ইসলাম • Dinajpur Board • দিনাজপুর বোর্ড ২০২০
ইসলাম প্রশ্ন
আবদুল্লাপুর গ্রামের শিহাবউদ্দিন প্রচুর ধন-সম্পদের মালিক। বছর শেষে সম্পদের হিসাব করে নির্ধারিত হারে নির্দিষ্ট খাতে ব্যয় করলেন। তিনি মনে করেন, এ কাজটি হলো 'ইসলামের সেতুবন্ধন'। অন্যদিকে জনি সাহেব জোহরের নামায আদায়ের পর মসজিদে বসে ইমাম সাহেবের গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে আলোচনা শুনছিলেন। তিনি বললেন, মানুষ লোভ-লালসা, হিংসা-বিদ্বেষ, ক্রোধ-ক্ষোভের বশবর্তী হয়ে মন্দ কাজে প্রভাবিত হয়। এমন একটি ইবাদত আছে যার মাধ্যমে এই মন্দ কাজগুলো থেকে দূরে থাকা যায়। আমাদের নিয়মিত সে ইবাদত পালন করা উচিত।
- ক)(1)
'জিহাদে কাবির' কাকে বলে?
- খ)(2)
'ইলম' অন্বেষণ করা প্রত্যেক মুসলমানের ওপর ফরজ কেন? ব্যাখ্যা করো।
- গ)(3)
শিহাবউদ্দিনের কাজটি কী হিসেবে গণ্য? ব্যাখ্যা করো।
- ঘ)(4)
ইমাম সাহেবের বক্তব্যে যে ইবাদতের প্রতি ইঙ্গিত করা হয়েছে তা ডিঙ্গিতপূর্বক সামাজিক গুরুত্ব বিশ্লেষণ করো।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
যে জ্ঞান অর্জন করা, জিহাদ করার মতো কঠোর সাধনা ও বড় ত্যাগের দাবি রাখে, সেই সংগ্রামকে জিহাদে কাবির বলে। এর মাধ্যমে কুরআনের জ্ঞান ও যুক্তি দিয়ে ইসলামের বিরুদ্ধে অপপ্রচারের মোকাবিলা করা হয়।
- খ)
ইলম ছাড়া মানুষ আল্লাহকে চিনতে, তাঁর আদেশ-নিষেধ জানতে ও সঠিকভাবে ইবাদত করতে পারে না। সালাত, সাওম, যাকাত ও হজের নিয়ম জানতে ইলম প্রয়োজন। হালাল-হারাম ও ভালো-মন্দের পার্থক্যও ইলমের মাধ্যমেই বোঝা যায়। তাই রাসুল (স) বলেছেন, ইলম অন্বেষণ করা প্রত্যেক মুসলিমের ওপর ফরজ। এই পরিমাণ ইলম অর্জন না করলে ফরজ আমল সঠিকভাবে আদায় করা সম্ভব নয়।
- গ)
শিহাবউদ্দিনের কাজটি যাকাত, যা একটি ফরজ ইবাদত হিসেবে গণ্য।
তিনি প্রচুর সম্পদের মালিক হয়ে বছর শেষে হিসাব করে নির্ধারিত হারে নির্দিষ্ট খাতে ব্যয় করেছেন। এটিই যাকাতের বৈশিষ্ট্য। যাকাত ইসলামের পাঁচ স্তম্ভের তৃতীয়টি। নিসাব পরিমাণ সম্পদের মালিক হয়ে এক বছর পূর্ণ হলে ধনী মুসলিমের ওপর এটি আদায় করা ফরজ। কুরআনে বহু স্থানে সালাতের সাথে যাকাতের নির্দেশ এসেছে। এটি আর্থিক ইবাদত হওয়ায় ধনী ও গরিবের মধ্যে সেতুবন্ধন রচনা করে। তাই শিহাবউদ্দিন একে 'ইসলামের সেতুবন্ধন' বলেছেন।
- ঘ)
ইমাম সাহেবের বক্তব্যে সালাত ইবাদতের প্রতি ইঙ্গিত করা হয়েছে। আল্লাহ বলেন, নিশ্চয়ই সালাত অশ্লীল ও মন্দ কাজ থেকে বিরত রাখে (সূরা আনকাবুত, ৪৫)। লোভ-হিংসা-ক্রোধের বশে মন্দ কাজ থেকে বিরত রাখার বৈশিষ্ট্য সালাতেরই।
সামাজিক গুরুত্ব:
১. সাম্য ও ভ্রাতৃত্ব: জামাআতে ধনী-গরিব একই কাতারে দাঁড়ায়। এতে ভেদাভেদ দূর হয় এবং ভ্রাতৃত্ব বাড়ে।
২. শৃঙ্খলা ও সময়ানুবর্তিতা: ইমামের অনুসরণ ও নির্দিষ্ট সময়ে সালাত আদায় মানুষকে নিয়মানুবর্তী ও নেতৃত্বের প্রতি অনুগত করে।
৩. নৈতিক উন্নয়ন: সালাত মানুষকে অন্যায় ও অশ্লীলতা থেকে দূরে রাখে। ফলে সমাজে শান্তি ও নিরাপত্তা বজায় থাকে।সুতরাং, সালাত ব্যক্তিগত ইবাদত হলেও এটি একটি সুশৃঙ্খল, নৈতিক ও সৌহার্দ্যপূর্ণ সমাজ গঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও