বাংলা ১ম পত্র • Cumilla Board • কুমিল্লা বোর্ড ২০২৫
বাংলা ১ম পত্র প্রশ্ন
'অন্ধবধূ' কবিতায় অন্ধবধূ এক দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী মানুষ। তার অনুভবের জগৎ সমৃদ্ধ। অনুভবশক্তি দিয়ে সে জগৎ ও জীবন সম্পর্কে ধারণা লাভ করে। এমনকি ঋতু ও প্রকৃতির পরিবর্তনও সে বুঝতে পারে। আত্মমর্যাদাবোধেও সে সচেতন। দিঘির ঘাটে যখন 'শ্যাওলা পড়া পিছল সিঁড়ি জাগে' তখন সে পিছল খেয়ে জলে পড়ে ডুবে মরার ভয় করে। সে এও ভাবে যে, ডুবে মরলে তার অন্ধত্বের অভিশাপ ঘুচত।
- ক)(1)
সুভার প্রকৃত নাম কী?
- খ)(2)
মাতা সুভাকে গর্ভের কলঙ্ক জ্ঞান করে কেন?
- গ)(3)
উদ্দীপকের সঙ্গে 'সুভা' গল্পের সাদৃশ্যপূর্ণ দিকটি ব্যাখ্যা কর।
- ঘ)(4)
"সাদৃশ্য থাকলেও উদ্দীপক ও 'সুভা' গল্পের পরিণতি সম্পূর্ণ আলাদা"- বিশ্লেষণ কর।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
সুভার প্রকৃত নাম সুভাষিণী।
- খ)
সুভা জন্ম থেকেই বাকপ্রতিবন্ধী। তার মা এটিকে ভাগ্যের অভিশাপ ও নিজের গর্ভের কলঙ্ক বলে মনে করত। সমাজে এমন কন্যাকে বোঝা হিসেবে দেখা হয়, বিয়েও কঠিন হয়ে পড়ে। মা সুভার অসম্পূর্ণতাকে পরিবারের দুর্ভাগ্য ও নিজের লজ্জা মনে করে তাকে কলঙ্ক জ্ঞান করত।
- গ)
উদ্দীপকের অন্ধবধূ ও 'সুভা' গল্পের সুভা উভয়ই শারীরিকভাবে প্রতিবন্ধী। অন্ধবধূ দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী, সুভা বাকপ্রতিবন্ধী। তবু দুজনেরই অনুভূতি ও অনুভবের জগৎ সমৃদ্ধ।
অন্ধবধূ অনুভবশক্তি দিয়ে ঋতু ও প্রকৃতির পরিবর্তন বুঝতে পারে। সুভাও কথা বলতে না পারলেও প্রকৃতি ও পশুপাখির সঙ্গে গভীর সম্পর্ক গড়ে তোলে এবং তার সৌন্দর্য ও ভাষা অনুভব করে। দুজনের জীবনেই সমাজের অবহেলা ও বেদনা রয়েছে। এটিই উদ্দীপক ও গল্পের সাদৃশ্য।
- ঘ)
সাদৃশ্য থাকলেও উদ্দীপক ও 'সুভা' গল্পের পরিণতি আলাদা, উক্তিটি যথার্থ।
১. উদ্দীপকের পরিণতি: অন্ধবধূ ডুবে মরার ভয় পায় এবং ভাবে মরলে তার অন্ধত্বের অভিশাপ ঘুচত। এতে তার আত্মমর্যাদাবোধ ও জীবনের প্রতি হতাশা প্রকাশ পেয়েছে।
২. গল্পের পরিণতি: সুভার জীবন গ্রাম ও প্রকৃতির আশ্রয় থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে অজানা শহরে চলে যায়। তার নীরব বেদনা কেউ বোঝে না এবং সে সমাজের অবহেলার শিকার হয়ে থাকে।
৩. দৃষ্টিভঙ্গির পার্থক্য: অন্ধবধূর মৃত্যুচিন্তায় অভিমান ও হতাশা, আর সুভার পরিণতিতে সমাজের নির্মমতা ও অসহায়তা প্রকাশ পেয়েছে।সুতরাং, উভয়েই প্রতিবন্ধী ও অবহেলিত হলেও উদ্দীপক ও গল্পের পরিণতি ভিন্ন।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও