বাংলা ১ম পত্র • Barishal Board • বরিশাল বোর্ড ২০২২
বাংলা ১ম পত্র প্রশ্ন
১৯৪৭ সালে ইংরেজ শাসনের অবসানের পর পাকিস্তান ও ভারত নামে দুটি স্বাধীন রাষ্ট্রের জন্ম হয়। পাকিস্তানি শাসকগোষ্ঠী বাঙালিদের ওপর বৈষম্যনীতি শুরু করে। তারা পাকিস্তানের সংখ্যাগরিষ্ঠ মানুষের ভাষাকে বাদ দিয়ে উর্দুকে রাষ্ট্রভাষা করার ষড়যন্ত্রে লিপ্ত হয়। কিন্তু এদেশের ছাত্র-শিক্ষকসহ আপামর জনতা এর বিরুদ্ধে তীব্র বিক্ষোভ করে এবং বুকের তাজা রক্ত বিসর্জন দেয়।
- ক)(1)
শূন্য থালা হাতে পথের ধারে কে বসেছিল?
- খ)(2)
"আর কতবার ভাসতে হবে রক্তগঙ্গায়" বলতে কবি কী বুঝিয়েছেন?
- গ)(3)
উদ্দীপকে পাকিস্তানি শাসকগোষ্ঠীর আচরণে 'তোমাকে পাওয়ার জন্যে, হে স্বাধীনতা' কবিতার যে দিকটি প্রতিফলিত হয়েছে তা ব্যাখ্যা করো।
- ঘ)(4)
"উদ্দীপকের ছাত্র-শিক্ষকসহ আপামর জনতার ভূমিকাই 'তোমাকে পাওয়ার জন্যে, 'হে স্বাধীনতা' কবিতার কবির মনে আশা জাগিয়েছে"-মূল্যায়ন করো।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- খ)
'আর কতবার ভাসতে হবে রক্তগঙ্গায়' বলতে কবি বুঝিয়েছেন, স্বাধীনতা পাওয়ার জন্য বাঙালিকে বারবার রক্ত দিতে হয়েছে এবং আরও কত রক্ত দিতে হবে সেই আক্ষেপ। ভাষা আন্দোলন, গণ-আন্দোলন ও মুক্তিযুদ্ধে অসংখ্য মানুষ প্রাণ দিয়েছে। এই চরণে স্বাধীনতার জন্য বাঙালির অবিরাম আত্মত্যাগ ও কবির মনের ক্ষোভ প্রকাশ পেয়েছে।
- গ)
উদ্দীপকে পাকিস্তানি শাসকগোষ্ঠীর আচরণে 'তোমাকে পাওয়ার জন্যে, হে স্বাধীনতা' কবিতার বাঙালির প্রতি বৈষম্য, শোষণ ও নিপীড়নের দিকটি প্রতিফলিত হয়েছে।
ব্যাখ্যা: কবিতায় বাঙালিকে স্বাধীনতার জন্য বারবার সংগ্রাম করতে হয়েছে, কারণ শাসকরা তাদের ন্যায্য অধিকার দেয়নি। উদ্দীপকে পাকিস্তানি শাসকরা বাঙালির ওপর বৈষম্যনীতি চালিয়েছে এবং সংখ্যাগরিষ্ঠের ভাষা বাংলাকে বাদ দিয়ে উর্দুকে রাষ্ট্রভাষা করতে চেয়েছে। এভাবে তারা বাঙালির ভাষা ও অধিকারের ওপর আঘাত করেছে, যার পরিণামে রক্তপাত ঘটেছে। কবিতাতেও এই শোষণ ও নিপীড়নের কথা এসেছে।
- ঘ)
উদ্দীপকের ছাত্র-শিক্ষকসহ আপামর জনতার ভূমিকাই কবির মনে আশা জাগিয়েছে, মন্তব্যটি যথার্থ।
১. প্রতিবাদী মানুষ: উদ্দীপকে ছাত্র-শিক্ষক ও সাধারণ মানুষ অন্যায়ের বিরুদ্ধে তীব্র বিক্ষোভ করেছে। এই সম্মিলিত প্রতিরোধ কবিকে বিশ্বাস দেয় যে বাঙালি অন্যায়ের কাছে মাথা নত করবে না।
২. আত্মত্যাগ: তারা বুকের তাজা রক্ত দিয়েছে। কবিতায় স্বাধীনতার জন্য এই ত্যাগই কবির আশার ভিত্তি।
৩. সংগ্রামের ধারাবাহিকতা: ভাষা আন্দোলনের এই সংগ্রাম পরবর্তী আন্দোলনের পথ তৈরি করেছে এবং কবির স্বাধীনতার স্বপ্নকে এগিয়ে নিয়েছে।সুতরাং, সম্মিলিত প্রতিরোধ ও আত্মত্যাগই কবির মনে স্বাধীনতার আশা জাগিয়েছে।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও