ষার জন্য মিশরীয়রা পিরামিড তৈরি করেছিল।

    কাগজ আবিষ্কারে অবদান:
    ১. মিশরীয়রা নলখাগড়া জাতীয় গাছের কাণ্ড থেকে কাগজ বানাতে শিখেছিল।
    ২. সেই কাগজের ওপর তারা লিখত।
    ৩. গ্রিকরা এই কাগজের নাম দেয় 'প্যাপিরাস'। এই শব্দ থেকেই ইংরেজি 'পেপার' শব্দের উৎপত্তি।

    এভাবে মিশরীয়রাই কাগজের আদি রূপের আবিষ্কারক। এটি জ্ঞান ও তথ্য সংরক্ষণের ক্ষেত্রে বিশ্বসভ্যতায় তাদের বিশেষ অবদান।

  4. ঘ)

    ২নং চিত্রে মিশরীয় চিত্রাক্ষর লিপি (হায়ারোগ্লিফিক) দেখা যাচ্ছে। এটি প্রাচীন সভ্যতার একটি গুরুত্বপূর্ণ স্থান দখল করে আছে।

    ১. লিখনপদ্ধতির উদ্ভব: মিশরীয়রা ছবি এঁকে ভাব প্রকাশের মাধ্যমে লিখনপদ্ধতি গড়ে তোলে। এর নাম হায়ারোগ্লিফিক বা পবিত্র অক্ষর।
    ২. বর্ণমালা: পাঁচ হাজার বছর আগে তারা ২৪টি ব্যঞ্জনবর্ণের বর্ণমালা আবিষ্কার করে।
    ৩. কাগজ: নলখাগড়ার কাণ্ড থেকে তৈরি প্যাপিরাসে লেখার ফলে জ্ঞান সংরক্ষণ সহজ হয়।
    ৪. ইতিহাসের উৎস: রসেটা স্টোনে গ্রিক ও হায়ারোগ্লিফিক ভাষার লেখা ছিল; এর মাধ্যমে প্রাচীন মিশরের অনেক তথ্য জানা গেছে।

    সুতরাং, লিখন পদ্ধতির উদ্ভাবনের মাধ্যমে চিত্রাক্ষর লিপি প্রাচীন সভ্যতার ইতিহাসে বিশেষ স্থান দখল করে আছে।

আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও

সম্পর্কিত প্রশ্ন