অর্থনীতি • Dhaka Board • ঢাকা বোর্ড ২০২৪

অর্থনীতি প্রশ্ন

মাসুদা বেগমের স্বামী মধ্যপ্রাচ্যের একটি দেশে চাকরি করেন। তিনি প্রতি মাসে তার স্ত্রীকে ৩০,০০০ টাকা পাঠান। মাসুদা বেগম সংসারের খরচ ও সন্তানদের লেখাপড়ার খরচ চালিয়ে প্রতি মাসে ব্যাংকে ১০,০০০ টাকা জমা করেন। পাঁচ বছর পর তিনি ব্যাংকে জমানো টাকা দিয়ে গ্রামের গরিব ও অসহায় ২০ জন নারীকে নিয়ে বাঁশ, বেত এবং কাপড়ের একটি ছোট শিল্প গড়ে তোলেন।

  1. ক)

    উপযোগ কী?

    (1)
  2. খ)

    পিতামাতা কর্তৃক সন্তান লালন-পালন কেন অ-অর্থনৈতিক কার্যাবলি?

    (2)
  3. গ)

    মাসুদা বেগমের জমানো অর্থ অর্থনীতির কোন ধারণাকে নির্দেশ করে? ব্যাখ্যা করো।

    (3)
  4. ঘ)

    "মাসুদা বেগমের ২য় পদক্ষেপ, 'বাংলাদেশের আর্থসামাজিক উন্নয়নে ভূমিকা রাখছে।"- বিশ্লেষণ করো।

    (4)

উত্তর ও ব্যাখ্যা

  1. ক)

    দ্রব্য বা সেবার যে ক্ষমতা বা গুণের দ্বারা মানুষের অভাব পূরণ হয়, তাকে উপযোগ (Utility) বলে।

  2. খ)

    পিতামাতা সন্তানকে লালন-পালন করেন স্নেহ, মমতা ও দায়িত্ববোধ থেকে, অর্থ উপার্জনের উদ্দেশ্যে নয়। এই কাজের বিনিময়ে তাঁরা কোনো মজুরি বা আর্থিক প্রতিদান পান না এবং এর সঙ্গে বাজারে অর্থের লেনদেনও জড়িত নয়। অর্থনীতিতে যেসব কাজ আর্থিক লাভের উদ্দেশ্যে করা হয় শুধু সেগুলোই অর্থনৈতিক কার্যাবলি। তাই সন্তান লালন-পালন একটি অ-অর্থনৈতিক কার্যাবলি।

  3. গ)

    মাসুদা বেগমের জমানো অর্থ অর্থনীতির সঞ্চয় (Saving) ধারণাকে নির্দেশ করে।

    আয়ের যে অংশ ভোগ বা খরচে ব্যয় না করে ভবিষ্যতের জন্য জমিয়ে রাখা হয়, তাকে সঞ্চয় বলে। উদ্দীপকে মাসুদা বেগম মাসিক আয় ৩০,০০০ টাকা থেকে সংসার ও সন্তানদের লেখাপড়ার খরচ মিটিয়ে প্রতি মাসে ১০,০০০ টাকা ব্যাংকে জমা করেন।

    সঞ্চয়=আয়−ভোগ ব্যয়\text{সঞ্চয়} = \text{আয়} - \text{ভোগ ব্যয়}

    অর্থাৎ ৩০,০০০ টাকা আয়ের মধ্যে ২০,০০০ টাকা ভোগ ব্যয় এবং অবশিষ্ট ১০,০০০ টাকা সঞ্চয়। সুতরাং তাঁর জমানো অর্থ সঞ্চয়কেই নির্দেশ করে।

  4. ঘ)

    মাসুদা বেগমের ২য় পদক্ষেপ হলো সঞ্চিত অর্থ দিয়ে ২০ জন গরিব নারীকে নিয়ে বাঁশ, বেত ও কাপড়ের ছোট শিল্প গড়ে তোলা। অর্থনীতির ভাষায় এটি বিনিয়োগ (Investment)। এই বিনিয়োগ বাংলাদেশের আর্থসামাজিক উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।

    ১. কর্মসংস্থান ও দারিদ্র্য হ্রাস: শিল্পটিতে ২০ জন অসহায় নারী কাজ পেয়েছেন। তাঁদের আয় বাড়ায় দারিদ্র্য কমছে এবং জীবনযাত্রার মান উন্নত হচ্ছে।
    ২. নারীর ক্ষমতায়ন: নারীরা উপার্জনক্ষম হওয়ায় পরিবার ও সমাজে তাঁদের মর্যাদা ও সিদ্ধান্ত গ্রহণের সুযোগ বাড়ছে।
    ৩. উৎপাদন ও জাতীয় আয় বৃদ্ধি: নতুন শিল্পে দ্রব্য উৎপাদন বাড়ে, ফলে জাতীয় আয় ও মূলধন গঠন বৃদ্ধি পায়।
    ৪. প্রবাসী আয়ের সদ্ব্যবহার: বিদেশ থেকে পাঠানো অর্থ অনুৎপাদনশীল খাতে ব্যয় না হয়ে উৎপাদনশীল খাতে বিনিয়োগ হচ্ছে।

    সুতরাং, মাসুদা বেগমের এই বিনিয়োগ কর্মসংস্থান সৃষ্টি, দারিদ্র্য দূরীকরণ ও নারীর ক্ষমতায়নের মাধ্যমে বাংলাদেশের আর্থসামাজিক উন্নয়নে ভূমিকা রাখছে।

আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও

সম্পর্কিত প্রশ্ন