ফিন্যান্স ও ব্যাংকিং • Dhaka Board • ঢাকা বোর্ড ২০২০

ফিন্যান্স ও ব্যাংকিং প্রশ্ন

জনাব জামাল উদ্দীন একজন কাপড় ব্যবসায়ী। তিনি ২০০৮ সালে মিতালি ব্যাংকে একটি হিসাব খোলেন। এরপর থেকে তিনি নিয়মিত ব্যাংকে টাকা জমা দিচ্ছেন এবং উত্তোলন করছেন। ২০১০ সালে তিনি বাড়ি নির্মাণের সময় জমির দলিল বন্ধক রেখে মিতালিব্যাংক হতে ৬০ লক্ষ টাকা ৫ বছরে পরিশোধের শর্তে ঋণ গ্রহণ করেন। জনাব জামাল উদ্দীনের অবহেলার কারণে মিতালি ব্যাংক আদালতের মাধ্যমে বাড়ির মালিকানা লাভ করেন।

  1. ক)

    ব্যাংক কীভাবে মক্কেলের প্রাপ্য সুদ প্রদান করে?

    (1)
  2. খ)

    হুকুম চেককে কেন দাগকাটা চেকে রূপান্তর করা হয়? ব্যাখ্যা করো।

    (2)
  3. গ)

    গ্রাহক হিসেবে জনাব জামাল উদ্দীন মিতালি ব্যাংকের প্রতি কোন দায়িত্ব পালনে অবহেলা করেছে? ব্যাখ্যা করো।

    (3)
  4. ঘ)

    গ্রাহক ও ব্যাংকের সম্পর্কের আলোকে জনাব জামাল উদ্দীনের কার্যক্রম মূল্যায়ন করো।

    (4)

উত্তর ও ব্যাখ্যা

  1. ক)

    ব্যাংক মক্কেলের হিসাবে প্রাপ্য সুদ জমা (ক্রেডিট) করে দেওয়ার মাধ্যমে তা পরিশোধ করে।

  2. খ)

    হুকুম চেকে নামের ব্যক্তি বা তার আদেশপ্রাপ্ত ব্যক্তি টাকা পেতে পারে। কিন্তু চেক হারিয়ে বা চুরি হয়ে গেলে অন্য কেউ টাকা তুলে নিতে পারে। দাগকাটা চেকের টাকা কেবল ব্যাংক হিসাবের মাধ্যমে প্রাপকের হিসাবে জমা হয়, নগদে দেওয়া হয় না। এতে টাকা ভুল ব্যক্তির হাতে যাওয়ার ঝুঁকি কমে। তাই নিরাপত্তার জন্য হুকুম চেককে দাগকাটা চেকে রূপান্তর করা হয়।

  3. গ)

    জনাব জামাল উদ্দীন মিতালি ব্যাংকের প্রতি ঋণ ও সুদ নির্ধারিত সময়ে পরিশোধের দায়িত্ব পালনে অবহেলা করেছেন।

    ব্যাখ্যা: ঋণ নেওয়ার পর গ্রাহকের প্রধান দায়িত্ব চুক্তি অনুযায়ী নির্ধারিত সময়ে আসল ও সুদ ফেরত দেওয়া। জামাল ৬০ লক্ষ টাকা ঋণ নেন ৫ বছরে পরিশোধের শর্তে এবং জমির দলিল বন্ধক রাখেন। কিন্তু তার অবহেলায় ঋণ পরিশোধ হয়নি। ফলে ব্যাংক আদালতের মাধ্যমে বাড়ির মালিকানা পেয়েছে।

  4. ঘ)

    জনাব জামাল উদ্দীনের কার্যক্রম গ্রাহক ও ব্যাংকের সম্পর্কের আলোকে নিচের দুই ভাগে মূল্যায়ন করা যায়।

    ১. আমানতকারী হিসেবে: জামাল ২০০৮ সালে হিসাব খুলে নিয়মিত টাকা জমা ও উত্তোলন করেছেন। এ ক্ষেত্রে ব্যাংক দেনাদার এবং গ্রাহক পাওনাদার। এটি স্বাভাবিক ও সঠিক সম্পর্ক।
    ২. ঋণগ্রহীতা হিসেবে: ২০১০ সালে ঋণ নেওয়ায় সম্পর্ক উল্টে যায়। তখন গ্রাহক দেনাদার এবং ব্যাংক পাওনাদার। জামালের উচিত ছিল চুক্তি অনুযায়ী কিস্তি ও সুদ পরিশোধ করা।
    ৩. বন্ধকের পরিণতি: জামাল জমির দলিল বন্ধক রেখেছিলেন। ঋণ পরিশোধ না করায় ব্যাংক আইনি পথে বন্ধকি সম্পত্তির মালিকানা পেয়েছে, যা ব্যাংকের আইনসম্মত অধিকার।

    সুতরাং, ঋণগ্রহীতা হিসেবে জামালের দায়িত্বহীনতাই তার ক্ষতির কারণ এবং ব্যাংক তার অধিকার অনুযায়ী ব্যবস্থা নিয়েছে।

আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও

সম্পর্কিত প্রশ্ন