হিন্দু ধর্ম • Dinajpur Board • দিনাজপুর বোর্ড ২০২৪
হিন্দু ধর্ম প্রশ্ন
তথ্যসূত্র-১: সাগরের মা বর্ষাকালে এক বিশেষ তিথিতে পুরীতে দেবতা দর্শনে গিয়েছিলেন। তিনি দেখলেন, সেখানে অনেক লোকের সমাগমে এক বিশাল উৎসব পালিত হচ্ছে।তথ্যসূত্র-২: সজীবের মা দেব-দেবীর অধিষ্ঠিত স্থান দর্শনের জন্য বিভিন্ন দেশে ভ্রমণ করেন।
- ক)(1)
ধর্মানুষ্ঠান কাকে বলে?
- খ)(2)
কীসের মাধ্যমে ভাই-বোনের মধ্যে মধুর সম্পর্ক সৃষ্টি হয়? ব্যাখ্যা করো।
- গ)(3)
তথ্যসূত্র-১ পাঠ্যপুস্তকের আলোকে ব্যাখ্যা করো।
- ঘ)(4)
তথ্যসূত্র-২ এর গুরুত্ব পাঠ্যপুস্তকের আলোকে বিশ্লেষণ করো।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
ঈশ্বর, দেব-দেবী ও ধর্মশাস্ত্রের নির্দেশে স্তব-স্তুতি ও পূজার মাধ্যমে যে অনুষ্ঠান করা হয়, তাকে ধর্মানুষ্ঠান বলে।
- খ)
রাখীবন্ধন বা ভাইফোঁটার মাধ্যমে ভাই-বোনের মধ্যে মধুর সম্পর্ক সৃষ্টি হয়।
রাখীবন্ধনে শ্রাবণ মাসের পূর্ণিমা তিথিতে বোনেরা ভাইদের হাতে রাখী নামে পবিত্র সুতো বেঁধে দেয়। এটি ভাই-বোনের আজীবন ভালোবাসার প্রতীক। নিজের ভাই ছাড়াও আত্মীয় ও অনাত্মীয় ভাইদের হাতেও রাখী পরানো হয়। এতে সবার মধ্যে ভ্রাতৃত্ববোধ ও সুসম্পর্ক গড়ে ওঠে। - গ)
তথ্যসূত্র-১-এ হিন্দুদের একটি বিখ্যাত ধর্মানুষ্ঠান রথযাত্রার কথা বলা হয়েছে।
রথযাত্রার ধারণা: রথযাত্রা হিন্দুদের একটি প্রধান ধর্মানুষ্ঠান, যা এখন সর্বজনীন উৎসবে রূপ নিয়েছে। আষাঢ় মাসের শুক্লা দ্বিতীয়া তিথিতে এটি শুরু হয়। চাকাওয়ালা যান 'রথে' জগন্নাথ, বলরাম ও সুভদ্রা অধিষ্ঠিত থাকেন। ভক্তরা রশি টেনে রথটি নির্দিষ্ট মন্দির থেকে অন্য মন্দিরে নিয়ে যায়। নবম দিনে এটি আবার ফিরিয়ে আনা হয়, একে উল্টোরথ বলে। এ উপলক্ষে নয় দিনব্যাপী মেলা ও ধর্মীয় অনুষ্ঠান হয়। ওড়িশার পুরীতে জগন্নাথ দেবের মন্দির প্রতিষ্ঠিত।
উদ্দীপকের সাথে সম্পর্ক: উদ্দীপকে সাগরের মা বর্ষাকালে এক বিশেষ তিথিতে পুরীতে দেবতা দর্শনে গিয়ে অনেক লোকের সমাগমে বিশাল উৎসব দেখেছেন। বর্ষাকাল (আষাঢ়), পুরীতে দেবতা দর্শন এবং বিপুল জনসমাগম, এ তিনটি বিষয় রথযাত্রার বৈশিষ্ট্যের সাথে মিলে যায়।
অতএব, সাগরের মায়ের দেখা উৎসবটি জগন্নাথদেবের রথযাত্রা।
- ঘ)
তথ্যসূত্র-২-এ সজীবের মা দেব-দেবীর অধিষ্ঠিত স্থান দর্শনের জন্য বিভিন্ন দেশে ভ্রমণ করেন, অর্থাৎ তিনি তীর্থভ্রমণ করেন। আমি মনে করি, এর গুরুত্ব ধর্মীয় ও নৈতিক উভয় দিক থেকেই অপরিসীম।
স্বয়ং ভগবান বা তাঁর অবতারের আবির্ভাব স্থান এবং দেবালয়ের স্থানকে পুণ্যস্থান বা তীর্থস্থান বলা হয়। ধর্মপালনের মতো তীর্থদর্শনও একটি পবিত্র কর্তব্য।
১. মনের শান্তি: তীর্থদর্শনে মন পবিত্র হয় এবং অশান্ত মন শান্ত হয়। দুঃখ দূর হয়। সজীবের মা দেব-দেবীর স্থানগুলো দর্শন করে মানসিক প্রশান্তি লাভ করবেন।
২. পুণ্য ও সদ্গতি: তীর্থভ্রমণ একটি পুণ্য কর্ম। এর মাধ্যমে পুণ্য লাভ হয় এবং পরকালে সদ্গতি হয় বলে হিন্দুরা বিশ্বাস করেন।
৩. জ্ঞান ও উদারতা বৃদ্ধি: বিভিন্ন ঐতিহাসিক তীর্থস্থান ভ্রমণে জ্ঞানের পরিধি বাড়ে, মনের প্রসারতা বাড়ে ও সংকীর্ণতা দূর হয়। বিভিন্ন দেশে ভ্রমণের ফলে সজীবের মা বিভিন্ন মানুষ ও সংস্কৃতির সাথে পরিচিত হবেন।
৪. সৎকর্মে অনুপ্রেরণা: মহাপুরুষদের জীবনাচরণের নিদর্শন দেখে মন ভালো কাজে উদ্বুদ্ধ হয়।সুতরাং, তীর্থভ্রমণ সজীবের মায়ের জীবনে মানসিক শান্তি, পুণ্য ও উদারতার বিকাশ ঘটাবে এবং তাঁর ধর্মীয় জীবনকে সমৃদ্ধ করবে।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও