বাংলা ১ম পত্র • Combined Board • সমন্বিত বোর্ড ২০২৬ (অনিয়মিত)
বাংলা ১ম পত্র প্রশ্ন
উজান কলেজপড়ুয়া ছাত্র। সে মানবিক, অসহায় মানুষকে ভালোবাসে এবং বুকে টেনে নেয়। এদিকে মহাজন যারেতারে ঠকায়, নির্যাতন করে, কিন্তু উজানকে ঠিকমতো হিসাব বুঝিয়ে না দিলে উজান প্রতিবাদে ফেটে পড়ে। এই ভয়ে মহাজন তটস্থ থাকে। এক রাতে প্রতিবেশীর বাসায় ডাকাত পড়লে প্রতিবেশী চিৎকার করতে থাকে। চিৎকার শোনামাত্র উজান একাই কৌশলে ডাকাতদের বন্দী করে ফেলে। সে বলে, অন্যায় যেখানে প্রতিবাদ সেখানে। এতে জীবন যাক আর থাক। কোনো আপস নয়।
- ক)(1)
'নিশাবসান' অর্থ কী?
- খ)(2)
"আমি আপনারে ছাড়া করি না কাহারে কুর্নিশ"—ব্যাখ্যা কর।
- গ)(3)
উদ্দীপকে 'বিদ্রোহী' কবিতার যে দিকটি ফুটে উঠেছে তা তুলে ধর।
- ঘ)(4)
"উদ্দীপকের উজান যেন 'বিদ্রোহী' কবিতার কবির মানস প্রতিনিধি"—মন্তব্যটির যৌক্তিকতা মূল্যায়ন কর।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
'নিশাবসান' অর্থ হলো রাতের অবসান বা রাত্রি শেষ।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
"আমি আপনারে ছাড়া করি না কাহারে কুর্নিশ" কথাটি দিয়ে কবি কাজী নজরুল ইসলাম তাঁর নিজের সত্যান্বেষী অন্তরাত্মা ব্যতীত কোনো অন্যায় শক্তি বা বাহ্যিক ক্ষমতার কাছে মাথা নত না করার আত্মমর্যাদাবোধকে প্রকাশ করেছেন।
কাজী নজরুল ইসলামের 'বিদ্রোহী' কবিতায় কবির চরম আত্মবিশ্বাস ও স্বাধীনচেতা মনোভাব ফুটে উঠেছে। কবি কোনো রাজশক্তি, মিথ্যা সংস্কার কিংবা শোষকের রক্তচক্ষুকে পরোয়া করেন না। তিনি কেবল নিজের সত্যনিষ্ঠ বিবেক ও আত্মার নির্দেশকেই চূড়ান্ত বলে মানেন। নিজের সেই অনমনীয় অহংকার ও আপসহীন ব্যক্তিত্ব তুলে ধরতেই কবি এই উক্তিটি করেছেন।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকে 'বিদ্রোহী' কবিতার অন্যায়-অবিচারের বিরুদ্ধে আপসহীন প্রতিবাদ ও অনমনীয় দৃঢ়তার দিকটি ফুটে উঠেছে।
'বিদ্রোহী' কবিতায় কবি কাজী নজরুল ইসলাম সমাজে বিরাজমান শোষণ, বঞ্চনা ও নিপীড়নের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়িয়েছেন। কবি নিজেকে উৎপীড়িতের ক্রন্দন-রোল প্রশমিত করার শক্তি এবং অত্যাচারীর খড়্গ-কৃপাণকে স্তব্ধ করে দেওয়ার অদম্য বিদ্রোহী সত্তা হিসেবে ঘোষণা করেছেন। কবি কোনো অন্যায়ের কাছে মাথানত না করে চির-উন্নত শিরে প্রতিরোধ গড়ে তুলেছেন।
উদ্দীপকের উজান কলেজপড়ুয়া মানবিক তরুণ হলেও যেখানেই মহাজনের প্রতারণা বা অন্যায্য শোষণ দেখেছে, সেখানেই সশব্দে প্রতিবাদে ফেটে পড়েছে। এমনকি প্রতিবেশীর বাড়িতে ডাকাত পড়লে সে নিজের জীবনের তোয়াক্কা না করে একাই ডাকাতদের রুখে দিয়েছে এবং স্পষ্ট জানিয়েছে অন্যায়ের বিরুদ্ধে তার অবস্থান আপসহীন। অন্যায়ের বিরুদ্ধে এই যে নির্ভীক সংগ্রাম ও প্রতিবাদী রূপ, তা 'বিদ্রোহী' কবিতার মূল চেতনার প্রতিফলন ঘটায়।
- ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
"উদ্দীপকের উজান যেন 'বিদ্রোহী' কবিতার কবির মানস প্রতিনিধি"—মন্তব্যটি সম্পূর্ণরূপে যথার্থ ও যুক্তিযুক্ত।
'বিদ্রোহী' কবিতায় কবি কাজী নজরুল ইসলাম একাধারে মানবিক, প্রেমময় এবং অন্যদিকে অন্যায় ও শোষণের বিরুদ্ধে সংহারক মূর্তিতে আবির্ভূত হয়েছেন। একদিকে কবি অসহায় ও নিপীড়িতের প্রতি পরম সহমর্মী, অন্যদিকে তিনি মহাজাগতিক ধ্বংসকারী রূপে অত্যাচারী শাসকের ভিত কাঁপিয়ে দেন। কবির মূল দর্শন হলো—অন্যায়কে কখনো প্রশ্রয় না দেওয়া এবং নিজের জীবন বাজি রেখেও সত্য ও ন্যায়ের প্রতিষ্ঠা করা।
উদ্দীপকের চরিত্র উজানের মধ্যেও কবির এই দ্বৈত মানসরূপের প্রতিফলন ঘটেছে। উজান একদিকে সংবেদনশীল ও মানবিক হৃদয়ের অধিকারী, যে অসহায় মানুষদের ভালোবেসে বুকে টেনে নেয়। অন্যদিকে মহাজনের কারসাজি ও শোষণের বিরুদ্ধে সে চরম প্রতিরোধ গড়ে তোলে, যার ভয়ে মহাজন তটস্থ থাকে। এমনকি প্রতিবেশীকে রক্ষার্থে ডাকাতদের একাই বন্দী করে সে তার বীরত্ব ও অন্যায়ের বিরুদ্ধে আপসহীন অবস্থানের প্রমাণ দেয়। উজানের বক্তব্য—"অন্যায় যেখানে প্রতিবাদ সেখানে। এতে জীবন যাক আর থাক। কোনো আপস নয়"—সরাসরি নজরুলের বিদ্রোহী সত্তারই প্রতিফলন।
কবির বিদ্রোহী আদর্শ যেমন মানবতার জয়গান গেয়ে অন্যায়-অত্যাচারকে সমূলে বিনাশ করতে চায়, উজানের কর্মকাণ্ড ও চেতনাও ঠিক একই লক্ষ্য নির্দেশ করে। তাই নিঃসংশয়ে বলা যায়, উজান 'বিদ্রোহী' কবিতার কবির প্রতিবাদী ও মানবিক মানস চেতনারই এক মূর্ত প্রতিনিধি।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও