কৃষিশিক্ষা • Cumilla Board • কুমিল্লা বোর্ড ২০২৩

কৃষিশিক্ষা প্রশ্ন

রাজু একজন শিক্ষিত কৃষক। চাকুরি না করে গ্রামে তার নিজস্ব জমিতে ফসল ও পুকুরে মাছ চাষ করে স্বাবলম্বী হন। বর্তমান প্রেক্ষাপটে সার, কৃষিবীজ, পশুপাখির খাদ্য, মৎস্য খাদ্যের মূল্য আকাশচুম্বী। তিনি কৃষি কর্মকর্তার পরামর্শে নিজেই বীজ ও পশুখাদ্য সংরক্ষণ এবং প্রাকৃতিক সার তৈরি করেন।

  1. ক)

    বীজ সংরক্ষণ কাকে বলে?

    (1)
  2. খ)

    উৎসের উপর ভিত্তি করে মাছের সম্পূরক খাদ্যকে কয় ভাগে ভাগ করা যায়? ব্যাখ্যা করো।

    (2)
  3. গ)

    উদ্দীপকের আলোকে বীজ সংরক্ষণের গুরুত্ব বর্ণনা করো।

    (3)
  4. ঘ)

    কৃষি কর্মকর্তার পরামর্শে রাজু যে সব পদক্ষেপ গ্রহণ করেছেন তার যথার্থতা মূল্যায়ন করো।

    (4)

উত্তর ও ব্যাখ্যা

  1. ক)

    পরবর্তী মৌসুমে বপনের জন্য বীজের অঙ্কুরোদগম ক্ষমতা ও সজীবতা বজায় রেখে নিরাপদে মজুত রাখাকে বীজ সংরক্ষণ বলে।

  2. খ)

    উৎসের উপর ভিত্তি করে মাছের সম্পূরক খাদ্যকে দুই ভাগে ভাগ করা যায়।
    ১. উদ্ভিজ্জ খাদ্য: উদ্ভিদ থেকে পাওয়া খাদ্য, যেমন খৈল, চালের কুঁড়া, গমের ভুসি, ডালের ভুসি।
    ২. প্রাণিজ খাদ্য: প্রাণী থেকে পাওয়া খাদ্য, যেমন মাছের গুঁড়া, শুঁটকি মাছের গুঁড়া, ঝিনুক বা শামুকের মাংস, কেঁচো।
    উদ্ভিজ্জ খাদ্যে শর্করা বেশি এবং প্রাণিজ খাদ্যে আমিষ বেশি থাকে।

  3. গ)

    রাজু নিজেই বীজ সংরক্ষণ করেন, কারণ বাজারে কৃষিবীজের দাম আকাশচুম্বী। বীজ সংরক্ষণের গুরুত্ব নিচে দেওয়া হলো।
    ১. সময়মতো বীজ পাওয়া: পরবর্তী মৌসুমে বপনের সময় হাতের কাছে বীজ থাকে, ফলে বীজের সংকট হয় না।
    ২. খরচ কমে: বাজার থেকে বেশি দামে বীজ কিনতে হয় না, ফলে উৎপাদন খরচ কমে।
    ৩. ভালো মানের বীজ: নিজের পরীক্ষিত ও ভালো জাতের বীজ ব্যবহার করা যায়, ফলে ফলন ভালো হয়।
    এভাবে বীজ সংরক্ষণ রাজুর মতো কৃষককে স্বাবলম্বী হতে সাহায্য করে।

  4. ঘ)

    রাজু কৃষি কর্মকর্তার পরামর্শে বীজ ও পশুখাদ্য সংরক্ষণ এবং প্রাকৃতিক সার তৈরি করেছেন। উদ্দীপকে সার, বীজ, পশুপাখি ও মাছের খাদ্যের দাম অনেক বেশি হওয়ায় এই পদক্ষেপগুলো খুবই যথার্থ।
    ১. বীজ সংরক্ষণ: নিজের বীজ ব্যবহারে বাজার থেকে বীজ কেনার খরচ বাঁচে এবং সময়মতো বপন করা যায়।
    ২. পশুখাদ্য সংরক্ষণ: খড়, ঘাস ইত্যাদি সংরক্ষণ করলে অভাবের সময়ও পশুপাখিকে খাদ্য দেওয়া যায় এবং কেনা খাদ্যের উপর নির্ভরতা কমে।
    ৩. প্রাকৃতিক সার তৈরি: কম্পোস্ট বা গোবর সার ব্যবহারে রাসায়নিক সারের খরচ কমে, মাটির উর্বরতা ও জৈব পদার্থ বজায় থাকে এবং পরিবেশ ভালো থাকে।
    সুতরাং, রাজুর গৃহীত পদক্ষেপগুলো কৃষি খরচ কমিয়েছে, উৎপাদন টেকসই করেছে এবং তাকে স্বাবলম্বী হতে সাহায্য করেছে; তাই পদক্ষেপগুলো যথার্থ।

আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও

সম্পর্কিত প্রশ্ন