হিন্দু ধর্ম • Dhaka Board • ঢাকা বোর্ড ২০২৩

হিন্দু ধর্ম প্রশ্ন

হরিভক্ত অভিক সবসময় শ্রী হরিকে ডাকে। সে সব কিছুর মধ্যেই শ্রী হরিকে দেখতে পায়। কিন্তু অভিকের বাবা রাজীব নিজেকে ক্ষমতাবান মনে করে। অভিকের হরিভক্তিতে রাজীব রেগে গিয়ে তাকে বিভিন্ন উপায়ে মেরে ফেলার চেষ্টা করে ব্যর্থ হয়। অভিক শ্রী হরির কৃপায় সকল বিপদ থেকে নিজেকে রক্ষা করে। অন্যদিকে দিলীপ বিদ্যালয়ের পাঠ শেষে বিকালে বাড়ি ফেরার সময় রাস্তার পাশে একটি ব্যাগ পড়ে থাকতে দেখে। ব্যাগে টাকা ছিল সাথে একটি পরিচয়পত্র। দিলীপ ব্যাগটি নিজে না নিয়ে মালিকের ঠিকানায় ব্যাগটি পৌঁছে দেয়। ব্যাগের মালিক টাকা পেয়ে খুবই খুশি হন।

  1. ক)

    নৈতিক মূল্যবোধ কাকে বলে?

    (1)
  2. খ)

    ধার্মিক ব্যক্তি সত্যপ্রিয় হয় কেন? ব্যাখ্যা করো।

    (2)
  3. গ)

    অভিকের কর্মকাণ্ডের সাথে পাঠ্যপুস্তকের কোন বালক চরিত্রের সাদৃশ্য আছে তা ব্যাখ্যা করো।

    (3)
  4. ঘ)

    উদ্দীপকে দিলীপের মধ্যে যে গুণটির প্রতিফলন ঘটেছে তা বিশ্লেষণ করো।

    (4)

উত্তর ও ব্যাখ্যা

  1. ক)

    কোনটি ভালো, কোনটি মন্দ বা কোনটি কল্যাণকর, কোনটি অকল্যাণকর তা বিচার করার যে বোধ বা বিবেচনাশক্তি, তাকে নৈতিক মূল্যবোধ বলে।

  2. খ)

    ধার্মিক ব্যক্তি ধর্মপথে চলেন, আর সত্য ধর্মের মূল ভিত্তি। তিনি জানেন মিথ্যা বলা অধর্ম এবং অধর্মে পাপ হয়। ধার্মিক ব্যক্তি ধীশক্তিসম্পন্ন ও নৈতিক মূল্যবোধে বলীয়ান। তাই তিনি কখনো সত্য থেকে দূরে সরে যান না। এ কারণে ধার্মিক ব্যক্তি সত্যপ্রিয় হন।

  3. গ)

    অভিকের কর্মকাণ্ডের সাথে পাঠ্যপুস্তকের বালক প্রহ্লাদ চরিত্রের সাদৃশ্য আছে।

    প্রহ্লাদ ছিলেন দৈত্যরাজ হিরণ্যকশিপুর পুত্র। হিরণ্যকশিপু নিজেকে ঈশ্বরের মতো ক্ষমতাবান ভাবতেন, কিন্তু প্রহ্লাদ ছিলেন শ্রী হরির পরম ভক্ত। পাঠে মন না বসিয়ে প্রহ্লাদ সব সময় হরিনাম করতেন এবং সবকিছুতে হরিকে দেখতেন। এতে ক্রুদ্ধ হয়ে পিতা তাঁকে বিষমিশ্রিত অন্ন খাওয়ানো, হাতির পায়ের নিচে ফেলা, বিষধর সাপের গর্তে নিক্ষেপ করা প্রভৃতি উপায়ে হত্যার চেষ্টা করেন। কিন্তু হরির কৃপায় প্রহ্লাদ প্রতিবার রক্ষা পান।

    উদ্দীপকে অভিক হরিভক্ত, সে সবকিছুর মধ্যে শ্রী হরিকে দেখতে পায়। তার বাবা রাজীব নিজেকে ক্ষমতাবান মনে করে এবং অভিকের হরিভক্তিতে রেগে গিয়ে তাকে বিভিন্ন উপায়ে মেরে ফেলার চেষ্টা করে ব্যর্থ হয়। অভিক হরির কৃপায় বিপদ থেকে রক্ষা পায়। এখানে অভিক-রাজীবের সম্পর্ক প্রহ্লাদ-হিরণ্যকশিপুর সম্পর্কের অনুরূপ।

    সুতরাং, ভক্তি ও অবিচল বিশ্বাসের কারণে অভিকের সাথে প্রহ্লাদের সাদৃশ্য রয়েছে।

  4. ঘ)

    উদ্দীপকে দিলীপের মধ্যে সততা গুণটির প্রতিফলন ঘটেছে। সততা হলো সৎ থাকা, অর্থাৎ অন্যের জিনিসে লোভ না করে সত্য ও ন্যায়ের পথে চলা। হিন্দুধর্মে বলা হয়েছে, “সততাই উৎকৃষ্ট পন্থা”। নৈতিক মূল্যবোধের বিচারে অন্যের দ্রব্য আত্মসাৎ করা অন্যায়, আর ধর্মের বিচারে তা অধর্ম।

    ১. লোভ সংবরণ: দিলীপ রাস্তার পাশে টাকাভর্তি ব্যাগ পেয়েছিল। নিজে নিয়ে নিলে কেউ জানত না। কিন্তু সে লোভ দমন করেছে। পাঠ্যপুস্তকের গরিব কাঠুরিয়াও সোনার কুঠার দেখে লোভ করেননি, কারণ তাতে ধর্ম নষ্ট হতো।
    ২. ব্যাগ ফেরত দেওয়া: ব্যাগে থাকা পরিচয়পত্র দেখে দিলীপ মালিকের ঠিকানায় ব্যাগ পৌঁছে দিয়েছে। এটি তার দায়িত্ববোধ ও অন্যের প্রতি সহমর্মিতা প্রকাশ করে।
    ৩. ধার্মিকের গুণ: ধার্মিক ব্যক্তি সত্যপ্রিয় ও ইন্দ্রিয়ের সংযমী। কাম, লোভ প্রভৃতি তাঁকে নিয়ন্ত্রণ করতে পারে না। দিলীপ ধর্মপথে থেকে লোভকে জয় করেছে।
    ৪. সুফল: ব্যাগের মালিক টাকা ফিরে পেয়ে খুশি হয়েছেন। সততার জন্য দিলীপ সমাজে প্রশংসা ও আস্থা অর্জন করবে এবং মনে শান্তি পাবে।

    সুতরাং, দিলীপের এই আচরণ সততার উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত, যা তাকে নৈতিক ও ধার্মিক আদর্শে প্রতিষ্ঠিত করেছে।

আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও

সম্পর্কিত প্রশ্ন