কৃষিশিক্ষা • Mymensingh Board • ময়মনসিংহ বোর্ড ২০২২

কৃষিশিক্ষা প্রশ্ন

যুব উন্নয়ন অধিদপ্তর থেকে প্রশিক্ষণ নিয়ে রহিম মিয়া বেগুন চাষ করেন। জমি তৈরির সময় তিনি সঠিক মাত্রায় সার প্রয়োগ করেন । এছাড়া চারা লাগানোর পরবর্তী পর্যায়ে সঠিক ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে ফসল চাষ করার কারণে তিনি কাঙ্ক্ষিত ফলন পান। তার চাষকৃত ফসলের গুণগতমান ভালো হওয়ার কারণে তিনি আর্থিকভাবে লাভবান হন। এটা দেখে এলাকার অনেকেই বেগুন চাষে উৎসাহী হন এবং রহিম মিয়ার নিকট প্রয়োজনীয় পরামর্শ গ্রহন করেন ।

  1. ক)

    শিম চাষের জন্য কোন মাটি উত্তম?

    (1)
  2. খ)

    মাসকলাই এর পাতাসহ গাছ কেন সাদা জালিকার মত হয়? ব্যাখ্যা করো।

    (2)
  3. গ)

    গুণগতমানের ফলন পেতে রহিম মিয়া যে পদক্ষেপ গ্রহন করেন তা ব্যাখ্যা করো।

    (3)
  4. ঘ)

    রহিম মিয়ার কর্মকাণ্ড শুধু বেকারত্ব দূরীকরণ নয়, দেশের আর্থ-সামাজিক উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে— তোমার মতামত বিশ্লেষণ করো ।

    (4)

উত্তর ও ব্যাখ্যা

  1. ক)

    শিম চাষের জন্য সুনিষ্কাশিত দোআঁশ বা বেলে-দোআঁশ মাটি উত্তম।

  2. খ)

    মাসকলাইয়ের পাতা ও গাছ ছত্রাকজনিত রোগে আক্রান্ত হলে সাদা জালিকার মতো হয়ে যায়। রোগের জীবাণু পাতার ওপর সাদা গুঁড়ার মতো আবরণ বা সূক্ষ্ম জালের মতো স্তর তৈরি করে। এতে পাতার সালোকসংশ্লেষণ বাধাগ্রস্ত হয়, গাছ দুর্বল হয়ে যায় এবং ফলন কমে। এটি পাউডারি মিলডিউ রোগের লক্ষণ।

  3. গ)

    রহিম মিয়া গুণগত মানের বেগুন পেতে যেসব পদক্ষেপ নিয়েছেন—

    ১. প্রশিক্ষণ: যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের প্রশিক্ষণ থেকে আধুনিক চাষ পদ্ধতি শিখেছেন।
    ২. জমি তৈরি ও সার: জমি ভালোভাবে তৈরি করে সঠিক মাত্রায় সার দিয়েছেন। ফলে মাটি উর্বর হয়েছে এবং গাছ সুস্থভাবে বেড়েছে।
    ৩. চারা রোপণের পরবর্তী ব্যবস্থাপনা: সেচ, আগাছা দমন, উপরি সার প্রয়োগ এবং রোগ-পোকার দমন করেছেন। এতে ফল স্বাস্থ্যকর ও আকর্ষণীয় হয়েছে।

    এসব পদক্ষেপের ফলে তাঁর বেগুনের গুণগত মান ভালো হয়েছে।

  4. ঘ)

    রহিম মিয়ার কর্মকাণ্ড শুধু নিজের বেকারত্ব দূর করেনি, দেশের আর্থ-সামাজিক উন্নয়নেও ভূমিকা রাখবে। এই মতের সপক্ষে যুক্তি—

    ১. আত্মকর্মসংস্থান: প্রশিক্ষণ নিয়ে নিজে উদ্যোক্তা হয়ে বেকারত্ব দূর করেছেন।
    ২. অনুপ্রেরণা: তাঁর সাফল্য দেখে এলাকার অনেকে বেগুন চাষে এগিয়ে এসেছে। এতে আরও কর্মসংস্থান তৈরি হচ্ছে।
    ৩. উৎপাদন ও পুষ্টি: সবজির উৎপাদন বাড়লে খাদ্য ও পুষ্টির চাহিদা পূরণ হয়।
    ৪. আয় ও অর্থনীতি: কৃষকের আয় বাড়ে, গ্রামীণ অর্থনীতি সচল হয় এবং জাতীয় আয়ে অবদান রাখে।
    ৫. জ্ঞান বিস্তার: তিনি অন্যদের পরামর্শ দিয়ে প্রযুক্তি ছড়িয়ে দিচ্ছেন।

    সুতরাং, রহিম মিয়ার কাজ ব্যক্তি, সমাজ ও দেশের উন্নয়নে সহায়ক।

আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও

সম্পর্কিত প্রশ্ন