হিন্দু ধর্ম • Combined Board • সকল বোর্ড ২০১৮
হিন্দু ধর্ম প্রশ্ন
শিলারাণী একজন ধর্মপরায়ণা রমনী। তিনি ভিক্ষুকদের কখনও শূন্য হাতে ফেরান না। ক্ষুধার্ত অভাবতাড়িত মানুষ দেখলেই তার মন-প্রাণ কেঁদে ওঠে। মানুষের প্রতি মানুষের এই ভালোবাসা বা মমত্ববোধই মানবতা। এই মানবতাবোধই নীতি শিক্ষা ও ধর্ম শিক্ষার অঙ্গ।
- ক)(1)
রন্তিবর্মা কত দিন অনাহারে ছিলেন?
- খ)(2)
অযাচক বৃত্তি কী? ব্যাখ্যা করো।
- গ)(3)
শিলারাণীর মধ্যে রন্তিবর্মার কোন গুণের প্রকাশ ঘটেছে? ব্যাখ্যা করো।
- ঘ)(4)
'নীতি শিক্ষা ধর্ম শিক্ষার অঙ্গ'- বক্তব্যটি যথাযথ মূল্যায়ন করো।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
রন্তিবর্মা আটচল্লিশ দিন অনাহারে ছিলেন।
- খ)
অযাচক বৃত্তি হলো এমন জীবনযাপন পদ্ধতি, যেখানে কারও কাছে কিছু চাওয়া যায় না। লোকে ইচ্ছা করে বা দয়া করে যা দেয়, তা দিয়েই দিন কাটাতে হয়। রাজা রন্তিবর্মা শ্রীকৃষ্ণে সব সমর্পণ করে এই বৃত্তি গ্রহণ করেছিলেন। ফলে আটচল্লিশ দিন কেউ তাঁকে কিছু না দেওয়ায় তিনি অনাহারে ছিলেন। ঊনপঞ্চাশতম দিনে পাওয়া খাবারও তিনি ক্ষুধার্ত ভিক্ষুক ও তার কুকুরকে দিয়ে দেন।
- গ)
শিলারাণীর মধ্যে রন্তিবর্মার মানবতার গুণ প্রকাশ পেয়েছে।
মানবতার ধারণা: মানুষের প্রতি মানুষের ভালোবাসা বা মমত্ববোধই মানবতা। ক্ষুধা, তৃষ্ণা, ক্রোধ, লোভ ইত্যাদি সহজাত প্রবৃত্তি পশুরও আছে; মানবতার গুণই মানুষকে অন্য জীব থেকে শ্রেষ্ঠ করেছে। নিরন্নকে অন্ন, বস্ত্রহীনকে বস্ত্র, তৃষ্ণার্তকে জল, ভয়ার্তকে অভয় ও শোকার্তকে সান্ত্বনা দান মানবতারই আরেক নাম। জীবসেবাও মানবতার অঙ্গ।
রন্তিবর্মার মানবতা: রাজা রন্তিবর্মা শ্রীকৃষ্ণে সব সমর্পণ করে অযাচক বৃত্তি গ্রহণ করেছিলেন। আটচল্লিশ দিন অনাহারের পর ঊনপঞ্চাশতম দিনে তিনি কিছু খাবার পান। তখনই ক্ষুধার্ত এক ভিক্ষুক ও তার কুকুর এসে উপস্থিত হয়। রাজা নিজের খাবার সবটুকুই তাদের দিয়ে দেন। নিজের প্রাণ ওষ্ঠাগত হলেও তিনি অপরের দুঃখে সাড়া দিয়েছেন।
উদ্দীপকের সঙ্গে সম্পর্ক: শিলারাণী ভিক্ষুকদের কখনো শূন্য হাতে ফেরান না। ক্ষুধার্ত অভাবতাড়িত মানুষ দেখলে তাঁর মন-প্রাণ কেঁদে ওঠে। এটি রন্তিবর্মার ক্ষুধার্তকে অন্নদানের মতোই মমত্ববোধ ও জীবসেবার প্রকাশ।
অতএব, শিলারাণীর মধ্যে রন্তিবর্মার মানবতার গুণই প্রকাশ পেয়েছে।
- ঘ)
'নীতি শিক্ষা ধর্ম শিক্ষার অঙ্গ'—বক্তব্যটি সম্পূর্ণ যথার্থ। নীতি ও ধর্ম একে অপরের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে যুক্ত; নৈতিকতা ছাড়া ধর্মাচরণ অর্থহীন।
নৈতিক মূল্যবোধ ও ধর্মের ধারণা: কোনটি ভালো বা কল্যাণকর আর কোনটি মন্দ বা অকল্যাণকর, তা বিচারের বোধ বা বিবেচনা শক্তিকে নৈতিক মূল্যবোধ বলে। ভালো কাজ করা ধর্ম, মন্দ কাজ করা অধর্ম।
১. নীতি বিচারের মানদণ্ড, ধর্ম তার সিদ্ধান্ত: নৈতিক মূল্যবোধ হলো বিচারের মানদণ্ড আর ধর্ম হলো সেই বিচারের সিদ্ধান্ত বা ফল। যেমন পরের দ্রব্য অপহরণ নৈতিক বিচারে অন্যায়, ধর্মের দৃষ্টিতেও অধর্ম; এতে পাপ হয়। নৈতিক মূল্যবোধ ও ধর্মীয় অনুশাসন উভয়ই বলে, 'রাগ করবে না'।
২. ধর্মের লক্ষণে নীতির প্রকাশ: ধৃতি, ক্ষমা, দম, অস্তেয়, শৌচ, ইন্দ্রিয়-নিগ্রহ, সত্য, ধী, বিদ্যা ও অক্রোধ—ধর্মের এই দশ লক্ষণ মূলত নৈতিক গুণ। যাঁর মধ্যে এগুলো আছে, তিনিই ধার্মিক। নৈতিকতা ধার্মিকের গুণ; যাঁর নৈতিকতা নেই, তিনি অধার্মিক।
৩. মানবতা নীতি ও ধর্ম উভয়েরই অঙ্গ: শিলারাণী ভিক্ষুককে শূন্য হাতে ফেরান না, ক্ষুধার্তের জন্য তাঁর মন কেঁদে ওঠে—এই মানবতাবোধ নীতিশিক্ষারও অঙ্গ, ধর্মশিক্ষারও অঙ্গ। রন্তিবর্মা নিজের অনাহার সত্ত্বেও ভিক্ষুককে খাবার দিয়েছিলেন—এ উপাখ্যান ধর্মগ্রন্থের মাধ্যমে মানুষকে নৈতিক শিক্ষাই দেয়।
৪. ধর্মগ্রন্থের উপাখ্যানে নৈতিক শিক্ষা: ধর্মগ্রন্থে নানা উপাখ্যানের মাধ্যমে মানুষকে সৎপথে ও ন্যায়ের পথে চলার উপদেশ দেওয়া হয়েছে। এর ফলে মানবজীবনে নৈতিক মূল্যবোধ সৃষ্টি হয়, সমাজে হিংসা-দ্বেষ ও হানাহানি কমে এবং শান্তি আসে।
অতএব, নীতি শিক্ষা ছাড়া ধর্ম শিক্ষা পূর্ণতা পায় না। বক্তব্যটি তাই যথার্থ।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও