বিজ্ঞান • Combined Board • সকল বোর্ড ২০১৮

বিজ্ঞান প্রশ্ন

ছয় কন্যা সন্তানের জনক আলতা মিয়া। একটি পুত্র সন্তানের আশায় দ্বিতীয় বিয়ে করার পর এ ঘরেও দুইটি কন্যা সন্তান হয়। এ জন্য তিনি স্ত্রীদের সবসময় দোষারোপ করেন। তার বড় মেয়ে বিজলির বয়স ১৫ বছর। সে ইদানীং সব বিষয়ে কৌতূহলী এবং ঝুঁকিপূর্ণ বিষয়ে আগ্রহী। এ নিয়েও আলতা মিয়া সবসময় দুশ্চিন্তায় থাকেন।

  1. ক)

    নিষ্ক্রিয় অঙ্গ কাকে বলে?

    (1)
  2. খ)

    প্লাটিপাস জীবন্ত জীবাশ্ম- ব্যাখ্যা করো।

    (2)
  3. গ)

    উদ্দীপকে উল্লিখিত বিজলির আচরণের কারণ ব্যাখ্যা করো।

    (3)
  4. ঘ)

    স্ত্রীদের প্রতি আলতা মিয়ার এ ধরনের আচরণ সম্পূর্ণ অযৌক্তিক- বিশ্লেষণ করো।

    (4)

উত্তর ও ব্যাখ্যা

  1. ক)

    যেসব অঙ্গ জীবদেহে বিদ্যমান থাকলেও বর্তমানে তাদের কোনো কাজ নেই বা কাজ করে না, তাদের নিষ্ক্রিয় অঙ্গ বলে।

  2. খ)

    যেসব জীব সুদূর অতীতে উৎপত্তি লাভ করেও কোনো পরিবর্তন ছাড়া এখনো বেঁচে আছে, অথচ তাদের সমগোত্রীয় ও সমসাময়িক অনেক জীব বিলুপ্ত হয়েছে, তাদের জীবন্ত জীবাশ্ম বলে। প্লাটিপাস সুদূর অতীতের বৈশিষ্ট্য নিয়ে আজও টিকে আছে এবং এর মধ্যে সরীসৃপ ও স্তন্যপায়ী উভয়ের বৈশিষ্ট্য আছে। তাই প্লাটিপাসকে জীবন্ত জীবাশ্ম বলা হয়।

  3. গ)

    বিজলির বয়স ১৫ বছর, অর্থাৎ সে বয়ঃসন্ধিকালে আছে। এই সময় শরীরে হরমোনের প্রভাবে শারীরিক ও মানসিক নানা পরিবর্তন আসে।

    ১. হরমোনের প্রভাব: বয়ঃসন্ধিকালে মেয়েদের দেহে ইস্ট্রোজেন ও প্রোজেস্টেরন হরমোনের ক্ষরণ শুরু হয়, যা আচরণে পরিবর্তন আনে।
    ২. কৌতূহল: এ সময় নতুন বিষয় জানার আগ্রহ ও কৌতূহল বেড়ে যায়।
    ৩. ঝুঁকি নেওয়ার প্রবণতা: মানসিক পরিবর্তনের কারণে এ বয়সে ঝুঁকিপূর্ণ কাজে আগ্রহ দেখা যায়।

    তাই বয়ঃসন্ধিকালীন শারীরিক ও মানসিক পরিবর্তনই বিজলির এই আচরণের কারণ।

  4. ঘ)

    আলতা মিয়ার স্ত্রীদের প্রতি দোষারোপ করা সম্পূর্ণ অযৌক্তিক। কারণ সন্তানের লিঙ্গ নির্ধারণে মায়ের কোনো ভূমিকা নেই।

    ১. ক্রোমোজোম: নারীর লিঙ্গ ক্রোমোজোম XXXX এবং পুরুষের XYXY। নারীর সব ডিম্বাণুতে কেবল XX ক্রোমোজোম থাকে।
    ২. শুক্রাণুর ভূমিকা: পুরুষের শুক্রাণু দুই ধরনের হয়, অর্ধেকে XX ও অর্ধেকে YY। XX শুক্রাণু ডিম্বাণুকে নিষিক্ত করলে কন্যা এবং YY শুক্রাণু নিষিক্ত করলে পুত্রসন্তান হয়।
    ৩. সিদ্ধান্ত: উদ্দীপকে আলতা মিয়ার ৮টি কন্যাসন্তান হয়েছে, অর্থাৎ প্রতিবার XX বহনকারী শুক্রাণু নিষেক ঘটিয়েছে। এ জন্য দায়ী পিতার শুক্রাণু, মায়েরা নন।

    সুতরাং, সন্তানের লিঙ্গ নির্ধারণ পিতার শুক্রাণুর ওপর নির্ভর করে বলে স্ত্রীদের দোষারোপ করা অযৌক্তিক।

আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও

সম্পর্কিত প্রশ্ন