পৌরনীতি ও নাগরিকতা • Barishal Board • বরিশাল বোর্ড ২০২৪

পৌরনীতি ও নাগরিকতা প্রশ্ন

উদ্দীপক-১; ফাগুন দিনে পলাশবনে রক্ত ঝরে ঐঃ মাগো আমার ছালাম বরকত ভাইয়েরা সব কই।উদ্দীপক-২: জনাব আরাফাত টক শো'র আলোচনায় বলেন, পাকিস্তানি শাসকচক্রের শাসন ও অর্থনৈতিক শোষণ হতে বাঙালিদের মুক্তির লক্ষ্যে হাজার বছরের শ্রেষ্ঠ বাঙালি বেশ কিছু দাবি-দাওয়া পেশ করেন, যা পরবর্তীতে বাঙালি জাতির প্রাণের দাবিতে পরিণত হয়।

  1. ক)

    অসহযোগ আন্দোলনের গগনবিদারী স্লোগানটি লেখো।

    (1)
  2. খ)

    মৌলিক গণতন্ত্র কেন প্রবর্তন করা হয়? ব্যাখ্যা করো।

    (2)
  3. গ)

    উদ্দীপক-১ আমাদের জাতীয় জীবনের কোন ঘটনাকে মনে করিয়ে দেয়? ব্যাখ্যা করো

    (3)
  4. ঘ)

    "উদ্দীপক-২-এ উল্লেখিত বিষয়টি আমাদের জাতীয় মুক্তির এক প্রামাণ্য দলিল"-বিশ্লেষণ করো।

    (4)

উত্তর ও ব্যাখ্যা

  1. ক)

    অসহযোগ আন্দোলনের গগনবিদারী স্লোগান ছিল "বীর বাঙালি অস্ত্র ধরো, বাংলাদেশ স্বাধীন করো"; এর সাথে "জয় বাংলা" ধ্বনি সর্বত্র গর্জে উঠেছিল।

  2. খ)

    মৌলিক গণতন্ত্র আইয়ুব খান ১৯৫৯ সালে প্রবর্তন করেন।

    সামরিক শাসক আইয়ুব খান সংসদীয় গণতন্ত্রের পরিবর্তে একটি নিয়ন্ত্রিত ব্যবস্থা চালু করতে চেয়েছিলেন, যেখানে জনগণ সরাসরি রাষ্ট্রপ্রধান নির্বাচন না করে স্থানীয়ভাবে নির্বাচিত প্রতিনিধিদের মাধ্যমে নির্বাচন করে। এর মূল উদ্দেশ্য ছিল নিজের ক্ষমতা স্থায়ী ও বৈধ করা এবং সামরিক শাসনকে গণতান্ত্রিক রূপ দেওয়া।

  3. গ)

    উদ্দীপক-১-এর "ফাগুন দিনে পলাশবনে রক্ত ঝরে ... ছালাম বরকত ভাইয়েরা সব কই" পঙ্ক্তি আমাদের জাতীয় জীবনের ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলনকে মনে করিয়ে দেয়।

    পাকিস্তান সরকার উর্দুকে একমাত্র রাষ্ট্রভাষা করার চেষ্টা করলে বাঙালিরা মাতৃভাষা বাংলার মর্যাদার দাবিতে আন্দোলন শুরু করে। ১৯৫২ সালের ২১শে ফেব্রুয়ারি ঢাকায় মিছিলে পুলিশের গুলিতে সালাম, বরকত, রফিক, জব্বারসহ আরও কয়েকজন শহিদ হন। উদ্দীপকে উল্লিখিত 'রক্ত ঝরা' ও 'বরকত'-এর নাম সেই আত্মত্যাগকেই নির্দেশ করে। এ আন্দোলনের ফলে বাংলা রাষ্ট্রভাষার মর্যাদা পায়।

  4. ঘ)

    উদ্দীপক-২-এ উল্লিখিত বিষয়টি হলো বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান প্রদত্ত ছয় দফা দাবি (১৯৬৬), যা বাঙালির জাতীয় মুক্তির সনদ বা প্রামাণ্য দলিল।

    ১. অর্থনৈতিক শোষণ থেকে মুক্তি: ছয় দফায় পূর্ব ও পশ্চিম পাকিস্তানের অর্থনৈতিক বৈষম্য দূর করতে দুই অঞ্চলের জন্য পৃথক মুদ্রা বা মুদ্রা-সংরক্ষণ ব্যবস্থা, প্রদেশের হাতে কর আদায় ও বৈদেশিক বাণিজ্যের ক্ষমতার দাবি ছিল।

    ২. স্বায়ত্তশাসন: ফেডারেল ও সংসদীয় সরকারব্যবস্থা এবং কেন্দ্রের হাতে শুধু প্রতিরক্ষা ও পররাষ্ট্র রেখে বাকি সব ক্ষমতা প্রদেশের হাতে দেওয়ার দাবি ছিল।

    ৩. জাতীয় ঐক্য: দাবিগুলো সাধারণ বাঙালির মনে স্বাধিকার চেতনা জাগিয়ে তোলে এবং ১৯৬৯-এর গণঅভ্যুত্থান, ১৯৭০-এর নির্বাচন ও ১৯৭১-এর মুক্তিযুদ্ধের পথ প্রশস্ত করে।

    সুতরাং, ছয় দফা বাঙালির মুক্তির পথনির্দেশক হিসেবে জাতীয় মুক্তির প্রামাণ্য দলিল।

আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও

সম্পর্কিত প্রশ্ন