গার্হস্থ্য বিজ্ঞান • Jashore Board • যশোর বোর্ড ২০২৪
গার্হস্থ্য বিজ্ঞান প্রশ্ন
১৬ বছরের মেয়ে রিমা। লেখাপড়ায় বেশ ভালো। বাবা মায়ের অনেক স্বপ্ন তাকে নিয়ে। তাদের আশা এস.এস.সি তে রিমা বড় ধরনের সফলতা নিয়ে আসবে। তবে আজকাল রিমার আচরণে অনেক পরিবর্তন এসেছে। তাকে বেশ দুশ্চিন্তাগ্রস্ত দেখায় এবং প্রায়ই অসুস্থ থাকে। রিমার ছোট ভাই রাহাতের বয়স ১৪ বছর। সে মায়ের অনেক আদরের। তার কোনো আবদার মা ফেলেন না। সে স্কুলে অমনোযোগী এবং বাইরে বন্ধুদের সাথে বেশি সময় কাটায়।
- ক)(1)
কৈশোরকাল কাকে বলে?
- খ)(2)
মনোসামাজিক সমস্যা বলতে কী বোঝ?
- গ)(3)
উদ্দীপকে রিমার আচরণে যে সমস্যা প্রকাশ পেয়েছে তার কারণ এবং উত্তরণের উপায়সমূহ বিশ্লেষণ করো।
- ঘ)(4)
উদ্দীপকে রাহাতের আচরণ নিয়ন্ত্রণে বাবা-মা কী কী পদক্ষেপ নিতে পারেন বলে তুমি মনে করো? মতামত দাও।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
শৈশব ও প্রাপ্তবয়স্ক জীবনের মধ্যবর্তী যে পরিবর্তনশীল সময়, যা সাধারণত ১০ থেকে ১৯ বছর বয়স পর্যন্ত বিস্তৃত, তাকে কৈশোরকাল বলে।
- খ)
ব্যক্তির মানসিক ও সামাজিক পরিবেশের পারস্পরিক প্রভাবে যে সমস্যা তৈরি হয় এবং যা তার চিন্তা, অনুভূতি ও আচরণকে প্রভাবিত করে, তাকে মনোসামাজিক সমস্যা (Psychosocial Problem) বলে। কিশোর-কিশোরীরা শারীরিক পরিবর্তনের পাশাপাশি পরিবার, বন্ধুবান্ধব ও সমাজের প্রত্যাশার চাপে পড়ে। ফলে দুশ্চিন্তা, বিষণ্ণতা, আবেগীয় অস্থিরতা, আচরণগত সমস্যা ও মাদকাসক্তির মতো সমস্যা দেখা দিতে পারে।
- গ)
উদ্দীপকের ১৬ বছরের রিমার মধ্যে মানসিক চাপ ও দুশ্চিন্তা (Stress and Anxiety) জনিত সমস্যা প্রকাশ পেয়েছে। কৈশোরকালের এই সমস্যা শারীরিক অসুস্থতারও কারণ হতে পারে।
কারণ:
১. এসএসসিতে বড় সফলতার জন্য বাবা-মায়ের উচ্চ প্রত্যাশা এবং তা পূরণ করতে না পারার ভয়।
২. পরীক্ষার চাপ ও পড়ার ভার।
৩. কৈশোরকালীন শারীরিক ও মানসিক পরিবর্তনের সাথে মানিয়ে নিতে না পারা।উত্তরণের উপায়:
১. বাবা-মা সন্তানের সামর্থ্য অনুযায়ী প্রত্যাশা নির্ধারণ করবেন এবং তার সাথে খোলামেলা আলোচনা করবেন।
২. রিমার পড়া ও বিশ্রামের মধ্যে ভারসাম্য রেখে সময়সূচি তৈরি করা।
৩. নিয়মিত ঘুম, সুষম খাবার, ব্যায়াম ও বিনোদনের ব্যবস্থা করা।
৪. প্রয়োজনে চিকিৎসক বা কাউন্সেলরের পরামর্শ নেওয়া। - ঘ)
উদ্দীপকের ১৪ বছরের রাহাত মায়ের অতিরিক্ত আদরে বড় হচ্ছে। সে স্কুলে অমনোযোগী এবং বাইরে বন্ধুদের সাথে বেশি সময় কাটায়। এতে তার আচরণগত সমস্যা দেখা দিয়েছে। আমার মতে, এ অবস্থায় বাবা-মা নিম্নলিখিত পদক্ষেপ নিতে পারেন:
১. আবদারে ভারসাম্য আনা: সব আবদার না মেনে যৌক্তিক ও অযৌক্তিক আবদারের পার্থক্য বুঝিয়ে দেওয়া এবং প্রয়োজনে দৃঢ়ভাবে 'না' বলা।
২. বন্ধুর মতো আচরণ ও সময় দেওয়া: রাহাতের সাথে খোলামেলা কথা বলা, তার সমস্যা ও আগ্রহ জানা।
৩. বন্ধু নির্বাচনে নজরদারি: সে কাদের সাথে মেশে, কোথায় সময় কাটায় তা লক্ষ রাখা এবং ভালো বন্ধু বেছে নিতে সাহায্য করা।
৪. গঠনমূলক কাজে যুক্ত করা: খেলাধুলা, সাংস্কৃতিক ও সহপাঠ্যক্রমিক কাজে যুক্ত করা এবং পড়ালেখায় মনোযোগী করতে শিক্ষকের সাথে যোগাযোগ রাখা।
৫. নৈতিক শিক্ষা: নিজেরা আদর্শ আচরণ করে তাকে ভালো-মন্দের পার্থক্য শেখানো।সুতরাং, স্নেহের সাথে নিয়মানুবর্তিতা ও সঠিক দিকনির্দেশনার সমন্বয় ঘটালে রাহাতের আচরণ নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও