বাংলা ২য় পত্র • Dinajpur Board • দিনাজপুর বোর্ড ২০২৪

বাংলা ২য় পত্র প্রশ্ন

যেকোনো একটি বিষয়ে প্রবন্ধ রচনা করো:

1.1.

(ক) বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধ

1.2.

(খ) কৃষিকাজে বিজ্ঞান

1.3.

(গ) রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন

উত্তর ও ব্যাখ্যা

(ক) বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধ

ভূমিকা
বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধ আমাদের জাতীয় জীবনের সবচেয়ে গৌরবোজ্জ্বল অধ্যায়। দীর্ঘ শোষণ-বঞ্চনা ও নির্যাতনের বিরুদ্ধে বাঙালি জাতি ১৯৭১ সালে অস্ত্র হাতে তুলে নেয়। নয় মাসের রক্তক্ষয়ী যুদ্ধের মধ্য দিয়ে আমরা একটি স্বাধীন ও সার্বভৌম রাষ্ট্র লাভ করি।

যুদ্ধের পটভূমি
১৯৪৭ সালে পাকিস্তান সৃষ্টির পর থেকেই পূর্ব বাংলার মানুষ অর্থনৈতিক, রাজনৈতিক ও সাংস্কৃতিক বৈষম্যের শিকার হয়। ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলন, ১৯৬২-র শিক্ষা আন্দোলন, ১৯৬৬-র ছয় দফা আন্দোলন এবং ১৯৬৯-এর গণ-অভ্যুত্থান স্বাধিকার চেতনাকে তীব্র করে। ১৯৭০ সালের সাধারণ নির্বাচনে আওয়ামী লীগ নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেলেও পাকিস্তানি শাসকগোষ্ঠী ক্ষমতা হস্তান্তর করতে অস্বীকার করে। ১৯৭১ সালের ৭ মার্চ বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান রেসকোর্স ময়দানে ঐতিহাসিক ভাষণে ঘোষণা করেন, 'এবারের সংগ্রাম আমাদের মুক্তির সংগ্রাম, এবারের সংগ্রাম স্বাধীনতার সংগ্রাম।'

যুদ্ধের সূচনা ও গতি
২৫ মার্চ রাতে পাকিস্তানি বাহিনী নিরস্ত্র বাঙালির ওপর অতর্কিত আক্রমণ চালায় (অপারেশন সার্চলাইট)। এরপর ২৬ মার্চ স্বাধীনতার ঘোষণা দেওয়া হয়। ১৭ এপ্রিল মুজিবনগরে অস্থায়ী সরকার শপথ গ্রহণ করে। মুক্তিবাহিনী, ছাত্র-শিক্ষক, কৃষক-শ্রমিকসহ আপামর জনতা সম্মিলিতভাবে যুদ্ধে অংশ নেয়। দেশের অভ্যন্তরে ও সীমান্তে গেরিলা যুদ্ধ চলতে থাকে। বহু নারী নির্যাতিত হন এবং লক্ষ লক্ষ মানুষ শরণার্থী হয়ে প্রতিবেশী দেশে আশ্রয় নেয়।

বিজয় অর্জন
নয় মাস যুদ্ধের পর ১৯৭১ সালের ১৬ ডিসেম্বর পাকিস্তানি বাহিনী ঢাকার রেসকোর্স ময়দানে আত্মসমর্পণ করে এবং বাংলাদেশ বিজয় অর্জন করে। এ যুদ্ধে প্রায় ত্রিশ লক্ষ মানুষ শহিদ হন।

মুক্তিযুদ্ধের চেতনা
মুক্তিযুদ্ধের চেতনা হলো গণতন্ত্র, ধর্মনিরপেক্ষতা, সাম্য ও মানবিক মর্যাদা। আমাদের উচিত এ চেতনা ধারণ করে দেশ গড়ার কাজে আত্মনিয়োগ করা।

উপসংহার
মুক্তিযুদ্ধ আমাদের অহংকার ও প্রেরণার উৎস। শহিদদের আত্মত্যাগের কথা শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করে আমাদের উচিত তাঁদের স্বপ্নের সোনার বাংলা গড়ে তোলা।

আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও

সম্পর্কিত প্রশ্ন