ইসলাম • Dinajpur Board • দিনাজপুর বোর্ড ২০২৪

ইসলাম প্রশ্ন

'ক' ও 'খ' অনভিজ্ঞ ঠিকাদার। 'ক' জনৈক কর্মকর্তাকে অতিরিক্ত উপঢৌকন দিয়ে একটি কাজের বরাদ্দ নেন। আর 'খ' তার ঠিকাদারি থেকে আয়কৃত টাকা মূলধনের অতিরিক্ত অর্থের বিনিময়ে মানুষকে ঋণ দেন। কেননা তিনি মনে করেন, এটা ঝুঁকিহীন বিনিয়োগ।

  1. ক)

    পরিচ্ছন্নতা কাকে বলে?

    (1)
  2. খ)

    'সত্যবাদিতা মুক্তি দেয়, আর মিথ্যা ধ্বংস ডেকে আনে'- ব্যাখ্যা করো।

    (2)
  3. গ)

    'ক' এর কর্মকাণ্ড আখলাকে যামিমার কোন বিষয়ের সাথে সাদৃশ্যপূর্ণ? ব্যাখ্যা করো।

    (3)
  4. ঘ)

    'খ' এর কাজ ও ধারণা কুরআন-হাদিসের আলোকে মূল্যায়ন করো।

    (4)

উত্তর ও ব্যাখ্যা

  1. ক)

    শরীর, পোশাক, বাসস্থান ও পরিবেশকে ময়লা ও অপবিত্রতা থেকে মুক্ত রাখাকে পরিচ্ছন্নতা বলে।

  2. খ)

    রাসুল (স) বলেছেন, সত্য মানুষকে নেকির পথ দেখায় এবং নেকি জান্নাতের দিকে নিয়ে যায়। আর মিথ্যা পাপের দিকে নিয়ে যায় এবং পাপ জাহান্নামের দিকে নিয়ে যায়। সত্যবাদী ব্যক্তি সমাজে বিশ্বস্ত হয় এবং আল্লাহর কাছে সিদ্দিক বলে গণ্য হয়, ফলে ইহকাল ও পরকালে মুক্তি পায়। অন্যদিকে মিথ্যাবাদী মানুষের আস্থা হারায় এবং পরকালে শাস্তি পায়। তাই সত্যবাদিতা মুক্তি দেয়, আর মিথ্যা ধ্বংস ডেকে আনে।

  3. গ)

    'ক' জনৈক কর্মকর্তাকে অতিরিক্ত উপঢৌকন দিয়ে কাজের বরাদ্দ নিয়েছেন। এটি আখলাকে যামিমার ঘুষ (রিশওয়াত)-এর সাথে সাদৃশ্যপূর্ণ।

    ব্যাখ্যা: অন্যায়ভাবে সুবিধা আদায় বা অন্যের অধিকার হরণের উদ্দেশ্যে কর্মকর্তাকে যে অর্থ বা উপহার দেওয়া হয়, তাকে ঘুষ বলে। উপহার নাম দিলেও কাজ আদায়ের শর্তে দেওয়া হলে তা ঘুষই। রাসুল (স) ঘুষদাতা ও গ্রহীতা উভয়কে অভিশাপ দিয়েছেন। ঘুষের কারণে যোগ্য ব্যক্তি বঞ্চিত হয়, দুর্নীতি বাড়ে এবং সমাজে অবিচার ছড়ায়। তাই এটি হারাম।

  4. ঘ)

    'খ' মূলধনের অতিরিক্ত অর্থ মানুষকে ঋণ দিয়ে তার বিনিময়ে বাড়তি আদায় করেন। এটি সুদ। তিনি একে ঝুঁকিহীন বিনিয়োগ মনে করেন। এই কাজ ও ধারণা দুটোই ইসলামের দৃষ্টিতে ভুল।

    ১. কুরআনের আলোকে: আল্লাহ বলেন, আল্লাহ ব্যবসাকে হালাল করেছেন এবং সুদকে হারাম করেছেন (সূরা বাকারা, ২৭৫)। সুদ গ্রহণকারী আল্লাহ ও তাঁর রাসুলের বিরুদ্ধে যুদ্ধে অবতীর্ণ বলে হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়েছে।
    ২. হাদিসের আলোকে: রাসুল (স) সুদগ্রহীতা, সুদদাতা, এর লেখক ও সাক্ষীদের অভিশাপ দিয়েছেন।
    ৩. ধারণা ভুল: সুদ ঝুঁকিহীন মনে হলেও তা বৈধ নয়। এটি ধনীকে আরও ধনী করে এবং গরিবকে শোষণ করে। ব্যবসার মুনাফা বৈধ, কিন্তু ঋণের অতিরিক্ত আদায় শোষণ।

    সুতরাং, 'খ'-এর কাজ ও ধারণা কুরআন-হাদিসের দৃষ্টিতে নিন্দনীয়। তাঁর উচিত সুদ বর্জন করে বৈধ ব্যবসা করা।

আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও

সম্পর্কিত প্রশ্ন