বিজ্ঞান • Dinajpur Board • দিনাজপুর বোর্ড ২০২৪

বিজ্ঞান প্রশ্ন

ডাক্তার কামরুল অনেকদিন ধরে টার্নার'স সিনড্রোম রোগ নিয়ে কাজ করেন। অন্যদিকে ড. আরিবা রিকম্বিনেন্ট ডিএনএ প্রযুক্তির উন্নয়নে কাজ করছেন।

  1. ক)

    জীন কাকে বলে?

    (1)
  2. খ)

    ডিএনএ টেস্ট কেন করা হয়?

    (2)
  3. গ)

    ড. আরিবার প্রযুক্তির ধাপগুলো ব্যাখ্যা করো।

    (3)
  4. ঘ)

    “ডাক্তার কামরুল যে রোগ নিয়ে কাজ করেন সেটি পুরুষের ক্ষেত্রে কাটিয়ে উঠা সম্ভব নয়”- বিশ্লেষণ করো।

    (4)

উত্তর ও ব্যাখ্যা

  1. ক)

    জীব দেহের বৈশিষ্ট্য নিয়ন্ত্রণকারী এবং বংশগতির ধারক ও বাহক DNA-র নির্দিষ্ট অংশকে জিন বলে।

  2. খ)

    DNA টেস্ট করা হয় ব্যক্তির পরিচয় নির্ধারণ ও বংশগতির তথ্য জানার জন্য। এর মাধ্যমে পিতৃত্ব বা মাতৃত্ব নির্ণয় করা যায় এবং ফরেনসিক তদন্তে অপরাধী শনাক্ত করা যায়। এছাড়া বংশগত রোগ বা জিনগত ত্রুটি আছে কিনা তাও এর মাধ্যমে জানা যায়।

  3. গ)

    ড. আরিবার প্রযুক্তি রিকম্বিনেন্ট DNA প্রযুক্তি বা জেনেটিক ইঞ্জিনিয়ারিং। এর ধাপগুলো হলো:

    ১. DNA পৃথক করা: দাতা জীব থেকে কাঙ্ক্ষিত জিনসহ DNA অণু পৃথক করা হয়। বাহক হিসেবে ব্যাকটেরিয়ার (যেমন E. coli) প্লাজমিড DNA আলাদা করা হয়।
    ২. কাটা: রেস্ট্রিকশন এনজাইম দিয়ে দাতা DNA এবং প্লাজমিড DNA নির্দিষ্ট স্থানে কাটা হয়।
    ৩. জোড়া লাগানো: লাইগেজ এনজাইম দিয়ে কাঙ্ক্ষিত জিনকে প্লাজমিডের কাটা প্রান্তে জোড়া লাগানো হয়। এতে রিকম্বিনেন্ট DNA প্লাজমিড তৈরি হয়।
    ৪. ট্রান্সফরমেশন: রিকম্বিনেন্ট প্লাজমিডকে ব্যাকটেরিয়ার ভিতরে প্রবেশ করানো হয়।
    ৫. শনাক্তকরণ ও ক্লোনিং: কাঙ্ক্ষিত জিনযুক্ত ব্যাকটেরিয়া শনাক্ত করে আলাদা করা হয় এবং এদের ব্যাপক বংশবৃদ্ধি ঘটানো হয়।

  4. ঘ)

    ডাক্তার কামরুল টার্নার'স সিনড্রোম নিয়ে কাজ করেন। এটি একটি ক্রোমোসোমজনিত রোগ, যা শুধু নারীদের হয়।

    ১. ক্রোমোসোম সংখ্যা: স্বাভাবিক মানুষের ২৩ জোড়া ক্রোমোসোমের শেষ জোড়াটি লিঙ্গ ক্রোমোসোম। টার্নার'স সিনড্রোমে একটি X ক্রোমোসোম কম থাকে, ফলে মোট ক্রোমোসোম ৪৫টি এবং লিঙ্গ ক্রোমোসোম XO।
    ২. পুরুষের ক্ষেত্রে অসম্ভব: পুরুষের লিঙ্গ ক্রোমোসোম XY। Y ক্রোমোসোম থাকলে ব্যক্তি পুরুষ হয়। রোগটিতে Y ক্রোমোসোম থাকে না, তাই এই রোগীরা নারী হয়। অর্থাৎ পুরুষের এই রোগ হয় না।

    সুতরাং, মন্তব্যটি যথার্থ নয়: পুরুষের এ রোগ কাটিয়ে উঠার প্রশ্নই আসে না, কারণ রোগটি পুরুষের হয়ই না। এটি শুধু নারীদের হয় এবং ক্রোমোসোমজনিত বলে জন্ম থেকেই থাকে।

আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও

সম্পর্কিত প্রশ্ন