পৌরনীতি ও নাগরিকতা • Dhaka Board • ঢাকা বোর্ড ২০২৩
পৌরনীতি ও নাগরিকতা প্রশ্ন
- ক)(1)
OIC-এর পূর্ণরূপ কী?
- খ)(2)
লিগ অব নেশন কেন গঠিত হয়েছিল? ব্যাখ্যা করো।
- গ)(3)
বিভিন্ন দেশের আর্থসামাজিক উন্নয়নে ডায়াগ্রামে প্রদর্শিত 'X' সংস্থাটির ভূমিকা ব্যাখ্যা করো।
- ঘ)(4)
'বিশ্বশান্তি ও নিরাপত্তা প্রতিষ্ঠায় বাংলাদেশের সঙ্গে উক্ত সংস্থাটির সম্পর্ক মধুর ও নিবিড়'- উক্তিটির যথার্থতা বিশ্লেষণ করো।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
OIC-এর পূর্ণরূপ Organisation of Islamic Cooperation (ইসলামি সহযোগিতা সংস্থা)।
- খ)
প্রথম বিশ্বযুদ্ধের ভয়াবহ ধ্বংসযজ্ঞের পর ভবিষ্যতে যুদ্ধ রোধ করার জন্য লিগ অব নেশন গঠিত হয়।
এর উদ্দেশ্য ছিল বিশ্বশান্তি প্রতিষ্ঠা, রাষ্ট্রগুলোর মধ্যে বিরোধ আলোচনার মাধ্যমে মেটানো এবং আন্তর্জাতিক সহযোগিতা বৃদ্ধি করা। এটি ১৯২০ সালে গঠিত হয়। তবে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ ঠেকাতে ব্যর্থ হওয়ায় পরে জাতিসংঘ প্রতিষ্ঠিত হয়।
- গ)
ডায়াগ্রামে প্রদর্শিত 'X' সংস্থাটি জাতিসংঘ (United Nations), যার ছয়টি শাখার মধ্যে আন্তর্জাতিক ও সামাজিক (অর্থনৈতিক ও সামাজিক) পরিষদ বিভিন্ন দেশের আর্থসামাজিক উন্নয়নে বিশেষ ভূমিকা রাখে।
১. অর্থনৈতিক উন্নয়ন: জাতিসংঘ ও তার সহযোগী সংস্থা (UNDP ইত্যাদি) দারিদ্র্য দূরীকরণ, কর্মসংস্থান ও অবকাঠামো উন্নয়নে সহায়তা দেয়।
২. সামাজিক উন্নয়ন: WHO স্বাস্থ্য খাতে, UNICEF শিশুদের কল্যাণে, UNESCO শিক্ষা ও সংস্কৃতিতে এবং FAO কৃষি ও খাদ্য নিরাপত্তায় কাজ করে।
৩. মানবাধিকার ও সমতা: নারী-পুরুষ সমতা, শিশু ও শরণার্থীদের অধিকার রক্ষা এবং টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে সদস্য দেশগুলোকে সহায়তা করে।
এভাবে জাতিসংঘ বিভিন্ন দেশের আর্থসামাজিক উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
- ঘ)
উক্তিটি যথার্থ। জাতিসংঘের সাথে বাংলাদেশের সম্পর্ক মধুর ও নিবিড়, বিশেষত বিশ্বশান্তি ও নিরাপত্তা প্রতিষ্ঠার ক্ষেত্রে।
১. সদস্যপদ ও ভূমিকা: বাংলাদেশ ১৯৭৪ সালে জাতিসংঘের সদস্যপদ লাভ করে। একই বছর বঙ্গবন্ধু জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদে বাংলায় ভাষণ দেন।
২. শান্তিরক্ষা মিশন: বাংলাদেশ জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশনে সৈন্য ও পুলিশ পাঠিয়ে বিশ্বের বিভিন্ন সংকটাপন্ন অঞ্চলে শান্তি প্রতিষ্ঠায় অবদান রাখছে। এ কাজে বাংলাদেশ উল্লেখযোগ্য অংশগ্রহণকারী দেশ।
৩. আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি: জাতিসংঘের সংস্থা ইউনেস্কো ২১শে ফেব্রুয়ারিকে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস হিসেবে ঘোষণা করেছে। বাংলাদেশ জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদের অস্থায়ী সদস্য হিসেবেও নির্বাচিত হয়েছে।
৪. উন্নয়ন সহযোগিতা: জাতিসংঘের বিভিন্ন সংস্থা বাংলাদেশে স্বাস্থ্য, শিক্ষা ও শরণার্থী সহায়তায় কাজ করছে।
সুতরাং, শান্তিরক্ষা ও বিভিন্ন ক্ষেত্রে পারস্পরিক সহযোগিতার কারণে জাতিসংঘের সাথে বাংলাদেশের সম্পর্ক মধুর ও নিবিড়।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও