পৌরনীতি ও নাগরিকতা • Chattogram Board • চট্টগ্রাম বোর্ড ২০২৫

পৌরনীতি ও নাগরিকতা প্রশ্ন

যুদ্ধ কখনোই মানুষের জন্য কল্যাণ বয়ে আনে না। তাই তানিয়া কোনো দেশের সাথে যুদ্ধ হোক সেটা চায় না। আমরা শান্তির পথে বিশ্বের সকল দেশের সকল বিরোধ মীমাংসায় বিশ্বাসী। আমরা চাই শান্তি রক্ষায় বিশ্বব্যাপী যে সংগঠনটি অবিরামভাবে কাজ করে যাচ্ছে তা বাংলাদেশের ক্ষেত্রেও ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা করবে। বাংলাদেশের সাথে পার্শ্ববর্তী দেশগুলোর মধ্যে সকল বিরোধ মীমাংসা করতে পিছু হটবে না।

  1. ক)

    আন্তর্জাতিক আদালত কাকে বলে ?

    (1)
  2. খ)

    অছি পরিষদের কার্যাবলি ব্যাখ্যা করো।

    (2)
  3. গ)

    উদ্দীপকটি কোন ধরনের সংস্থার ইঙ্গিত বহন করে? ব্যাখ্যা করো।

    (3)
  4. ঘ)

    তুমি কি মনে কর, উদ্দীপকের মতো একটি সংগঠন রাষ্ট্রসমূহের মধ্যে পারস্পরিক বিরোধ মীমাংসায় ভূমিকা পালন করে? মতামতের সপক্ষে যুক্তি দাও।

    (4)

উত্তর ও ব্যাখ্যা

  1. ক)

    আন্তর্জাতিক আদালত (International Court of Justice) হলো জাতিসংঘের প্রধান বিচারিক সংস্থা, যা নেদারল্যান্ডসের হেগ শহরে অবস্থিত এবং রাষ্ট্রসমূহের মধ্যকার আইনগত বিরোধ নিষ্পত্তি করে।

  2. খ)

    অছি পরিষদের প্রধান কাজ ছিল অছি এলাকাগুলোর শাসনব্যবস্থা তত্ত্বাবধান করা। এটি এসব এলাকার অধিবাসীদের রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক, সামাজিক ও শিক্ষাগত উন্নয়নে নজর রাখত। অছি এলাকার শাসনকারী রাষ্ট্রের প্রতিবেদন পর্যালোচনা এবং অধিবাসীদের আবেদন বিবেচনা করাও ছিল এর দায়িত্ব। লক্ষ্য ছিল এসব এলাকাকে স্বায়ত্তশাসন বা স্বাধীনতার জন্য প্রস্তুত করা।

  3. গ)

    উদ্দীপকে বিশ্বব্যাপী শান্তি রক্ষা ও বিরোধ মীমাংসায় কাজ করে এমন সংগঠনের কথা বলা হয়েছে। এটি আন্তর্জাতিক সংস্থা, বিশেষত বিশ্বজনীন সংস্থা জাতিসংঘের ইঙ্গিত বহন করে।

    জাতিসংঘ ১৯৪৫ সালে প্রতিষ্ঠিত হয়। এর প্রধান উদ্দেশ্য বিশ্বশান্তি ও নিরাপত্তা রক্ষা, রাষ্ট্রসমূহের মধ্যে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক গড়ে তোলা এবং বিরোধ শান্তিপূর্ণ উপায়ে মীমাংসা করা। বিশ্বের প্রায় সব স্বীকৃত রাষ্ট্র এর সদস্য হওয়ায় এটি সর্বজনীন চরিত্রের আন্তর্জাতিক সংস্থা। উদ্দীপকের বর্ণনার সঙ্গে এর কার্যক্রম মিলে যায়।

  4. ঘ)

    হ্যাঁ, আমি মনে করি জাতিসংঘের মতো সংগঠন রাষ্ট্রসমূহের মধ্যে পারস্পরিক বিরোধ মীমাংসায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।

    ১. নিরাপত্তা পরিষদ: বিরোধ দেখা দিলে নিরাপত্তা পরিষদ আলোচনা, মধ্যস্থতা ও প্রয়োজনে নিষেধাজ্ঞা আরোপের মাধ্যমে সমাধানের চেষ্টা করে।
    ২. আন্তর্জাতিক আদালত: রাষ্ট্রসমূহের মধ্যে আইনগত বিরোধ আদালতের মাধ্যমে শান্তিপূর্ণভাবে নিষ্পত্তি করা যায়।
    ৩. শান্তিরক্ষী বাহিনী: সংঘাতপূর্ণ এলাকায় শান্তিরক্ষী পাঠিয়ে যুদ্ধবিরতি ও শান্তি বজায় রাখা হয়।
    ৪. কূটনৈতিক মঞ্চ: সাধারণ পরিষদ ও অন্যান্য অঙ্গে আলোচনার সুযোগ থাকায় বিরোধ যুদ্ধে রূপ নেওয়ার আগেই নিষ্পত্তির সুযোগ থাকে।

    সুতরাং, সীমাবদ্ধতা থাকা সত্ত্বেও রাষ্ট্রসমূহের বিরোধ মীমাংসায় জাতিসংঘের ভূমিকা অনস্বীকার্য।

আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও

সম্পর্কিত প্রশ্ন