গার্হস্থ্য বিজ্ঞান • Sylhet Board • সিলেট বোর্ড ২০২৫
গার্হস্থ্য বিজ্ঞান প্রশ্ন
২ এবং ৬ বছরের সন্তানদের নিয়ে রুমা ও শাহেদের সংসার। শাহেদ সময় পেলেই রুমাকে গৃহস্থালী কাজে সাহায্য করে এবং সন্তানদের দেখাশোনা করে। দুজনে মিলে সন্তানদের দেখাশোনা করায় সন্তানরা সু-স্বাস্থ্যের অধিকারী। রুমা তার সন্তানদের রাতে নিজের কাছে নিয়ে ঘুমাতে পছন্দ করে।
- ক)(1)
কখন মায়ের শরীরে অক্সিটোসিন নামক হরমোন নির্গত হয়?
- খ)(2)
শিশুর জন্য কলোস্ট্রাম কেন এত গুরুত্বপূর্ণ?
- গ)(3)
রুমার সন্তানদের নিজের কাছে নিয়ে ঘুমানোর কোনো প্রয়োজনীয়তা আছে কি? বিশ্লেষণ করো।
- ঘ)(4)
গৃহ ও সন্তানদের পরিচালনার ক্ষেত্রে শাহেদের কর্মকাণ্ড কীভাবে কার্যকর ভূমিকা রাখে? ব্যাখ্যা করো।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
শিশু যখন মায়ের স্তন চোষে বা বুকের দুধ পান করে, তখন মায়ের শরীরে অক্সিটোসিন হরমোন নির্গত হয় (প্রসবের সময়ও এটি জরায়ু সংকোচনে সাহায্য করে)।
- খ)
কলোস্ট্রাম বা শালদুধ প্রসবের পর প্রথম কয়েক দিনের হলদে ঘন দুধ। এতে প্রচুর অ্যান্টিবডি (রোগ প্রতিরোধক উপাদান), ভিটামিন এ ও প্রোটিন থাকে। এটি নবজাতককে সংক্রমণ থেকে রক্ষা করে, তাই একে শিশুর প্রথম টিকা বলা হয়। এটি সহজে হজম হয় এবং শিশুর প্রথম মল (মেকোনিয়াম) বের হতে সাহায্য করে। তাই কলোস্ট্রাম শিশুর জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
- গ)
রুমার দুই সন্তানের বয়স ২ ও ৬ বছর। বয়স অনুযায়ী প্রয়োজনীয়তা আলাদা।
১. ২ বছরের শিশু: এ বয়সে শিশু মায়ের ওপর নির্ভরশীল। রাতে মায়ের কাছে ঘুমালে সে নিরাপদ বোধ করে, মায়ের সঙ্গে আবেগীয় বন্ধন দৃঢ় হয় এবং রাতে প্রয়োজনে যত্ন নেওয়া সহজ হয়। তাই এ বয়সে প্রয়োজন আছে।
২. ৬ বছরের শিশু: এ বয়সে শিশুকে ধীরে ধীরে আলাদা ঘুমাতে অভ্যস্ত করা ভালো। এতে সে আত্মনির্ভরশীল ও সাহসী হয় এবং নিজস্ব ঘুমের অভ্যাস গড়ে ওঠে। তাই এ বয়সে সবসময় মায়ের কাছে ঘুমানোর প্রয়োজন নেই।
অতএব, ছোট সন্তানের ক্ষেত্রে প্রয়োজন আছে, কিন্তু বড় সন্তানকে ক্রমে আলাদা ঘুমাতে অভ্যস্ত করা উচিত।
- ঘ)
গৃহ ও সন্তান পরিচালনায় শাহেদের কর্মকাণ্ড অত্যন্ত কার্যকর ভূমিকা রাখে।
১. কাজের ভাগাভাগি: শাহেদ গৃহস্থালী কাজে রুমাকে সাহায্য করায় রুমার কাজের চাপ ও ক্লান্তি কমে। ফলে তিনি সন্তানদের যত্নে বেশি সময় ও মনোযোগ দিতে পারেন এবং সংসারের কাজ সুষ্ঠুভাবে চলে।
২. সন্তানের সুস্থ বিকাশ: দুজনে মিলে দেখাশোনা করায় সন্তানরা মা ও বাবা উভয়ের স্নেহ ও যত্ন পায়। এতে তাদের শারীরিক স্বাস্থ্য ভালো থাকে এবং মানসিক ও সামাজিক বিকাশ ঘটে।
৩. পারিবারিক সম্পর্ক ও আদর্শ: পারস্পরিক সহযোগিতার ফলে স্বামী-স্ত্রীর সম্পর্ক মধুর থাকে এবং সন্তানরা সহযোগিতা শেখে।
সুতরাং, শাহেদের সহযোগিতা পরিবারকে সুশৃঙ্খল ও সন্তানদের সুস্বাস্থ্য নিশ্চিত করতে কার্যকর ভূমিকা রাখে।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও