কৃষিশিক্ষা • Chattogram Board • চট্টগ্রাম বোর্ড ২০২৪
কৃষিশিক্ষা প্রশ্ন
গত কয়েক বছর থেকে কৃষকগণ আবহাওয়ার দুর্যোগপূর্ণ পরিস্থিতি মোকাবেলায় ফসলের সেচ, চাষ, ফসল সংগ্রই প্রক্রিয়া, ফসল মজুদ সংকট, যন্ত্রপাতির সংকট ইত্যাদি পরিস্থিতিতে দরিদ্র কৃষকগণ প্রায়ই প্রতিকূলতা মোকাবেলা করে চলেছে। এ অবস্থা নিয়ে স্থানীয় সংবাদপত্রে একটি সংবাদ প্রকাশ হলে উপজেলা কৃষি অফিস ও সমবায় অফিস যৌথভাবে এলাকার কৃষকগণকে নিয়ে যৌথ সভার আয়োজন করে। সভায় কর্মকর্তাবৃন্দ, কিছু কিছু পরিস্থিতি মোকাবেলায় কিছু পরমার্শ প্রদান করেন।
- ক)(1)
কৃষি সমবায় কাকে বলে?
- খ)(2)
দরিদ্র কৃষকগণকে পুঁজির সহায়তা সৃষ্টির জন্য উত্তম প্রক্রিয়া কোনটি? ব্যাখ্যা করো।
- গ)(3)
উদ্দীপকে কৃষকগণের উদ্ভূত সমস্যা সমাধানে কোন ধরনের সমবায় সংগঠন তৈরি প্রয়োজন? ব্যাখ্যা করো।
- ঘ)(4)
উদ্দীপকের আলোকে কৃষি অফিস ও সমবায় অফিসের গৃহীত পদক্ষেপটি মূল্যায়ন করো।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
কৃষকরা নিজেদের কৃষি উন্নয়ন ও আর্থ-সামাজিক অবস্থার উন্নতির জন্য স্বেচ্ছায় ঐক্যবদ্ধ হয়ে যে সংগঠন গড়ে তোলে এবং পারস্পরিক সহযোগিতার ভিত্তিতে কাজ করে, তাকে কৃষি সমবায় বলে।
- খ)
দরিদ্র কৃষকদের পুঁজির সহায়তার জন্য উত্তম প্রক্রিয়া হলো কৃষি মূলধন সমবায় সমিতি গঠন করা।
এ ধরনের সমিতিতে সদস্যরা নিজেদের সঞ্চয় জমা করে সমিতির তহবিল গড়ে তোলে। প্রয়োজনের সময় সদস্যরা এ তহবিল থেকে কম সুদে বা সহজ শর্তে ঋণ পায়। ফলে মহাজনের চড়া সুদের ঋণ এড়িয়ে কৃষক সার, বীজ ও সেচের খরচ চালাতে পারে।
- গ)
উদ্দীপকের কৃষকরা সেচ, চাষ, ফসল সংগ্রহ, ফসল মজুদ এবং যন্ত্রপাতির সংকটে ভুগছে। একক কৃষকের পক্ষে এসব সমস্যার সমাধান কঠিন। তাই এ ক্ষেত্রে বহুমুখী কৃষি সমবায় সংগঠন গড়ে তোলা প্রয়োজন, যার আওতায় কৃষি সেচ সমবায়, কৃষি যন্ত্রপাতি সমবায়, কৃষি উৎপাদন সমবায় ও কৃষি বিপণন সমবায়-এর কাজ একসাথে করা যায়।
১. সমবায়ের মাধ্যমে যৌথভাবে সেচযন্ত্র ও কৃষিযন্ত্র কিনে সদস্যরা কম খরচে ব্যবহার করতে পারবে।
২. সমবায়ের গুদামে ফসল মজুদ ও ন্যায্য মূল্যে বিক্রির সুযোগ সৃষ্টি হবে।
৩. যৌথ ঋণ ও সরকারি সহায়তা পাওয়া সহজ হবে। - ঘ)
উপজেলা কৃষি অফিস ও সমবায় অফিস কৃষকদের নিয়ে যৌথ সভা করে সমস্যা সমাধানে পরামর্শ দিয়েছে। আমার মতে, এ পদক্ষেপটি যুক্তিসংগত ও কার্যকর।
১. সমস্যা চিহ্নিতকরণ: সভায় কৃষকরা সরাসরি নিজেদের সেচ, মজুদ ও যন্ত্রপাতির সংকট তুলে ধরতে পারে, ফলে সঠিক সমাধান নির্ণয় সহজ হয়।
২. কারিগরি ও সাংগঠনিক সহায়তা: কৃষি অফিস প্রযুক্তিগত পরামর্শ এবং সমবায় অফিস সমিতি গঠন, নিবন্ধন ও ঋণ-সংক্রান্ত সহায়তা দিতে পারে।
৩. সমন্বিত উদ্যোগ: দুটি দপ্তরের যৌথ উদ্যোগে সম্পদের অপচয় কমে এবং কৃষকরা এক জায়গা থেকেই প্রয়োজনীয় সেবা পায়।
৪. দীর্ঘমেয়াদি সুফল: সমবায় গঠনের মাধ্যমে কৃষকরা নিজেরাই ঐক্যবদ্ধ হয়ে সমস্যা সমাধান করতে শেখে, যা টেকসই।সুতরাং, কৃষি অফিস ও সমবায় অফিসের গৃহীত পদক্ষেপটি কৃষকদের প্রতিকূলতা মোকাবেলায় সহায়ক ও যথার্থ।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও