ইসলাম • Barishal Board • বরিশাল বোর্ড ২০১৯

ইসলাম প্রশ্ন

আমবৌলা গ্রামের স্নাতকোত্তর ডিগ্রিধারী মাহিন শত চেষ্টা চালিয়েও পছন্দমতো চাকরি না পেয়ে পিতার সংসারে বোঝা হয়ে দাঁড়িয়েছে। উপজেলা পশুপালন কর্মকর্তা তাকে হাঁস-মুরগি ও মৎস্য খামার গড়ে তোলার পরামর্শ দিলে সে বলে, 'আমি বসে থাকব তবু এ কাজ করব না'। অপরদিকে, তার বন্ধু নাহিন শুল্ক বিভাগে অফিস সহকারী পদে মাত্র পাঁচ বছর চাকরি করে সম্প্রতি একটি প্রাইভেট কার কিনেছে। তাছাড়া এলাকার বেকার যুবকদের পাঁচ লক্ষ টাকা ঋণ দিয়ে বছরান্তে অতিরিক্ত পঞ্চাশ হাজার টাকা আদায় করেছে। মুফতি মানসুর বলেন, 'নাহিন জাতীয় উন্নতি বাধাগ্রস্ত করছে। তার কোনো ইবাদত-ই কবুল হবে না'।

  1. ক)

    'ফিতনা-ফাসাদ' কী?

    (1)
  2. খ)

    'পণ্যদ্রব্যে ভেজাল মেশানো রাসুল (স)-এর উম্মত হওয়ার অন্তরায়'- উক্তিটি ব্যাখ্যা করো।

    (2)
  3. গ)

    মাহিনের উক্তিতে আখলাকে যামিমাহর কোন বিষয়টি প্রকাশ পেয়েছে? ব্যাখ্যা করো।

    (3)
  4. ঘ)

    নাহিনের অর্থোপার্জনের বিষয়টি আখলাকে যামিমাহর আলোকে চিহ্নিত করে মুফতি মানসুরের মন্তব্যের যথার্থতা নিরূপণ করো।

    (4)

উত্তর ও ব্যাখ্যা

  1. ক)

    ফিতনা-ফাসাদ হলো সমাজে বিশৃঙ্খলা, অশান্তি, দাঙ্গা-হাঙ্গামা ও অরাজকতা সৃষ্টি করা।

  2. খ)

    ভেজাল মেশানো হলো পণ্যে নিম্নমানের বা ক্ষতিকর জিনিস মিশিয়ে ক্রেতাকে ঠকানো, যা প্রতারণা।
    রাসূল (স) বলেছেন, "যে ব্যক্তি আমাদের সাথে প্রতারণা করে সে আমাদের দলভুক্ত নয়।" ভেজাল দ্রব্য মানুষের স্বাস্থ্যের ক্ষতি করে এবং ব্যবসায় সততা নষ্ট করে। তাই এটি রাসূলের উম্মত হওয়ার পথে অন্তরায়।

  3. গ)

    মাহিনের উক্তিতে আখলাকে যামিমাহর অলসতা ও কর্মবিমুখতা প্রকাশ পেয়েছে।

    মাহিন পছন্দমতো চাকরি না পেয়ে খামার গড়ার পরামর্শ প্রত্যাখ্যান করেছে এবং বসে থাকতে চেয়েছে। ইসলামে অলসতা নিন্দনীয়। রাসূল (স) অলসতা থেকে আল্লাহর কাছে আশ্রয় চেয়েছেন। হালাল উপার্জনের চেষ্টা করা ইবাদত। কুরআনে বলা হয়েছে, "সালাত শেষে তোমরা জমিনে ছড়িয়ে পড়ো এবং আল্লাহর অনুগ্রহ সন্ধান করো।" কাজকে ছোট মনে করে বসে থাকা পরিবার ও সমাজের বোঝা হওয়ার শামিল।

  4. ঘ)

    নাহিনের অর্থোপার্জনে আখলাকে যামিমাহর ঘুষ (দুর্নীতি) ও সুদ প্রকাশ পেয়েছে।

    শুল্ক বিভাগে সামান্য চাকরি করে মাত্র পাঁচ বছরে প্রাইভেট কার কেনা বৈধ আয়ে সম্ভব নয়, যা ঘুষ বা দুর্নীতির ইঙ্গিত দেয়। আবার পাঁচ লক্ষ টাকা ঋণ দিয়ে বছর শেষে অতিরিক্ত পঞ্চাশ হাজার টাকা নেওয়া সুদ। দুটিই হারাম উপার্জন।

    মুফতি মানসুরের মন্তব্য যথার্থ। কারণ—
    ১. ঘুষ ও সুদ অর্থনৈতিক বৈষম্য, দুর্নীতি ও শোষণ বাড়ায়, ফলে জাতীয় উন্নতি ব্যাহত হয়।
    ২. রাসূল (স) ঘুষদাতা ও গ্রহীতা এবং সুদখোরকে অভিশাপ দিয়েছেন।
    ৩. হাদিসে আছে, আল্লাহ পবিত্র, তিনি পবিত্র জিনিস ছাড়া গ্রহণ করেন না। হারাম উপার্জনে প্রতিপালিত ব্যক্তির দোয়া ও ইবাদত কবুল হওয়ার আশা করা যায় না।

    সুতরাং, নাহিনের হারাম আয়ের কারণে মুফতি মানসুরের মন্তব্য সঠিক।

আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও

সম্পর্কিত প্রশ্ন