অর্থনীতি • Cumilla Board • কুমিল্লা বোর্ড ২০২৫

অর্থনীতি প্রশ্ন

ডলি বেগম একটি গার্মেন্টস কারখানায় চাকরি করতেন। তিনি ব্যবসার উদ্দেশ্যে চাকরি ছেড়ে দেন এবং দুই মাস পর একটি বুটিকশিল্প গড়ে তোলেন এবং তা থেকেই তিনি জীবিকানির্বাহ করেন। তিনি একদিন টিভি চ্যানেলে দেখেন তার দেশের গড় জাতীয় আয় দিন দিন বাড়ছে। ফলে জনগণের জীবনযাত্রার মানও ক্রমান্বয়ে উন্নত হচ্ছে।

  1. ক)

    অর্থনৈতিক উন্নয়ন কী?

    (1)
  2. খ)

    মৌসুমি বেকারত্ব বলতে কী বোঝায়?

    (2)
  3. গ)

    উদ্দীপকের ডলি বেগমকে কোন ধরনের বেকার বলা যায়? ব্যাখ্যা করো।

    (3)
  4. ঘ)

    উদ্দীপকে উল্লিখিত ডলির দেশটি উন্নয়নের কোন পর্যায়ের দেশ তা উল্লেখ করে এর বৈশিষ্ট্যগুলো আলোচনা-করো।

    (4)

উত্তর ও ব্যাখ্যা

  1. ক)

    অর্থনৈতিক উন্নয়ন হলো এমন একটি প্রক্রিয়া, যার মাধ্যমে দেশের মাথাপিছু প্রকৃত আয় বৃদ্ধির সাথে সাথে অর্থনৈতিক ও সামাজিক কাঠামোয় ইতিবাচক পরিবর্তন ঘটে।

  2. খ)

    বছরের নির্দিষ্ট কিছু মৌসুমে কাজ থাকে এবং বাকি সময় কাজ থাকে না, এমন অবস্থায় যে বেকারত্ব দেখা দেয়, তাকে মৌসুমি বেকারত্ব বলে। কৃষিতে এটি বেশি দেখা যায়। যেমন, ধান রোপণ ও কাটার সময় কৃষকদের কাজ থাকে, কিন্তু অন্য সময় তাদের কাজ থাকে না।

  3. গ)

    উদ্দীপকের ডলি বেগমকে সাময়িক বেকার বলা যায়।

    ব্যাখ্যা: কোনো ব্যক্তি এক কাজ ছেড়ে অন্য কাজে যোগ দেওয়ার মধ্যবর্তী অল্প সময়ে কর্মহীন থাকলে তাকে সাময়িক বেকার বলে। ডলি বেগম গার্মেন্টসের চাকরি ছেড়ে দিয়ে দুই মাস পর বুটিকশিল্প গড়ে তোলেন। এই দুই মাসের সময়টি ছিল এক কাজ ছেড়ে নতুন কাজ শুরুর মধ্যবর্তী স্বল্প সময়। এই সময়ে তিনি সাময়িকভাবে কর্মহীন ছিলেন। তাই তাকে সাময়িক বেকার বলা যায়।

  4. ঘ)

    উদ্দীপকে বলা হয়েছে, ডলির দেশে গড় জাতীয় আয় ক্রমশ বাড়ছে এবং জনগণের জীবনযাত্রার মান ধীরে ধীরে উন্নত হচ্ছে। এটি উন্নয়নশীল দেশের বৈশিষ্ট্য। উন্নয়নশীল দেশের বৈশিষ্ট্যগুলো নিচে আলোচনা করা হলো।

    ১. মাথাপিছু আয় তুলনামূলক কম: উন্নত দেশের তুলনায় আয় কম হলেও তা ধীরে ধীরে বাড়ে।
    ২. কৃষিনির্ভরতা: জনসংখ্যার একটি বড় অংশ কৃষির ওপর নির্ভরশীল থাকে, যদিও শিল্প ও সেবা খাত ক্রমে প্রসারিত হয়।
    ৩. বেকারত্ব ও দারিদ্র্য: বিপুল জনসংখ্যার কারণে বেকারত্ব ও দারিদ্র্য বিদ্যমান থাকে।
    ৪. মূলধন ও প্রযুক্তির স্বল্পতা: মূলধনের ঘাটতি ও প্রযুক্তিগত পিছিয়ে থাকা দেখা যায়।
    ৫. উন্নয়নের প্রচেষ্টা: শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও উৎপাদন বাড়ানোর মাধ্যমে জীবনযাত্রার মান ধীরে ধীরে উন্নত হয়।

    সুতরাং, গড় আয় বৃদ্ধি ও জীবনযাত্রার ক্রমোন্নতি দেখে ডলির দেশকে উন্নয়নশীল দেশ বলা যায়।

আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও

সম্পর্কিত প্রশ্ন