অর্থনীতি ২য় পত্র • Jashore Board • যশোর বোর্ড ২০১৭
অর্থনীতি ২য় পত্র প্রশ্ন
শিমুল সিলেট থেকে রংপুরে দাদু'র বাড়িতে বেড়াতে যায়। সে দেখে গত বছর যে সমস্ত জমিতে তামাক আবাদ হয়েছিল, সেখানকার অনেক জমিতে এবার ধান ও ভুট্টা আবাদ হয়েছে। বিষয়টি তাকে খুব আনন্দ দেয়।
- ক)(1)
কৃষি খামার কী?
- খ)(2)
চিংড়িকে সাদা সোনা বলা হয় কেন?
- গ)(3)
উদ্দীপকের আলোকে শস্য বহুমুখীকরণের প্রভাব আলোচনা করো।
- ঘ)(4)
উদ্দীপকের আলোকে শিমুর আনন্দ লাভের কারণ ব্যাখ্যা করো।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
একজন কৃষক বা একটি কৃষি পরিবারের অধীনে পরিচালিত কৃষি বিষয়ক একক উৎপাদন ইউনিট বা ক্ষেত্রকে কৃষি খামার বলে।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
আন্তর্জাতিক বাজারে বিপুল চাহিদা এবং প্রচুর বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনের ক্ষমতার কারণে প্রক্রিয়াজাত চিংড়িকে 'সাদা সোনা' বা 'হোয়াইট গোল্ড' বলা হয়।
বাংলাদেশের রপ্তানি পণ্যের মধ্যে হিমায়িত চিংড়ি অত্যন্ত মূল্যবান একটি খাত। চিংড়ির সাদাটে রঙ এবং বিশ্ববাজারে সোনার মতোই এর উচ্চ অর্থনৈতিক মূল্যের কারণে রূপক অর্থে চিংড়িকে 'সাদা সোনা' হিসেবে আখ্যায়িত করা হয়।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকের আলোকে শস্য বহুমুখীকরণের ফলে কৃষি অর্থনীতি ও পরিবেশের ওপর অত্যন্ত ইতিবাচক প্রভাব পড়ে।
একই জমিতে সারা বছর কেবল একক ফসল চাষ না করে ভিন্ন ভিন্ন ফসলের আবাদ করাকে শস্য বহুমুখীকরণ বলে। উদ্দীপকে দেখা যায়, রংপুরে পূর্বে যেখানে কেবল ক্ষতিকর তামাক আবাদ হতো, সেখানে বর্তমানে ধান ও ভুট্টার মতো লাভজনক খাদ্যশস্য আবাদ করা হচ্ছে।
এর ইতিবাচক প্রভাবগুলো নিম্নরূপ:
১. খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ: ধান ও ভুট্টার চাষ বৃদ্ধির ফলে দেশের খাদ্যশস্য উৎপাদন বাড়ে এবং জনগণের খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত হয়।
২. মাটির উর্বরতা রক্ষা: ক্রমাগত তামাক চাষ মাটির ক্ষতিকর রাসায়নিক শোষণ বাড়িয়ে উর্বরতা নষ্ট করে; শস্য পরিবর্তনের ফলে মাটির পুষ্টি ও উর্বরতা বজায় থাকে।
৩. কৃষকের ঝুঁকি হ্রাস: বহুমুখী ফসলের কারণে একক ফসলের ক্ষতি বা বাজারমূল্য পতনের ঝুঁকি হ্রাস পায় এবং কৃষকের আর্থিক নিরাপত্তা নিশ্চিত হয়।
অতএব, উদ্দীপকে বর্ণিত পরিবর্তনটি শস্য বহুমুখীকরণের সুফলকেই প্রতিফলিত করে। - ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকের আলোকে শিমুর আনন্দ লাভের মূল কারণ হলো ক্ষতিকর তামাক চাষের পরিবর্তে জনকল্যাণকর ও পুষ্টিকর খাদ্যশস্য (ধান ও ভুট্টা) আবাদের সূচনা প্রত্যক্ষ করা।
তামাক একটি অর্থকরী ফসল হলেও এর চাষাবাদ এবং ব্যবহার মানবস্বাস্থ্য ও পরিবেশের জন্য মারাত্মক ক্ষতিকর। তামাক চাষের ফলে জমির স্বাভাবিক উর্বরতা দ্রুত হ্রাস পায়, প্রচুর রাসায়নিক ও কীটনাশক ব্যবহারের ফলে পরিবেশ দূষিত হয় এবং স্থানীয় খাদ্যশস্যের উৎপাদন ব্যাহত হয়। পাশাপাশি তামাকজাত পণ্য মানবস্বাস্থ্যের জন্য ভয়াবহ ঝুঁকিপূর্ণ।
শিমুল একজন সচেতন ব্যক্তি হিসেবে দেখতে পায় যে রংপুরের জমিতে তামাকের পরিবর্তে ধান ও ভুট্টার আবাদ হয়েছে। এর ফলে:
১. মানুষের জীবনঘাতী তামাকের সরবরাহ ও বিস্তার সীমিত হওয়ার পথ সুগম হয়েছে।
২. মানুষের বেঁচে থাকার মৌলিক উপাদান তথা প্রধান খাদ্যশস্য ধান এবং পুষ্টিকর শস্য ভুট্টার উৎপাদন বাড়ছে, যা খাদ্য নিরাপত্তা ও পুষ্টি চাহিদা পূরণে সহায়ক।
৩. পরিবেশ ও মাটির স্বাস্থ্য সংরক্ষিত হচ্ছে এবং কৃষকরা টেকসই কৃষির দিকে অগ্রসর হচ্ছে।একটি ক্ষতিকর ফসলের বিকল্প হিসেবে পরিবেশবান্ধব ও জীবনরক্ষাকারী খাদ্যশস্যের ব্যাপক চাষ শিমুলের মধ্যে ইতিবাচক সামাজিক ও অর্থনৈতিক পরিবর্তনের আশা জাগিয়েছে, যা তার গভীর আনন্দ লাভের যথার্থ কারণ।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও