হিন্দু ধর্ম • Barishal Board • বরিশাল বোর্ড ২০২০
হিন্দু ধর্ম প্রশ্ন
গোপাল ছাত্রজীবন থেকেই মেধাবী। তিনি শিক্ষা গ্রহণের পাশাপাশি মানুষের চিরমুক্তি লাভের কথা ভাবতে থাকেন। তিনি বর্ণভেদ প্রথা দূর করে এক হরিনামে মোতে থাকার আহ্বান জানান। হরিনামই জগতের কল্যাণ, শান্তি, সমৃদ্ধি করতে সমর্থ হয়। অপরদিকে অনিক নামে এক মহামনীষী পাবনা জেলায় জন্মগ্রহণ করেন তিনিও পড়াশোনা অবস্থায় মানুষকে কীভাবে সাহায্য করা যায় এবং ধর্মীয় পথে আনা যায় তা নিয়ে ভাবতে থাকেন। অবশেষে তার ভাবনা সার্থক হয় এবং একটি নতুন ধর্মীয় পথ প্রতিষ্ঠা করেন। এখনও হাজার হাজার মানুষ সে পথের অনুসারী।
- ক)(1)
হিন্দুধর্মের আদি ধর্মগ্রন্থের নাম কী?
- খ)(2)
স্মৃতিশাস্ত্র' বলতে কী বোঝায়?
- গ)(3)
উদ্দীপকে গোপালের চরিত্র পাঠ্যবইয়ের আলোকে বর্ণনা করো।
- ঘ)(4)
অনিক বাবুর কর্মকাণ্ড উদ্দীপকের আলোকে বিশ্লেষণ করো।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
হিন্দুধর্মের আদি ধর্মগ্রন্থের নাম বেদ।
- খ)
বৈদিক শিক্ষার কর্ম ও জ্ঞান এই দুই মতের সংযোগ স্থাপন করে যে শাস্ত্র সৃষ্টি হয়েছে, তাকে স্মৃতিশাস্ত্র বা ধর্মশাস্ত্র বলে। বেদের পরে কর্তব্য-অকর্তব্য এবং ধর্ম-অধর্ম নির্ণয়ের জন্য রচিত গ্রন্থাবলিই স্মৃতিশাস্ত্র। মনুসংহিতা, পরাশর সংহিতা, যাজ্ঞবল্ক্য সংহিতা ইত্যাদি এর অন্তর্গত। এতে হিন্দুসমাজ পরিচালনার বিধি-বিধানও সন্নিবেশিত রয়েছে।
- গ)
উদ্দীপকের গোপালের চরিত্র হরিচাঁদ ঠাকুরের চরিত্রের সঙ্গে সাদৃশ্যপূর্ণ।
হরিচাঁদ ঠাকুর ১৮১২ খ্রিষ্টাব্দে আবির্ভূত হয়ে হিন্দু সমাজে সকল ধর্ম ও বর্ণের মানুষকে এক হরিনামে মেতে থাকার আহ্বান জানান। তাঁর এই ধর্মনীতি থেকেই মতুয়া ধর্মের উদ্ভব। এ ধর্মের মূলমন্ত্র হলো ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে হরিনামে মেতে থাকা। হরিনামই জগতে কল্যাণ, শান্তি ও সমৃদ্ধি প্রতিষ্ঠা করতে সমর্থ।
উদ্দীপকে গোপাল ছাত্রজীবন থেকেই মেধাবী। শিক্ষা গ্রহণের পাশাপাশি তিনি মানুষের চিরমুক্তির কথা ভাবেন। তিনি বর্ণভেদ প্রথা দূর করে সবাইকে এক হরিনামে মেতে থাকার আহ্বান জানান এবং বিশ্বাস করেন হরিনামই কল্যাণ, শান্তি ও সমৃদ্ধি আনতে সমর্থ। এসব বৈশিষ্ট্য হুবহু হরিচাঁদ ঠাকুরের আদর্শের সঙ্গে মেলে। অতএব, গোপালের চরিত্র হরিচাঁদ ঠাকুরের মতোই বর্ণবৈষম্যবিরোধী, মানবকল্যাণকামী ও হরিনামে নিবেদিত।
- ঘ)
উদ্দীপকের অনিক পাবনা জেলায় জন্মগ্রহণ করেছেন এবং একটি নতুন ধর্মীয় পথ প্রতিষ্ঠা করেছেন, যার অনুসারী এখনও হাজার হাজার মানুষ। এই বর্ণনা ঠাকুর অনুকূলচন্দ্রের সঙ্গে সংগতিপূর্ণ। তাঁর কর্মকাণ্ড হিন্দুধর্মের বিকাশে অনন্য ভূমিকা রেখেছে।
ঠাকুর অনুকূলচন্দ্র ১৮৮৮ সালে পাবনা জেলার হিমায়িতপুর গ্রামে আবির্ভূত হন। তিনি 'সৎসঙ্গ' নামে একটি ধর্মীয় সংগঠন প্রতিষ্ঠা করেন। উদ্দীপকের অনিক বাবুর কর্মকাণ্ডের বিশ্লেষণ নিচে দেওয়া হলো:
১. মানুষকে সাহায্য ও ধর্মীয় পথে আনা: অনিক বাবু পড়াশোনার সময়ই মানুষকে কীভাবে সাহায্য করা যায় এবং ধর্মীয় পথে আনা যায় তা ভাবতেন। অনুকূলচন্দ্রও সৎসঙ্গের মাধ্যমে মানুষকে আদর্শ জীবনের পথ দেখিয়েছেন। তাঁর আদর্শ হলো ধর্ম কোনো অলৌকিক ব্যাপার নয়, বরং বিজ্ঞানসিদ্ধ জীবনসূত্র।
২. নতুন ধর্মীয় পথ প্রতিষ্ঠা: সৎসঙ্গের পাঁচটি মূলনীতি যজন, যাজন, ইষ্টভৃতি, স্বস্ত্যয়নী ও সদাচার। শিক্ষা, কৃষি, শিল্প ও সুবিবাহ নীতিগুলো এর মূল স্তম্ভ।
৩. ভালোবাসা ও ঐক্য: তাঁর মতে ভালোবাসাই মহামূল্য যা দিয়ে শান্তি কেনা যায়। বিভিন্ন ধর্মের ঐক্য প্রতিষ্ঠায় তাঁর দৃষ্টিভঙ্গি নন্দিত।
৪. সাংস্কৃতিক অবদান: তাঁর ছড়া, কবিতা, প্রার্থনা, গীত ও সংকীর্তন বিশেষ খ্যাতি লাভ করেছে। সৎসঙ্গ আদর্শ মানুষ, আদর্শ গৃহী ও আদর্শ ধর্মযাজক চায়।সুতরাং, অনিক বাবু অর্থাৎ ঠাকুর অনুকূলচন্দ্রের কর্মকাণ্ড মানবকল্যাণ, ধর্ম ও বিজ্ঞানের সমন্বয় এবং আদর্শ সমাজ গঠনে গুরুত্বপূর্ণ, আর হাজার হাজার সৎসঙ্গী আজও তাঁর পথ অনুসরণ করছেন।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও