হিন্দু ধর্ম • Jashore Board • যশোর বোর্ড ২০২৪
হিন্দু ধর্ম প্রশ্ন
- ক)(1)
বিবাহের মূল পর্ব কোনটি?
- খ)(2)
বৃদ্ধিশ্রাদ্ধ বলতে কী বোঝায়?
- গ)(3)
নবদম্পতি বিশুদ্ধ নব-জীবন লাভ করে উপরের কোন পর্ব পালনের মাধ্যমে? পাঠ্যবইয়ের আলোকে বর্ণনা করো।
- ঘ)(4)
"সুদৃঢ় বিবাহিত জীবন ও নবদম্পতির সুখ-শান্তি কামনা করাই গায়ে হলুদের অন্তর্নিহিত উদ্দেশ্যে।"-বিশ্লেষণ করো।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
সম্প্রদান পর্ব।
- খ)
বিবাহের দিন কিংবা তার আগের দিন বর ও কনের উভয় পক্ষ নিজ নিজ ঘরে পূর্বপুরুষদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করে তাঁদের আশীর্বাদ কামনা করে। উভয় কুলের পিতৃপুরুষদের উদ্দেশে এই শ্রাদ্ধতর্পণকে বৃদ্ধিশ্রাদ্ধ বলা হয়। এর মাধ্যমে বিবাহের মতো শুভ কাজে পূর্বপুরুষদের আশীর্বাদ চাওয়া হয়।
- গ)
নবদম্পতি বিশুদ্ধ নব-জীবন লাভ করে উদ্দীপকের পর্ব-২, অর্থাৎ যজ্ঞানুষ্ঠান ও সাতপাকে বাঁধা পালনের মাধ্যমে।
সম্প্রদান পর্বের পর বর্গাকার যজ্ঞক্ষেত্র তৈরি করা হয়। সেখানে বেদমন্ত্র উচ্চারণ করে মনের অহংকার, মান-অভিমান, হিংসা-বিদ্বেষ, ঘৃণাসহ সকল অসাধু চিন্তারূপী ঘি-মাখা আমপাতা আগুনে আহুতি দিতে হয়। এরপর অগ্নিকে পর পর সাতবার প্রদক্ষিণ করে প্রণাম করতে হয়। এভাবেই সাতপাকে বেঁধে নবদম্পতি বিশুদ্ধ নব-জীবন লাভ করে। এই যজ্ঞের মাধ্যমে বর-কনে অগ্নিদেবের কাছে আমৃত্যু বাঁধা থাকে।
অনেক স্থানে কলাগাছ বেষ্টিত বিবাহ আসরে বর কনেকে সাতবার ঘোরানো হয়। বর সামনে ও কনে পেছনে থাকে। বর বাঁ হাত দিয়ে কনের ডান হাত ধরে ঘোরে এবং দুজনের কাপড়ের কোণা একত্র করে গিঁট দেওয়া হয়। এর মাধ্যমে তাদের জীবন একসূত্রে গাঁথা হয়।
সুতরাং, পাপচিন্তা ত্যাগ ও অগ্নি সাক্ষী রেখে সাতপাকে বাঁধার ফলে নবদম্পতি পবিত্র নব-জীবন লাভ করে।
- ঘ)
“সুদৃঢ় বিবাহিত জীবন ও নবদম্পতির সুখ-শান্তি কামনা করাই গায়ে হলুদের অন্তর্নিহিত উদ্দেশ্য”—উক্তিটি যথার্থ। গায়ে হলুদ (গাত্র হরিদ্রা) হিন্দু বিবাহের একটি উল্লেখযোগ্য পর্ব, যার মধ্য দিয়ে বিবাহের আনুষ্ঠানিকতা শুরু হয়। বর-কনের নিজ নিজ বাড়িতে এটি অনুষ্ঠিত হয়।
১. দেহশুদ্ধি: এটি মূলত দেহশুদ্ধিকরণ অনুষ্ঠান। কাঁচা হলুদের সাথে মেথি, সরিষা, চন্দন প্রভৃতি মেশানো হয়। এগুলো শরীর পরিষ্কার ও পবিত্র করার প্রতীক। শুদ্ধ দেহ-মন নিয়ে বর-কনে নতুন জীবনে প্রবেশ করে।
২. সৌভাগ্যের প্রতীক: হলুদ, মেথি, সরিষা ও চন্দন সৌভাগ্যের প্রতীক। এগুলো গায়ে মাখানোর মাধ্যমে নবদম্পতির মঙ্গল ও সৌভাগ্য কামনা করা হয়।
৩. আশীর্বাদ: বর বা কনেকে আসনে বসিয়ে বড়রা ধান-দূর্বা দিয়ে আশীর্বাদ করেন। ছোটরা নমস্কার করে হলুদ মাখিয়ে দেয় ও মিষ্টিমুখ করায়। এতে গুরুজনদের শুভকামনা তাদের জীবনে যুক্ত হয়।
৪. সামাজিক মিলন: আত্মীয়-স্বজন একত্র হওয়ায় আনন্দময় পরিবেশ তৈরি হয় এবং পারিবারিক বন্ধন দৃঢ় হয়।সুতরাং, গায়ে হলুদের শুদ্ধিকরণ, সৌভাগ্যের প্রতীক ও আশীর্বাদের মাধ্যমে নবদম্পতির সুদৃঢ় ও সুখী বিবাহিত জীবন কামনা করাই এর মূল উদ্দেশ্য।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও