ভূগোল এবং পরিবেশ • Barishal Board • বরিশাল বোর্ড ২০২৪

ভূগোল এবং পরিবেশ প্রশ্ন

দৃশ্যকল্প-১: উপকূলীয় এলাকার বাসিন্দা সোহাগ একদিন বিকেলে রেডিওতে দুর্যোগের পূর্বাভাস শুনতে পায়। কিছুক্ষণ পরেই তার এলাকার লোকজনকে নিরাপদ স্থানে সরে যেতে মাইকিং করা হয়।দৃশ্যকল্প-২: ২০২৩ সালের ফেব্রুয়ারিতে তুরস্ক ও সিরিয়ার সীমান্তবর্তী এলাকায় একটি আকস্মিক প্রাকৃতিক দুর্যোগে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়। মহাসড়কে বড় রকমের ফাটল সৃষ্টি হয়।

  1. ক)

    খরা কাকে বলে?

    (1)
  2. খ)

    দুর্যোগ ব‍্যবস্থাপনার একটি উদ্দেশ্য ব্যাখ্যা করো।

    (2)
  3. গ)

    দৃশ্যকল্প-১ এ বর্ণিত দুর্যোগের ক্ষতিকর প্রভাব বর্ণনা করো।

    (3)
  4. ঘ)

    দৃশ্যকল্প-১ ও ২ এ বর্ণিত দুর্যোগের পূর্বপ্রস্তুতির ক্ষেত্রে তোমার করণীয় বিশ্লেষণ করো।

    (4)

উত্তর ও ব্যাখ্যা

  1. ক)

    দীর্ঘ সময় ধরে বৃষ্টি না হওয়া বা অপর্যাপ্ত বৃষ্টির ফলে মাটির আর্দ্রতা কমে গিয়ে যে রুক্ষ অবস্থার সৃষ্টি হয়, তাকে খরা বলে।

  2. খ)

    দুর্যোগ ব্যবস্থাপনার একটি প্রধান উদ্দেশ্য হলো দুর্যোগের সময় জীবন, সম্পদ ও পরিবেশের যে ক্ষতি হয়, তা এড়ানো বা ক্ষতির পরিমাণ কমানো। এর জন্য আগে থেকে সতর্কীকরণ, নিরাপদ আশ্রয়কেন্দ্র ও সচেতনতা তৈরি করা হয়। যেমন, ঘূর্ণিঝড়ের আগে মাইকিং করে মানুষকে আশ্রয়কেন্দ্রে নেওয়া হলে প্রাণহানি অনেক কমে যায়। এভাবে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ক্ষয়ক্ষতি হ্রাসে সাহায্য করে।

  3. গ)

    দৃশ্যকল্প-১ এ বর্ণিত দুর্যোগটি ঘূর্ণিঝড়, কারণ উপকূলীয় এলাকায় রেডিওতে পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে এবং মানুষকে নিরাপদ স্থানে সরে যেতে বলা হয়েছে। ঘূর্ণিঝড়ের ক্ষতিকর প্রভাব:
    ১. জীবনহানি: প্রবল বাতাস ও জলোচ্ছ্বাসে বহু মানুষ ও গবাদিপশুর মৃত্যু হয়। ১৯৭০ সালের ঘূর্ণিঝড়ে প্রায় ৫,০০,০০০ মানুষ মারা যায়।
    ২. সম্পদের ক্ষতি: ঘরবাড়ি, রাস্তাঘাট, বাঁধ ও বিদ্যুৎ-যোগাযোগ ব্যবস্থা ধ্বংস হয়।
    ৩. কৃষির ক্ষতি: ফসলের মাঠ ও গাছপালা নষ্ট হয়, মাটিতে লবণাক্ততা বাড়ে।
    ৪. স্বাস্থ্য ও পানির সংকট: বিশুদ্ধ পানির উৎস দূষিত হয়ে রোগ ছড়ায়।
    ৫. ক্ষতিগ্রস্ত মানুষ গৃহহীন ও কর্মহীন হয়ে পড়ে।

  4. ঘ)

    দৃশ্যকল্প-১ এ ঘূর্ণিঝড় এবং দৃশ্যকল্প-২ এ ভূমিকম্পের বর্ণনা আছে। এ দুটি দুর্যোগের ক্ষয়ক্ষতি কমাতে পূর্বপ্রস্তুতি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। আমার করণীয় নিম্নরূপ:

    ঘূর্ণিঝড়ের ক্ষেত্রে:
    ১. আবহাওয়া অধিদপ্তরের পূর্বাভাস ও সতর্কসংকেত রেডিও, টিভি ও মাইকিংয়ে নিয়মিত শোনা এবং অন্যদের জানানো।
    ২. পরিবার ও প্রতিবেশীকে নিয়ে আশ্রয়কেন্দ্রে যাওয়ার পথ, শুকনো খাবার, খাবার পানি, ওষুধ ও জরুরি কাগজপত্র প্রস্তুত রাখা।
    ৩. বাড়ি মজবুত করা, বেড়িবাঁধ রক্ষায় সহযোগিতা করা এবং বৃক্ষরোপণ করা।

    ভূমিকম্পের ক্ষেত্রে:
    ১. ভবন নির্মাণে নিরাপদ নকশা ও মান মানা এবং ঝুঁকিপূর্ণ ভবন সংস্কার করা।
    ২. কম্পনের সময় করণীয় সম্পর্কে নিজে জানা এবং ড্রিল বা মহড়ায় অংশ নেওয়া। যেমন, শক্ত টেবিলের নিচে আশ্রয় নেওয়া।
    ৩. প্রাথমিক চিকিৎসা ও উদ্ধারের প্রশিক্ষণ নেওয়া।

    সুতরাং, আগে থেকে প্রস্তুতি থাকলে উভয় দুর্যোগেই জীবন ও সম্পদের ক্ষতি অনেকাংশে কমানো সম্ভব।

আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও

সম্পর্কিত প্রশ্ন