হিন্দু ধর্ম • Chattogram Board • চট্টগ্রাম বোর্ড ২০২৪

হিন্দু ধর্ম প্রশ্ন

তাপস ও শ্যামল দুই বন্ধু। তাপস প্রতিমার সামনে বসে বিভিন্ন পূজা উপকরণ দিয়ে পূজা সম্পন্ন করে। অপরদিকে, শ্যামল কোনো বিগ্রহ ছাড়াই চোখ বুজে এক মনে এক ধ্যানে ঈশ্বরের উপাসনা করে তাঁকে পেতে চায়।

  1. ক)

    জীবাত্মা কাকে বলে?

    (1)
  2. খ)

    কখন ঈশ্বরকে ভগবান বলা হয়? ব্যাখ্যা করো।

    (2)
  3. গ)

    তাপসের উপাসনায় যে দিকটির প্রতিফলন ঘটেছে তা পাঠ্যপুস্তকের আলোকে ব্যাখ্যা করো।

    (3)
  4. ঘ)

    তাপস ও শ্যামলের উপাসনার প্রয়োজনীয়তা বিশ্লেষণ করো।

    (4)

উত্তর ও ব্যাখ্যা

  1. ক)

    পরমাত্মা যখন জীবদেহের মধ্যে আত্মারূপে অবস্থান করেন, তখন তাঁকে জীবাত্মা বলে।

  2. খ)

    ঈশ্বর বা ভগবান প্রধানত ছয়টি গুণে গুণান্বিত: ঐশ্বর্য, বীর্য, যশ, শ্রী, জ্ঞান ও বৈরাগ্য।

    ভক্তের কাছে ঈশ্বর ভগবান নামে পরিচিত। ঈশ্বর যখন এ ছয়টি গুণ বা ঐশ্বর্যে পরিপূর্ণ রূপে ভক্তের কাছে প্রকাশিত হন, তখন তাঁকে ভগবান বলা হয়।

  3. গ)

    তাপসের উপাসনায় সাকার উপাসনা বা প্রতীক উপাসনার দিকটি প্রতিফলিত হয়েছে।

    সাকার উপাসনার ধারণা: প্রতীক শব্দের অর্থ চিহ্ন বা আকার। এ ধরনের উপাসনা ব্রহ্মা, বিষ্ণু, শিব, সরস্বতী, লক্ষ্মী, মনসা প্রভৃতি দেব-দেবীর প্রতিমাকে উদ্দেশ্য করে করা হয়। এটি সগুণ উপাসনা বা ভক্তিযোগ নামেও পরিচিত। সগুণরূপে ঈশ্বর সাকার হয়ে প্রতিকৃতিতে প্রকাশিত হন। ভক্ত ফুল, ধূপ, দীপ ও নানা উপকরণ দিয়ে পূজা করে দেবতার সান্নিধ্য লাভের চেষ্টা করেন। গীতায় বলা হয়েছে, নির্গুণ ব্রহ্মের সাধনার চেয়ে সগুণ সাকার ঈশ্বরের আরাধনা অপেক্ষাকৃত সহজ।

    উদ্দীপকের সঙ্গে মিল: তাপস প্রতিমার সামনে বসে বিভিন্ন পূজা-উপকরণ দিয়ে পূজা সম্পন্ন করে। প্রতিমাকে অবলম্বন করে উপকরণসহ পূজা করা সাকার উপাসনার বৈশিষ্ট্য।

    অতএব, তাপসের উপাসনায় সাকার উপাসনা বা ভক্তিযোগের প্রতিফলন ঘটেছে।

  4. ঘ)

    তাপস সাকার উপাসনা এবং শ্যামল নিরাকার উপাসনা করে। উপাসনা ঈশ্বরের সান্নিধ্য লাভের একটি মাধ্যম। উপাসনা বলতে আক্ষরিকভাবে ঈশ্বরের পাশে অবস্থান করা বোঝায়। বিশেষ পদ্ধতিতে ঈশ্বরের গুণগান করার রীতিকে উপাসনা বলে। দুটি পদ্ধতিই প্রয়োজনীয়।

    সাকার ও নিরাকার উপাসনা: সাকার উপাসনায় প্রতিমা বা প্রতীককে অবলম্বন করে পূজা করা হয়। নিরাকার উপাসনা ধ্যানসাধনার মাধ্যমে করা হয়। এতে ঈশ্বরের কোনো প্রতিকৃতি থাকে না। জ্ঞানযোগ নিরাকার উপাসনার একটি অংশ।

    ১. হৃদয় ও মনের শুদ্ধতা: উভয় উপাসনা হৃদয়কে পরিশুদ্ধ ও পবিত্র করে এবং সুন্দর অনুভূতি সৃষ্টি করে। উপাসনা মনের কামনা, বাসনা, অহমিকা, হিংসা ও বিদ্বেষ দূর করে।
    ২. মনের দৃঢ়তা ও মানসিক উন্নতি: তাপসের পূজা-উপকরণ ও প্রতিমার অবলম্বন সহজে মন একাগ্র করতে সাহায্য করে। শ্যামলের একাগ্র ধ্যান মনের দৃঢ়তা বাড়ায় ও জটিলতা দূর করে সত্যের পথে পরিচালিত করে।
    ৩. ঈশ্বরের উপস্থিতি অনুভব: উপাসনা ভক্তকে ঈশ্বরের কাছাকাছি অবস্থানের সুযোগ দেয়। ভক্ত ইষ্ট দেবতাকে উপলব্ধি করতে পারেন।
    ৪. মোক্ষলাভ: উভয় উপাসনার প্রধান উদ্দেশ্য ঈশ্বরের সান্নিধ্য লাভ এবং শেষে মোক্ষলাভ। মোক্ষ হলো চিরমুক্তি, যখন জীবাত্মা পরমাত্মায় লীন হয়ে যায় এবং আর পুনর্জন্ম হয় না।

    গীতায় শ্রীকৃষ্ণ বলেছেন, 'যে যথা মাং প্রপদ্যন্তে তাংস্তথৈব ভজাম্যহম্'। অর্থাৎ যে আমাকে যেভাবে উপাসনা করে, আমি তাকে সেভাবেই তুষ্ট করি। তাই কেউ সাকার, কেউ নিরাকার পথে গেলেও ঈশ্বরের কাছে পৌঁছানো সম্ভব।

    সুতরাং, তাপস ও শ্যামলের উভয় উপাসনারই প্রয়োজনীয়তা আছে। যার কাছে যে পথ সহজ, সে সেই পথে ঈশ্বরের সান্নিধ্য ও মোক্ষ লাভ করতে পারে।

আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও

সম্পর্কিত প্রশ্ন