ভূগোল এবং পরিবেশ • Barishal Board • বরিশাল বোর্ড ২০২৫
ভূগোল এবং পরিবেশ প্রশ্ন
দৃশ্যকল্প-১: নাবিলা পাঠ্যবই পড়ে জেনেছে, সমুদ্রের পানি একটি নির্দিষ্ট গতিপথ অনুসরণ করে নিয়মিতভাবে চলাচল করে।দৃশ্যকল্প-২: নাইম চট্টগ্রামের পতেঙ্গার বাসিন্দা। সে প্রতিদিন সকালে দেখে সমুদ্রের পানি ফুলে উঠে তাদের বাড়ির কাছে চলে আসে। আবার বিকেলে ঐ পানি নেমে গিয়ে দূরে সরে যায়।
- ক)(1)
মহাসাগর কাকে বলে?
- খ)(2)
মহীসোপান কেন গুরুত্বপূর্ণ? ব্যাখ্যা করো।
- গ)(3)
দৃশ্যকল্প-১ এ বর্ণিত ঘটনার কারণ ব্যাখ্যা করো।
- ঘ)(4)
দৃশ্যকল্প-১ এ বর্ণিত ঘটনার কারণ ব্যাখ্যা করো।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
বারিমণ্ডলের উন্মুক্ত বিস্তীর্ণ বিশাল লবণাক্ত জলরাশিকে মহাসাগর বলে।
- খ)
মহীসোপান হলো মহাদেশের চারদিকে সমুদ্রের অগভীর (সর্বোচ্চ গভীরতা ১৫০ মিটার) অংশ। এর পানিতে সূর্যের আলো পৌঁছায় এবং প্রচুর প্ল্যাংকটন জন্মায়, যা মাছের প্রিয় খাদ্য।
তাই মহীসোপান অঞ্চল পৃথিবীর শ্রেষ্ঠ মাছ আহরণ ক্ষেত্র। এছাড়া এখানে সামুদ্রিক সম্পদ ও খনিজ সম্পদ আহরণ এবং জাহাজ চলাচলের সুবিধা পাওয়া যায়। এ কারণে মহীসোপান গুরুত্বপূর্ণ। - গ)
দৃশ্যকল্প-১-এ সমুদ্রের পানির নির্দিষ্ট গতিপথে চলাচল অর্থাৎ সমুদ্রস্রোতের কথা বলা হয়েছে। এর প্রধান কারণগুলো হলো-
১. নিয়ত বায়ুপ্রবাহ: অয়ন বায়ু, পশ্চিমা বায়ু ও মেরু বায়ু সমুদ্রের উপরিভাগের পানির সাথে ঘর্ষণ সৃষ্টি করে স্রোতের দিক ও গতি নিয়ন্ত্রণ করে। এটিই প্রধান কারণ।
২. পৃথিবীর আহ্নিক গতি: আহ্নিক গতির ফলে ফেরেলের সূত্র অনুসারে সমুদ্রের পানি উত্তর গোলার্ধে ডানে এবং দক্ষিণ গোলার্ধে বামে বেঁকে যায়।
৩. তাপমাত্রার পার্থক্য: নিরক্ষীয় অঞ্চলের উষ্ণ পানি উপরের অংশ দিয়ে মেরুর দিকে এবং মেরু অঞ্চলের শীতল ভারী পানি নিচের অংশ দিয়ে নিরক্ষীয় অঞ্চলের দিকে প্রবাহিত হয়। - ঘ)
প্রশ্নে দৃশ্যকল্প-১-এর ঘটনার (সমুদ্রস্রোত) কারণই জানতে চাওয়া হয়েছে। এর কারণগুলো নিচে বিশ্লেষণ করা হলো।
সমুদ্রের পানি একটি নির্দিষ্ট গতিপথ অনুসরণ করে প্রবাহিত হওয়াকে সমুদ্রস্রোত বলে। এর কারণ একাধিক।
১. নিয়ত বায়ুপ্রবাহ: অয়ন, পশ্চিমা ও মেরু বায়ু পানির উপরিভাগে ঘর্ষণ সৃষ্টি করে। এতে স্রোতের সৃষ্টি হয় এবং দিক ও গতি নির্ধারিত হয়। এটিই প্রধান কারণ।
২. পৃথিবীর আহ্নিক গতি: আবর্তনের ফলে স্রোত উত্তর গোলার্ধে ডানদিকে এবং দক্ষিণ গোলার্ধে বামদিকে বেঁকে যায়।
৩. তাপমাত্রার পার্থক্য: উষ্ণ পানি উপরিভাগ দিয়ে মেরুর দিকে এবং শীতল ভারী পানি তলদেশ দিয়ে নিরক্ষীয় অঞ্চলের দিকে যায়, ফলে উষ্ণ ও শীতল স্রোত সৃষ্টি হয়।
৪. লবণাক্ততার পার্থক্য: অধিক লবণাক্ত পানি ভারী ও বেশি ঘনত্বের হয়। এটি কম ঘনত্বের দিকে নিম্ন প্রবাহরূপে প্রবাহিত হয়।
৫. ভূখণ্ডের অবস্থান: স্রোতের পথে মহাদেশ বা দ্বীপ থাকলে স্রোত বাধা পেয়ে দিক পরিবর্তন করে অথবা একাধিক শাখায় ভাগ হয়ে যায়।সুতরাং, বায়ুপ্রবাহ, আহ্নিক গতি, তাপমাত্রা ও লবণাক্ততার পার্থক্য এবং ভূখণ্ডের অবস্থানের সম্মিলিত প্রভাবে সমুদ্রস্রোতের সৃষ্টি হয়।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও