হিন্দু ধর্ম • Mymensingh Board • ময়মনসিংহ বোর্ড ২০২৪
হিন্দু ধর্ম প্রশ্ন
দীপক চক্রবর্তীর মায়ের মৃত্যুর পর অশৌচ পালন করে তার আত্মার প্রতি শ্রদ্ধা প্রদর্শন করা হয়। অশৌচ পালন শেষে তিনি একাদশ দিবসে পিন্ডদান করে শ্রাদ্ধানুষ্ঠান করেন। উক্ত অনুষ্ঠানটির মাধ্যমে সমাজে সামগ্রিক ঐক্য ও সম্প্রীতির বন্ধন সৃষ্টি হয়।
- ক)(1)
বিবাহ কাকে বলে?
- খ)(2)
বৃদ্ধিশ্রাদ্ধ বলতে কী বোঝায়?
- গ)(3)
দীপক চক্রবর্তীর মায়ের অশৌচ পালনের যৌক্তিকতা তোমার পাঠ্যবিষয়ের আলোকে বর্ণনা করো।
- ঘ)(4)
দীপক চক্রবতীর মায়ের শ্রাদ্ধানুষ্ঠানের গুরুত্ব পাঠের আলোকে বিশ্লেষণ করো।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
যৌবনে বেদমন্ত্র ও হোম প্রভৃতির মাধ্যমে মন্ত্রোচ্চারণপূর্বক বর ও বধূর যে মিলন ঘটে, সেই সংস্কারকে বিবাহ বলে।
- খ)
বিবাহের দিন কিংবা তার আগের দিন বর ও কনে উভয়পক্ষ নিজ নিজ ঘরে পূর্বপুরুষদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করে তাঁদের আশীর্বাদ কামনা করে। উভয় কুলের পিতৃপুরুষদের উদ্দেশে এই শ্রাদ্ধতর্পণ করাকে বৃদ্ধিশ্রাদ্ধ বলে। এর মাধ্যমে নবদম্পতির জীবন যেন পূর্বপুরুষদের আশীর্বাদে সুখী ও শুভ হয়, সেই কামনা করা হয়।
- গ)
দীপক চক্রবর্তীর মায়ের মৃত্যুর পর পালিত অশৌচ শাস্ত্রসম্মত এবং এর যথেষ্ট যৌক্তিকতা আছে।
'শৌচ' শব্দের অর্থ শুচিতা, তাই 'অশৌচ' অর্থ শুচিতা বা পবিত্রতার অভাব। মাতা-পিতা বা জ্ঞাতিবর্গের মৃত্যুতে আমাদের মন শোকে আচ্ছন্ন হয় এবং চিত্ত সাধন-ভজনের উপযোগী থাকে না। কোনো কোনো ঋষির মতে এই সময়কে 'ব্রহ্মচর্য' কাল বলাও যায়। অশৌচকালে হবিষ্যান্ন বা ফলফলাদি খেয়ে কঠোর সংযম পালন করতে হয় এবং শ্রাদ্ধের উপযুক্ততা অর্জন করতে হয়।
অশৌচ পালনের যৌক্তিকতা হলো:
১. পিতা-মাতার চির অনুপস্থিতি সন্তানকে বিচলিত করে। বিচলিত মনে ঈশ্বরের প্রতি একাগ্রতা আসে না, শান্ত মন দরকার। এজন্য সময়ের প্রয়োজন, আর এই প্রস্তুতির জন্য অশৌচ পালন কর্তব্য। এতে মন ধীরে ধীরে শান্ত হয়।
২. মৃত ব্যক্তির পরিবার ও জ্ঞাতিবর্গ অশৌচ পালন করে তাঁর আত্মার প্রতি শ্রদ্ধা প্রদর্শন করেন।দীপক চক্রবর্তী মায়ের মৃত্যুর পর অশৌচ পালন করে মায়ের আত্মার প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়েছেন এবং একাদশ দিবসে শ্রাদ্ধ করেছেন। অতএব, তাঁর অশৌচ পালন মানসিক প্রস্তুতি ও শ্রদ্ধা প্রদর্শন উভয় দিক থেকেই যৌক্তিক।
- ঘ)
দীপক চক্রবর্তী অশৌচ শেষে একাদশ দিবসে পিণ্ডদানসহ মায়ের যে শ্রাদ্ধানুষ্ঠান করেছেন, তা আদ্যশ্রাদ্ধ। পারিবারিক, সামাজিক ও ধর্মীয় জীবনে এর গুরুত্ব অপরিসীম।
কোনো ব্যক্তির মৃত্যুর পর প্রথমে যে শ্রাদ্ধ করণীয় তাকে আদ্যশ্রাদ্ধ বলে। অশৌচকাল শেষ হওয়ার পরদিন এটি অনুষ্ঠিত হয়। একজন মৃত ব্যক্তির উদ্দেশে অনুষ্ঠিত হয় বলে এর পূর্ণ নাম আদ্য একোদ্দিষ্ট শ্রাদ্ধ। এতে মৃত ব্যক্তির নামে আসন, ছাতা, পাদুকা, বস্ত্র, অন্ন, জল, মালা প্রভৃতি মন্ত্রোচ্চারণসহ উৎসর্গ করা হয় এবং শেষে পিণ্ডদান করা হয়। গীতা ও মহাভারতের বিরাট পর্ব পাঠেরও বিধান আছে।
১. ধর্মীয় গুরুত্ব: শ্রদ্ধার সঙ্গে দান ও মন্ত্রোচ্চারণের মাধ্যমে মৃত ব্যক্তির আত্মার প্রতি শ্রদ্ধা জানানো হয় ও তাঁর আত্মার শান্তি কামনা করা হয়। এটি শাস্ত্রীয় কর্তব্যও বটে।
২. পারিবারিক গুরুত্ব: পরিবার ও জ্ঞাতিবর্গ একত্র হয়ে এই শ্রদ্ধা নিবেদন করেন। এতে দুঃখে একাত্মতা তৈরি হয় এবং পারিবারিক বন্ধন দৃঢ় হয়।
৩. সামাজিক গুরুত্ব: পাড়া-প্রতিবেশী ও আত্মীয়স্বজন মৃত ব্যক্তির পরিবারের দুঃখের সঙ্গে একাত্ম হন। সকলে সমব্যথী হয়। এই অনুষ্ঠান আত্মীয়স্বজনের একটি মিলনমেলাও বটে। পরস্পরের প্রতি শ্রদ্ধা ও ভালোবাসা বাড়ে।
৪. ঐক্য ও সম্প্রীতি: উদ্দীপকে বলা হয়েছে এই অনুষ্ঠানের মাধ্যমে সমাজে সামগ্রিক ঐক্য ও সম্প্রীতির বন্ধন সৃষ্টি হয়, যা পাঠ্যবইয়ের বক্তব্যের সঙ্গে মিলে যায়। ভবিষ্যৎ প্রজন্মের মধ্যেও এর ফলে সামাজিকতার বীজ অঙ্কুরিত হয়।সুতরাং, দীপক চক্রবর্তীর মায়ের শ্রাদ্ধানুষ্ঠান ধর্মীয় কর্তব্য পালনের পাশাপাশি পারিবারিক ও সামাজিক বন্ধন, সহমর্মিতা ও সম্প্রীতি সৃষ্টিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও