পৌরনীতি ও নাগরিকতা • Sylhet Board • সিলেট বোর্ড ২০২৫

পৌরনীতি ও নাগরিকতা প্রশ্ন

দৃশ্যকল্প-১: স্বাধীনতা লাভের তিন বছর পর বাংলাদেশ একটি আন্তর্জাতিক সংস্থার সদস্যপদ লাভ করে। সংস্থাটির সদর দপ্তর মধ্যপ্রাচ্যের একটি দেশে অবস্থিত। দৃশ্যকল্প-২: 'P' একটি আন্তর্জাতিক সংস্থা এবং 'Q' তার একটি অঙ্গসংস্থা। '' অঙ্গসংস্থা হলেও এর স্থায়ী সদস্য রাষ্ট্রগুলোই মূলত 'P' কে নিয়ন্ত্রণ করে এবং যে কোনো রাষ্ট্রের বিরুদ্ধে বল প্রয়োগ করতে পারে।

  1. ক)

    অছি এলাকা কাকে বলে?

    (1)
  2. খ)

    বাংলাদেশের শান্তিরক্ষীদের কেন 'The cream of the UN peacekeeper' বলে ২ আখ্যায়িত করা হয়েছে?

    (2)
  3. গ)

    বাংলাদেশের আর্থসামাজিক উন্নয়নে দৃশ্যকল্প-১ এ উল্লিখিত সংস্থাটির অবদান বর্ণনা করো।

    (3)
  4. ঘ)

    "'Q' অজাসংস্থাটির স্থায়ী সদস্যরাষ্ট্রের বিশেষ ক্ষমতার কারণেই 'P' সংস্থাটি তার উদ্দেশ্য বাস্তবায়নে ব্যর্থ হচ্ছে"- পাঠ্যবইয়ের আলোকে উক্তিটির যথার্থতা নিরূপণ করো।

    (4)

উত্তর ও ব্যাখ্যা

  1. ক)

    জাতিসংঘের অছি পরিষদের তত্ত্বাবধানে পরিচালিত যে অনগ্রসর বা অস্বায়ত্তশাসিত এলাকাকে স্বায়ত্তশাসন বা স্বাধীনতার জন্য প্রস্তুত করা হয়, তাকে অছি এলাকা বলে।

  2. খ)

    বাংলাদেশের শান্তিরক্ষীরা জাতিসংঘের বিভিন্ন শান্তিরক্ষা মিশনে পেশাদারিত্ব, নিষ্ঠা, শৃঙ্খলা ও মানবিক আচরণের জন্য প্রশংসিত। তারা স্থানীয় জনগণের সাথে সুসম্পর্ক গড়ে তোলে এবং সংকটময় পরিস্থিতিতেও আন্তরিকতার সাথে দায়িত্ব পালন করে। এসব গুণের কারণে তাদের 'The cream of the UN peacekeeper' বলা হয়েছে।

  3. গ)

    দৃশ্যকল্প-১-এর সংস্থাটি ইসলামি সহযোগিতা সংস্থা (OIC)। বাংলাদেশ ১৯৭৪ সালে এর সদস্যপদ পায় এবং সংস্থাটির সদর দপ্তর সৌদি আরবের জেদ্দায়। বাংলাদেশের আর্থসামাজিক উন্নয়নে এর অবদান:

    ১. অর্থনৈতিক সহায়তা: OIC-র সহযোগী ইসলামি উন্নয়ন ব্যাংকের (IDB) মাধ্যমে বাংলাদেশ বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্পে ঋণ ও অনুদান পেয়েছে।
    ২. শ্রমবাজার ও বাণিজ্য: মুসলিম দেশগুলোর সাথে সম্পর্ক জোরদার হওয়ায় বাংলাদেশি কর্মীদের কর্মসংস্থান ও বাণিজ্যের সুযোগ বেড়েছে।
    ৩. কূটনৈতিক সমর্থন: আন্তর্জাতিক পরিসরে বাংলাদেশের অবস্থান ও স্বার্থ তুলে ধরতে সংস্থাটি সহায়ক হয়েছে।
    ৪. মানবিক সহায়তা: দুর্যোগ ও সংকটে সদস্য রাষ্ট্রগুলো সহায়তা দিয়েছে।

  4. ঘ)

    উদ্দীপকের 'P' হলো জাতিসংঘ এবং 'Q' এর অঙ্গসংস্থা নিরাপত্তা পরিষদ। এর পাঁচটি স্থায়ী সদস্য রাষ্ট্রের ভেটো (Veto) ক্ষমতা আছে। উক্তিটি আংশিক যথার্থ।

    ১. যথার্থতার দিক: একজন স্থায়ী সদস্য ভেটো দিলে কোনো গুরুত্বপূর্ণ প্রস্তাব পাস হয় না। ফলে মহাশক্তিধর রাষ্ট্রগুলো নিজেদের বা মিত্রদের স্বার্থ রক্ষা করতে পারে এবং অনেক আন্তর্জাতিক সংকটে জাতিসংঘ কার্যকর পদক্ষেপ নিতে পারে না। ফিলিস্তিন সংকটের মতো ঘটনায় এর প্রভাব দেখা যায়।
    ২. অন্যান্য কারণ: জাতিসংঘের নিজস্ব স্থায়ী সেনাবাহিনী নেই; সদস্য রাষ্ট্রের সেনা ও অর্থের ওপর নির্ভর করতে হয়। তহবিল সংকট এবং সদস্য রাষ্ট্রের অসহযোগিতাও ব্যর্থতার কারণ।
    ৩. সাফল্যও আছে: শান্তিরক্ষা মিশন, মানবিক সহায়তা ও উন্নয়ন কর্মসূচিতে জাতিসংঘ সফল।

    সুতরাং, ভেটো ক্ষমতা সংস্থাটির ব্যর্থতার একটি বড় কারণ হলেও একমাত্র কারণ নয়।

আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও

সম্পর্কিত প্রশ্ন