জীববিজ্ঞান ১ম পত্র • Cumilla Board • কুমিল্লা বোর্ড ২০১৭
জীববিজ্ঞান ১ম পত্র প্রশ্ন
সুন্দরবনের উদ্ভিদরাজির কিছু বিশেষ বৈশিষ্ট্য দেখে শিক্ষার্থীরা কৌতূহলী হয়ে ওঠে। শিক্ষক বললেন, এ বৈশিষ্ট্যগুলি এ সনাঞ্চলের একান্ত নিজস্ব। মধুপুর, রাজেন্দ্রপুর বনাঞ্চলের উদ্ভিদসমূহে এ বৈশিষ্ট্যগুলো পরিলক্ষিত হয় না।
- ক)(1)
সাভানা কী?
- খ)(2)
জলজ বায়োম বলতে কী বোঝায়?
- গ)(3)
উদ্দীপকে উল্লিখিত দ্বিতীয় বনাঞ্চল এর বৈশিষ্ট্যসমূহ লেখো।
- ঘ)(4)
"উদ্দীপকে উল্লিখিত প্রথম বনাঞ্চলটি প্রাকৃতিক দূর্যোগ থেকে আমাদের সুরক্ষা দেয়"- বিশ্লেষণ করো।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
সাভানা হলো বিক্ষিপ্ত ও বিচ্ছিন্নভাবে ছড়িয়ে থাকা গাছপালা বা ঝোপঝাড়যুক্ত ক্রান্তীয় অঞ্চলের দীর্ঘ ঘাসভূমির বায়োম।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
জলজ পরিবেশের ভৌত ও রাসায়নিক বৈশিষ্ট্যের সাথে অভিযোজিত উদ্ভিদ ও প্রাণীদের নিয়ে গড়ে ওঠা প্রাকৃতিক জীবমণ্ডলকে জলজ বায়োম বলে। এটি প্রধানত দুটি শ্রেণিতে বিভক্ত: মিঠাপানির বায়োম (যেমন: নদী, হ্রদ, পুকুর) এবং সামুদ্রিক বায়োম (যেমন: সাগর, মহাসাগর, মোহনা)।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকে উল্লিখিত দ্বিতীয় বনাঞ্চলটি হলো মধুপুর ও রাজেন্দ্রপুরের শালবন বা ক্রান্তীয় আর্দ্র পত্রঝরা (Deciduous) বনাঞ্চল। এর প্রধান বৈশিষ্ট্যসমূহ নিম্নে দেওয়া হলো:
১. প্রধান বৃক্ষ: এ বনের প্রধান উদ্ভিদ হলো শাল (Shorea robusta)। শালগাছ ছাড়াও এখানে বৈচি, পলাশ, কড়ই, আমলকী, হরিতকী ইত্যাদি বৃক্ষ দেখা যায়।
২. পত্রঝরা স্বভাব: এখানকার প্রধান উদ্ভিদসমূহ শীতকালে পাতা ঝরায় এবং বসন্তকালে নতুন পাতা গজায়।
৩. মাটি ও ভূপ্রকৃতি: এ বনাঞ্চলের মাটি সাধারণত লালচে, কাঁকরযুক্ত এবং লৌহসমৃদ্ধ উঁচুনীচু টিলাযুক্ত।
৪. স্তরবিন্যাস: বনে সুউচ্চ শালের ক্যানোপির নিচে মাঝারি আকারের উদ্ভিদ, গুল্ম এবং ভূমিসংলগ্ন লতাগুল্মের স্তরবিন্যাস দেখা যায়।
৫. জলবায়ু: মাঝারি বৃষ্টিপাত ও উষ্ণ গ্রীষ্মকাল এবং শুষ্ক শীতকাল এ বনের আবহাওয়ার বৈশিষ্ট্য। - ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকে উল্লিখিত প্রথম বনাঞ্চলটি হলো বিশ্বের বৃহত্তম ম্যানগ্রোভ বন 'সুন্দরবন'। প্রাকৃতিক দুর্যোগের বিরুদ্ধে সুন্দরবন প্রাকৃতিক ঢাল বা রক্ষাকবচ হিসেবে কাজ করে উপকূলীয় অঞ্চল তথা সমগ্র বাংলাদেশকে সুরক্ষা দেয়। নিচে এর ভূমিকা বিশ্লেষণ করা হলো:
১. ঘূর্ণিঝড় ও সাইক্লোনের গতিবেগ হ্রাস: বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট বিধ্বংসী ঘূর্ণিঝড় (যেমন: সিডর, আইলা, আম্পান, রিমাল ইত্যাদি) যখন উপকূলে আঘাত হানে, তখন সুন্দরবনের ঘন গাছপালা বাধার সৃষ্টি করে ঝড়ের গতিবেগকে অনেকাংশে কমিয়ে দেয়। ফলে উপকূলীয় লোকালয়ে জানমালের ক্ষতি উল্লেখযোগ্য হারে হ্রাস পায়।
২. জলোচ্ছ্বাসের তীব্রতা প্রশমন: সুন্দরবনের ঘন গাছপালা এবং এদের জটিল শ্বাসমূল (Pneumatophore) ও ঠেসমূল সাগরের উত্তাল ঢেউ ও জলোচ্ছ্বাসের তীব্রতা শোষণ করে পানির উচ্চতা ও আঘাতের মাত্রা কমিয়ে দেয়।
৩. মাটিক্ষয় ও ভাঙন রোধ: সুন্দরবনের সুন্দরী, গেওয়া, গরান ইত্যাদি উদ্ভিদের সুদৃঢ় মূলতন্ত্র উপকূলীয় মাটিকে শক্তভাবে ধরে রাখে, যা নদীভাঙন ও উপকূলীয় ক্ষয় রোধ করে।
৪. জলবায়ু পরিবর্তন প্রতিরোধ: সুন্দরবনের বিপুল পরিমাণ কার্বন সঞ্চয় করার ক্ষমতা (কার্বন সিঙ্ক) বৈশ্বিক উষ্ণায়ন ও জলবায়ু পরিবর্তনের ক্ষতিকর প্রভাব মোকাবিলায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।সুতরাং, সুন্দরবন জীববৈচিত্র্যের আধার হওয়ার পাশাপাশি একটি অতন্দ্র প্রহরীর মতো ভয়াবহ প্রাকৃতিক দুর্যোগ থেকে বাংলাদেশকে সুরক্ষা দেয়।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও