ফিন্যান্স ও ব্যাংকিং • Barishal Board • বরিশাল বোর্ড ২০২৪
ফিন্যান্স ও ব্যাংকিং প্রশ্ন
মি.রাতুল দুর্গাপূজা উপলক্ষ্যে 'A' ব্যাংক-থেকে কিছু নতুন টাকার নোট তুলে আনলে তার পঞ্চম শ্রেণি পড়ুয়া মেয়ে প্রত্যেকটি নোটের উপর 'B' ব্যাংকের নাম লেখা কেন তা জানতে চায়। তিনি তার মেয়ের প্রশ্নের জবাবে বলেন, 'B' ব্যাংক হচ্ছে দেশের' নোট ও মুদ্রা প্রচলনের ক্ষমতাপ্রাপ্ত একমাত্র প্রতিষ্ঠান। তাছাড়া এই ব্যাংক তার অধীনস্থ 'A' ব্যাংকের মতো অন্যান্য ব্যাংকসমূহের ঋণ নিয়ন্ত্রণসহ অন্যান্য ব্যাংকিং কার্যাবলিতে সহায়তা করে থাকে।
- ক)(1)
কোন ব্যাংক আন্তর্জাতিক পর্যায়ে সরকারের প্রতিনিধি হিসেবে কাজ করে?
- খ)(2)
বাণিজ্যিক ব্যাংক কেন্দ্রীয় ব্যাংকে রিজার্ভ হিসেবে কী জমা রাখে? ব্যাখ্যা করো।
- গ)(3)
উদ্দীপকের 'A' ব্যাংক কোন ধরনের ব্যাংক? বর্ণনা করো।
- ঘ)(4)
'B' ব্যাংক তার অধীনস্থ 'A' ব্যাংকসমূহের ঋণ নিয়ন্ত্রণের মাধ্যমে মূল্যস্তর স্থিতিশীল রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে- মূল্যায়ন করো।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
কেন্দ্রীয় ব্যাংক আন্তর্জাতিক পর্যায়ে সরকারের প্রতিনিধি হিসেবে কাজ করে।
- খ)
বাণিজ্যিক ব্যাংক তার মোট আমানতের একটি নির্দিষ্ট শতাংশ নগদ অর্থ কেন্দ্রীয় ব্যাংকে রিজার্ভ বা সংরক্ষিত তহবিল হিসেবে জমা রাখে।
এই জমাকে নগদ জমার অনুপাত (CRR) বলা হয়। আইন অনুযায়ী এটি জমা রাখা বাধ্যতামূলক। এর ফলে আমানতকারীর স্বার্থ সুরক্ষিত থাকে এবং কেন্দ্রীয় ব্যাংক এই অনুপাত বাড়িয়ে বা কমিয়ে ব্যাংকের ঋণদান ক্ষমতা নিয়ন্ত্রণ করতে পারে।
- গ)
উদ্দীপকে B ব্যাংক নোট ও মুদ্রা প্রচলনের একমাত্র ক্ষমতাপ্রাপ্ত প্রতিষ্ঠান এবং অন্য ব্যাংকগুলোর ঋণ নিয়ন্ত্রণ করে, তাই B ব্যাংক কেন্দ্রীয় ব্যাংক। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের অধীনস্থ A ব্যাংক একটি বাণিজ্যিক ব্যাংক।
বাণিজ্যিক ব্যাংক জনগণের কাছ থেকে চলতি, সঞ্চয়ী ও স্থায়ী আমানত গ্রহণ করে এবং ব্যবসায়ী ও অন্যদের ঋণ দিয়ে মুনাফা অর্জন করে। এটি চেক, ড্রাফট ইত্যাদির মাধ্যমে লেনদেনও সহজ করে। উদ্দীপকে A ব্যাংক মি. রাতুলকে নতুন নোট দিয়েছে, যা বাণিজ্যিক ব্যাংকের গ্রাহকসেবার উদাহরণ।
- ঘ)
উদ্দীপকের B ব্যাংক একটি কেন্দ্রীয় ব্যাংক, যা অধীনস্থ বাণিজ্যিক ব্যাংক A-এর ঋণ নিয়ন্ত্রণ করে। আমি মনে করি এর মাধ্যমে দেশের মূল্যস্তর স্থিতিশীল রাখতে কেন্দ্রীয় ব্যাংক গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
১. মুদ্রাস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ: দ্রব্যমূল্য বাড়তে থাকলে কেন্দ্রীয় ব্যাংক ব্যাংক রেট ও নগদ জমার অনুপাত বাড়ায় এবং খোলাবাজারে সরকারি সিকিউরিটিজ বিক্রি করে। এতে বাণিজ্যিক ব্যাংকের ঋণ দেওয়ার ক্ষমতা কমে, বাজারে অর্থের যোগান কমে এবং দাম কমে।
২. মুদ্রা সংকোচন রোধ: বাজারে মুদ্রার যোগান কমে গেলে তারা ব্যাংক রেট ও রিজার্ভের অনুপাত কমায়। ফলে ঋণ বাড়ে, বিনিয়োগ ও উৎপাদন বাড়ে এবং দামের পতন রোধ হয়।
৩. নির্দেশনা ও তদারকি: বাণিজ্যিক ব্যাংকের ঋণ ও বিনিয়োগ কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নির্দেশনায় পরিচালিত হয়, তাই অতিরিক্ত ঋণ সৃষ্টি হতে পারে না।সুতরাং, ঋণ নিয়ন্ত্রণের মাধ্যমে মুদ্রার যোগান ঠিক রেখে B ব্যাংক মূল্যস্তর স্থিতিশীল রাখে।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও