হিন্দু ধর্ম • Chattogram Board • চট্টগ্রাম বোর্ড ২০২০
হিন্দু ধর্ম প্রশ্ন
মনোজ বাবু চাকুরী জীবন শেষ করে জনসেবামূলক কাজে মনোনিবেশ করেন। তিনি সারা দেশ ঘুরে দেখতে পান মানুষের দুঃখ-দুর্দশা এবং শিক্ষা ও মেয়েদের কর্মজীবনে পিছিয়ে পড়ার চিত্র। মেয়েরা যাতে সমাজে মাথা উঁচু করে দাঁড়াতে পারে সেই চেষ্টাই করেন। অপরদিকে শিমুল ছিল মেধাবী ছাত্র। হঠাৎ একদিন এক সন্ন্যাসী বাড়িতে এসে হাজির। শিমুলের মায়ের ইচ্ছায় হাত গণনা করে শিমুল জানতে পারে তার আয়ু বেশি দিন নাই। একথা শুনে শিমুল বাকি জীবন ব্রহ্ম সাধনা করে কাটানোর সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে।
- ক)(1)
পূর্ণাবতার কাকে বলে?
- খ)(2)
কীভাবে কুবেরের নাম নিত্যানন্দ হলো তা ব্যাখ্যা করো।
- গ)(3)
মনোজ বাবুর কর্মকান্ডের সাথে পাঠ্যপুস্তকের কোন চরিত্রের মিল পাওয়া যায় তা ব্যাখ্যা করো।
- ঘ)(4)
উদ্দীপকের শিমুলের মধ্যে যে মহাপুরুষের আদর্শ লুকায়িত আছে তাঁর ধর্মীয় শিক্ষার গুরুত্ব বিশ্লেষণ করো।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
ভগবান যখন পূর্ণরূপে অবতরণ করেন এবং তাঁর সমস্ত শক্তি ও গুণ প্রকাশ পায়, তখন তাঁকে পূর্ণাবতার বলে।
- খ)
নিত্যানন্দের প্রকৃত নাম ছিল কুবের। তিনি বৃন্দাবনে স্বপ্নে শ্রীকৃষ্ণের আদেশ পান নবদ্বীপে নিমাই পণ্ডিতের সঙ্গে যোগ দিতে। কুবের নবদ্বীপে নন্দন আচার্যের গৃহে নিমাই পণ্ডিতের (শ্রীচৈতন্য বা গৌরাঙ্গ) সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন। দুজন দুজনকে চিনতে পারেন এবং মনে হয় তাঁরা যেন জীবোদ্ধারের জন্য দুই দেহে এসেছেন। সেদিন থেকে কুবেরের নতুন নাম হলো নিত্যানন্দ, সংক্ষেপে নিতাই।
- গ)
মনোজ বাবুর কর্মকাণ্ডের সঙ্গে পাঠ্যপুস্তকের শ্রীমার চরিত্রের মিল পাওয়া যায়।
১. মনোজ বাবু চাকরি জীবন শেষে জনসেবায় নিজেকে নিয়োজিত করেন। শ্রীমাও আজীবন কামনাহীন কর্ম করে পরের মঙ্গলের জন্য কাজ করেছেন।
২. মনোজ বাবু শিক্ষা ও নারীর অগ্রগতির জন্য কাজ করেন। শ্রীমা অরবিন্দ আশ্রমে পাঠশালা খুলেছিলেন, যা পরে বিদ্যালয় ও 'আন্তর্জাতিক শিক্ষা কেন্দ্র' নামের বিশ্ববিদ্যালয়ে পরিণত হয়।
৩. শ্রীমা আশ্রমে হাসপাতাল স্থাপন করে বিনামূল্যে চিকিৎসা সেবা দিয়েছেন। তিনি শিক্ষা ও সেবাকে জীবনের ব্রত হিসেবে গ্রহণ করেছিলেন।অতএব, মনোজ বাবুর কর্মকাণ্ডের সঙ্গে শ্রীমার জীবনাদর্শের মিল আছে।
- ঘ)
শিমুল হাত গণনায় জানতে পারে তার আয়ু কম, তাই সে বাকি জীবন ব্রহ্ম সাধনায় কাটানোর সিদ্ধান্ত নেয়। এতে শ্রীশঙ্করাচার্যের আদর্শ লুকিয়ে আছে। কারণ পণ্ডিতেরা শঙ্করের কোষ্ঠী দেখে বলেছিলেন তাঁর আয়ু অল্প। তখন তিনি ব্রহ্ম-সাধনায় বাকি জীবন কাটানোর সিদ্ধান্ত নিয়ে সন্ন্যাস নেন। শঙ্করাচার্যের ধর্মীয় শিক্ষার গুরুত্ব—
১. অদ্বৈতবাদ: তিনি শিখিয়েছেন 'ব্রহ্ম সত্য, জগৎ মিথ্যা। জীব ও ব্রহ্মে কোনো পার্থক্য নেই।' এতে মানুষের প্রতি মানুষের এবং জীবের প্রতিও ভালোবাসা জাগে, ফলে জীবহিংসা কমে।
২. ধর্মের পুনঃপ্রতিষ্ঠা: তাঁর সময় বৌদ্ধ ও জৈন ধর্মে কুসংস্কার ঢুকেছিল এবং যাগযজ্ঞের প্রাধান্য বেড়েছিল। তিনি অদ্বৈতমত প্রচার করে হিন্দুধর্মের ঐতিহ্য ফিরিয়ে আনেন।
৩. সংগঠন ও সাহিত্য: ভারতের চার প্রান্তে চারটি মঠ প্রতিষ্ঠা করে সন্ন্যাসীদের ঐক্যবদ্ধ করেন। ব্রহ্মসূত্র ও বেদান্তভাষ্য এবং মোহমুদ্গর, আনন্দলহরী প্রভৃতি রচনা করেন।
৪. মাতৃভক্তি: মায়ের অন্তিম শয্যায় উপস্থিত থেকে তিনি কর্তব্যপরায়ণতার উদাহরণ দেখিয়েছেন।সুতরাং, শঙ্করাচার্যের শিক্ষা মানুষকে জ্ঞান, ঐক্য, জীবপ্রেম ও আদর্শ জীবনের পথ দেখায়।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও