হিন্দু ধর্ম • Combined Board • সকল বোর্ড ২০১৭

হিন্দু ধর্ম প্রশ্ন

দাক্ষিণাত্যের কালাড়ি গ্রামে ৭৮৮ খ্রিষ্টাব্দে বিশিষ্টা দেবীর কোলে এক মহাপুরুষের জন্ম হয়। তাঁর ছিল অসাধারণ মেধা ও স্মৃতিশক্তি। তিনি ৩২ বছরের জীবনে অসাধারণ কিছু কাজ করে জগতের বুকে স্মরণীয় ও বরণীয় হয়ে আছেন। 'ব্রহ্ম সত্য, জগৎ মিথ্যা'- এ সত্যটি তিনি পালন করতেন। "জীব ও ব্রহ্মের মধ্যে কোনো পার্থক্য নেই- এ ছিল তাঁর জীবনের চরম সত্য।"ক. 'যত মত তত পথ' কথাটি কে বলেছেন?

  1. ক)

    যত মত তত পথ' কথাটি কে বলেছেন?

    (1)
  2. খ)

    কেন অবতারগণ পৃথিবীতে আসেন? বুঝিয়ে লিখ।

    (2)
  3. গ)

    উদ্দীপকের মহামানবের পাণ্ডিত্য পাঠ্যপুস্তকের আলোকে আলোচনা করো।

    (3)
  4. ঘ)

    জীব ও ব্রহ্মের মধ্যে কোনো পার্থক্য নেই- এ ছিল তাঁর জীবনের চরম সত্য"- কথাটি বিশ্লেষণ করো।

    (4)

উত্তর ও ব্যাখ্যা

  1. ক)

    শ্রীরামকৃষ্ণ পরমহংসদেব ‘যত মত তত পথ’ কথাটি বলেছেন।

  2. খ)

    পৃথিবীতে যখন অধর্ম বেড়ে যায়, দুষ্ট লোকেরা মানুষের ওপর অত্যাচার করে এবং শিষ্টদের জীবন দুর্বিষহ হয়ে ওঠে, তখন ভগবান বিষ্ণু অবতাররূপে আবির্ভূত হন। গীতায় শ্রীকৃষ্ণ বলেছেন, সাধুদের রক্ষা, দুষ্কৃতকারীদের বিনাশ ও ধর্মসংস্থাপনের জন্য তিনি যুগে যুগে আবির্ভূত হন। কাজ শেষ হলে তিনি স্বস্থানে ফিরে যান।

  3. গ)

    উদ্দীপকের মহামানব হলেন শ্রীশঙ্করাচার্য। কালাড়ি গ্রামে ৭৮৮ খ্রিষ্টাব্দে বিশিষ্টা দেবীর কোলে তাঁর জন্ম এবং মাত্র ৩২ বছর বয়সে তাঁর মৃত্যু হয়।

    শঙ্করের ছিল অসাধারণ মেধা ও স্মৃতিশক্তি। পাঁচ বছর বয়সে উপনয়নের পর তিনি গুরুগৃহে যান এবং মাত্র দুই বছরের মধ্যে বেদ, বেদান্ত, স্মৃতি, পুরাণ প্রভৃতি শাস্ত্রে পাণ্ডিত্য অর্জন করেন। সাত বছর বয়সে ফিরে এসে টোল খুলে ছাত্র পড়ানো শুরু করেন। তাঁর পাণ্ডিত্যে মুগ্ধ হয়ে কেরলের রাজা সহস্র স্বর্ণমুদ্রা দান করলেও তিনি তা দরিদ্রদের বিলিয়ে দেন।

    পরবর্তীকালে তিনি কুমারিল ভট্ট, মণ্ডন মিশ্র প্রভৃতি পণ্ডিতকে শাস্ত্রবিচারে পরাজিত করেন। ব্রহ্মসূত্রের ভাষ্য ও বেদান্তভাষ্য, মোহমুদ্গর, আনন্দলহরী, শিবস্তব প্রভৃতি গ্রন্থ রচনা করেন। উদ্দীপকের অসাধারণ মেধা ও স্মৃতিশক্তির বর্ণনা তাঁর পাণ্ডিত্যের পরিচয় বহন করে।

    সুতরাং, শঙ্করাচার্য ছিলেন অসাধারণ পণ্ডিত ও দার্শনিক।

  4. ঘ)

    “জীব ও ব্রহ্মের মধ্যে কোনো পার্থক্য নেই”—এটি শ্রীশঙ্করাচার্যের অদ্বৈতবাদের মূল কথা। তিনি বলেছেন, ‘ব্রহ্ম সত্য, জগৎ মিথ্যা’, জীব ও ব্রহ্ম অভিন্ন। তাঁর জীবনের চরম সত্য ছিল এটি। এর গুরুত্ব নিম্নরূপ।

    ১. ব্রহ্মই একমাত্র সত্য: জীবের মধ্যে আত্মারূপে ব্রহ্ম বা ঈশ্বর বিরাজ করেন। তাই জীব ব্রহ্ম ছাড়া অন্য কিছু নয় (জীবঃ ব্রহ্মৈব নাপরঃ)।
    ২. ধর্মীয় বিপর্যয় থেকে রক্ষা: শঙ্করের সময়ে জৈন ও বৌদ্ধ ধর্মে কুসংস্কার ঢুকেছিল এবং বেদের যাগযজ্ঞ বেড়ে গিয়েছিল। তিনি অদ্বৈতমত প্রচার করে হিন্দুধর্মের অতীত ঐতিহ্য ফিরিয়ে আনেন।
    ৩. জীবপ্রেম ও অহিংসা: জীব ও ব্রহ্মে ভেদ নেই—এ কথা বলে তিনি মানুষের প্রতি মানুষের এবং জীবের প্রতিও ভালোবাসা জাগিয়ে তোলেন। ফলে জীবহিংসা কমে যায়।
    ৪. প্রচার ও প্রতিষ্ঠান: তিনি এ মত প্রচারে সারা ভারত ঘুরে চার প্রান্তে চারটি মঠ (দ্বারকায় সারদা, পুরীতে গোবর্ধন, জ্যোতির্ধামে যোশী ও রামেশ্বরে শৃঙ্গেরি) স্থাপন করেন।

    সুতরাং, অদ্বৈতবাদের এ সত্য প্রচারের মাধ্যমে শঙ্করাচার্য ধর্মীয় ঐক্য ও জীবপ্রেম প্রতিষ্ঠা করেছিলেন।

আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও

সম্পর্কিত প্রশ্ন