পৌরনীতি ও নাগরিকতা • Chattogram Board • চট্টগ্রাম বোর্ড ২০২৫
পৌরনীতি ও নাগরিকতা প্রশ্ন
সরকারব্যবস্থা নিয়ে রনি ও রাহাত আলোচনা করছিল। রাষ্ট্র পরিচালনার জন্য প্রত্যেক রাষ্ট্রের একটি সরকারব্যবস্থা আছে। রনি রাহাতকে বলল গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রের দুই ধরনের সরকারব্যবস্থা দেখা যায়। রনি অভিমত ব্যক্ত করল যে কোনো কোনো গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রের সব শাসনকার্যের কেন্দ্রবিন্দু প্রধানমন্ত্রী। সংসদের প্রাধান্য এখানে থাকে। অন্য এক প্রকারের সরকারের কথা বললেন, রাহাত। সে বলল, আর এক প্রকার সরকার আছে সেখানে রাষ্ট্রপতি সব ক্ষমতার অধিকারী। রাষ্ট্রপতি পূর্ণ মেয়াদে ক্ষমতায় থাকতে পারেন।
- ক)(1)
রাষ্ট্র গঠনের অন্যতম প্রধান উপাদান কোনটি?
- খ)(2)
গণতন্ত্র কীভাবে নাগরিকের রাজনৈতিক সচেতনতা বৃদ্ধি করে?
- গ)(3)
রনির বক্তব্য কোন প্রকারের সরকারের নির্দেশ করে? ব্যাখ্যা করো।
- ঘ)(4)
রাহাতের উল্লিখিত সরকারব্যবস্থায় স্থিতিশীল শাসন বিদ্যমান মূল্যায়ন করো।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
রাষ্ট্র গঠনের চারটি উপাদান হলো জনসমষ্টি, নির্দিষ্ট ভূখণ্ড, সরকার ও সার্বভৌমত্ব; এর মধ্যে সার্বভৌমত্ব রাষ্ট্রের অপরিহার্য ও সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ উপাদান।
- খ)
গণতন্ত্রে নাগরিকরা ভোটাধিকার প্রয়োগ করে সরকার নির্বাচিত করে, ফলে তারা রাষ্ট্রের কাজ ও সরকারের নীতি সম্পর্কে জানতে আগ্রহী হয়।
মতপ্রকাশ, সভা-সমিতি ও রাজনৈতিক দল গঠনের স্বাধীনতা থাকায় তারা আলোচনা ও সমালোচনায় অংশ নেয়। নির্বাচনী প্রচারণা, বিরোধী দল ও গণমাধ্যমের মাধ্যমেও নাগরিকরা নিজেদের অধিকার ও দায়িত্ব সম্পর্কে সচেতন হয়।
- গ)
রনির বক্তব্য সংসদীয় সরকারের নির্দেশ করে।
উদ্দীপকে রনি বলেছে, সব শাসনকার্যের কেন্দ্রবিন্দু প্রধানমন্ত্রী এবং সংসদের প্রাধান্য থাকে। সংসদীয় সরকারে রাষ্ট্রপতি বা রাজা নামমাত্র প্রধান থাকেন এবং প্রকৃত শাসনক্ষমতা প্রধানমন্ত্রী ও তাঁর মন্ত্রিসভার হাতে থাকে। মন্ত্রিসভা তাদের কাজের জন্য সংসদের কাছে দায়ী থাকে এবং সংসদের আস্থা হারালে পদত্যাগ করতে হয়। বাংলাদেশে এই ধরনের সরকারব্যবস্থা প্রচলিত রয়েছে।
- ঘ)
রাহাতের উল্লিখিত সরকারব্যবস্থা রাষ্ট্রপতিশাসিত সরকার, যেখানে রাষ্ট্রপতি সব ক্ষমতার অধিকারী এবং পূর্ণ মেয়াদে ক্ষমতায় থাকেন। এ ব্যবস্থায় স্থিতিশীল শাসন বিদ্যমান থাকে।
১. নির্দিষ্ট মেয়াদ: রাষ্ট্রপতি নির্দিষ্ট মেয়াদের জন্য নির্বাচিত হন এবং আইনসভার অনাস্থায় সাধারণভাবে পদচ্যুত হন না। ফলে সরকার পতনের ঝুঁকি কম।
২. ক্ষমতা পৃথকীকরণ: শাসন, আইন ও বিচার বিভাগ আলাদা থাকায় কোনো বিভাগ অন্য বিভাগের ওপর অতিরিক্ত নির্ভর করে না।
৩. দ্রুত ও দৃঢ় সিদ্ধান্ত: ক্ষমতা এক ব্যক্তির হাতে থাকায় জরুরি অবস্থায় দ্রুত সিদ্ধান্ত নেওয়া যায়।
সীমাবদ্ধতা: তবে ক্ষমতা এক ব্যক্তির হাতে কেন্দ্রীভূত হলে স্বৈরাচারী হওয়ার ঝুঁকি থাকে।
সুতরাং, নির্দিষ্ট মেয়াদ ও ক্ষমতা পৃথকীকরণের কারণে রাষ্ট্রপতিশাসিত সরকারে স্থিতিশীল শাসন বিদ্যমান থাকে।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও