সাহিত্য পাঠ • সাম্যবাদী • Rajshahi Board • রাজশাহী বোর্ড ২০১৯
সাহিত্য পাঠ প্রশ্ন
শিক্ষকতার দীর্ঘ জীবনে রহিম সাহেবের কাছে শিক্ষার্থীদের ধর্মীয়, সামাজিক কিংবা অর্থনৈতিক পরিচয় কখনো বড় হয়ে ওঠেনি। জ্ঞান চর্চার পাশাপাশি আশপাশের মানুষদের মানবতাবাদে দীক্ষিত করা ছিল তাঁর জীবনব্রত। এখন তাঁর অবসর কাটে সামাজিক আর ব্যক্তি মানুষের কল্যাণকর্মে। ধর্মীয় গোঁড়ামি কিংবা অন্ধ সংস্কারের কারণে সমাজে যখন অনাচার দেখা দেয় তখন রহিম সাহেব সর্বশক্তি দিয়ে তা প্রতিহত করার চেষ্টা করেন। তিনি তাঁর শিক্ষার্থীদের প্রায়ই চণ্ডীদাসের সেই অমর উচ্চারণ মনে করিয়ে দিতেন, "সবার উপরে মানুষ সত্য তাহার উপরে নাই।"
- ক)(1)
সকল দেবতার বিশ্ব দেউল কী?
- খ)(2)
"ত্যজিল রাজ্য মানবের মহা বেদনার ডাক শুনি"- ব্যাখ্যা করো।
- গ)(3)
উদ্দীপকের রহিম সাহেবের জীবনানুভূতির সাথে 'সাম্যবাদী' কবিতায় প্রতিফলিত কবির জীবনদর্শনের তুলনা করো।
- ঘ)(4)
"উদ্দীপকটি ভাবগত দিক থেকে 'সাম্যবাদী' কবিতাকে ধারণ করেছে।"- মন্তব্যটি বিচার করো।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
সকল দেবতার বিশ্ব-দেউল মানুষের 'হৃদয়'।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্ধৃত চরণটির মাধ্যমে গৌতম বুদ্ধের মানবকল্যাণকামী ত্যাগ ও অহিংস চেতনার কথা তুলে ধরা হয়েছে।
রাজপুত্র সিদ্ধার্থ (গৌতম বুদ্ধ) পার্থিব রাজপ্রাসাদের অপরিসীম ধন-সম্পদ ও ভোগবিলাসের মাঝে থেকেও জরা, ব্যাধি ও মৃত্যুর মতো মানবজাতির চরম দুঃখ-বেদনা প্রত্যক্ষ করে বিচলিত হয়ে ওঠেন। আর্তমানবতার এই সীমাহীন দুঃখ থেকে মানুষকে মুক্তি দেওয়ার পথ খুঁজতে তিনি রাজসিংহাসনের মোহ ত্যাগ করে সন্ন্যাস গ্রহণ করেছিলেন। তাঁর এই পরম ত্যাগের দিকটিই আলোচ্য চরণে প্রকাশ পেয়েছে।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকের রহিম সাহেবের জীবনানুভূতির সাথে 'সাম্যবাদী' কবিতায় প্রতিফলিত কাজী নজরুল ইসলামের অসাম্প্রদায়িক ও মানবতাবাদী জীবনদর্শনের গভীর মিল রয়েছে।
'সাম্যবাদী' কবিতায় কবি কাজী নজরুল ইসলাম মানুষে মানুষে ধর্ম, জাতি, বর্ণ কিংবা সামাজিক অবস্থানের ভেদাভেদ ভুলে সাম্য ও মানবতার জয়গান গেয়েছেন। কবি মানুষকে সবকিছুর ঊর্ধ্বে স্থান দিয়েছেন এবং সকল ধর্মীয় শাস্ত্রের চেয়ে মানুষের পবিত্র হৃদয়কেই শ্রেষ্ঠ তীর্থক্ষেত্র ও দেবালয় বলে গণ্য করেছেন।
উদ্দীপকের রহিম সাহেবও শিক্ষকতার দীর্ঘ জীবনে শিক্ষার্থীদের ধর্মীয়, সামাজিক বা অর্থনৈতিক পরিচয়কে গুরুত্ব দেননি। তিনি মানুষকে মানবতাবোধে দীক্ষিত করেছেন এবং চণ্ডীদাসের "সবার উপরে মানুষ সত্য" এই দর্শন লালন করে অন্ধ সংস্কার ও ধর্মীয় গোঁড়ামির বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়িয়েছেন। রহিম সাহেবের এই সর্বজনীন মানবকল্যাণকামী ও ভেদাভেদহীন মনোভাব 'সাম্যবাদী' কবিতার মানবতাবাদী জীবনদর্শনেরই প্রতিফলন।
- ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
"উদ্দীপকটি ভাবগত দিক থেকে 'সাম্যবাদী' কবিতাকে ধারণ করেছে"— মন্তব্যটি যথার্থ।
'সাম্যবাদী' কবিতার মূল প্রতিপাদ্য হলো অসাম্প্রদায়িক চেতনা, মানবধর্মের শ্রেষ্ঠত্ব এবং সামাজিক বৈষম্য ও গোঁড়ামির অবসান। কাজী নজরুল ইসলাম স্পষ্ট ঘোষণা করেছেন যে, মানুষের পরিচয় কোনো নির্দিষ্ট ধর্ম বা গোত্রে সীমাবদ্ধ নয়; মনুষ্যত্বই মানুষের একমাত্র আসল পরিচয়। তিনি হৃদয়-তীর্থকে প্রাধান্য দিয়ে সব ধরণের কৃত্রিম বিভেদ প্রাচীর ভেঙে ফেলার ডাক দিয়েছেন।
উদ্দীপকের রহিম সাহেবের জীবনদর্শনও একই মূলভাবের ওপর প্রতিষ্ঠিত। তিনি শিক্ষার্থীদের কোনো ধর্ম বা জাতের বেড়াজালে আবদ্ধ করেননি, বরং মানবতাবাদকে জীবনের মূল ব্রত হিসেবে গ্রহণ করেছেন। সমাজে প্রচলিত ধর্মীয় কুসংস্কার ও গোঁড়ামি দূর করতে তিনি আজীবন কাজ করেছেন এবং চণ্ডীদাসের মানবতাবাদী বাণীর অনুসারী হয়েছেন। তাঁর এই চিন্তা ও কর্ম সরাসরি 'সাম্যবাদী' কবিতার মর্মবাণীকে প্রতিফলিত করে।
সুতরাং, জাত-ধর্মের ঊর্ধ্বে উঠে মানুষকে শ্রেষ্ঠ বিবেচনা করার এবং মানবকল্যাণে আত্মনিয়োগ করার যে চেতনা 'সাম্যবাদী' কবিতার মূল সুর, রহিম সাহেবের জীবনাচরণে তা নিখুঁতভাবে প্রকাশ পেয়েছে। তাই বলা যায়, উদ্দীপকটি ভাবগত দিক থেকে কবিতাটির মর্মার্থকে যথাযথভাবে ধারণ করেছে।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও