ব্যবসায় উদ্যোগ • Barishal Board • বরিশাল বোর্ড ২০২০

ব্যবসায় উদ্যোগ প্রশ্ন

জনাব নাজিম একটি প্রতিষ্ঠানের ব্যবস্থাপক। তিনি প্রতিষ্ঠানের উৎপাদন প্রণালি এমনভাবে তৈরি করেন যেন উৎপাদিত পণ্যের সংখ্যা অতিরিক্ত না হয়। আবার প্রতিষ্ঠানটি ক্ষতির সম্মুখীনও না হয়। এভাবে উৎপাদন করায় প্রতিষ্ঠানটি টিকে আছে। অপরদিকে জনাব রহমান তার প্রতিষ্ঠানের কর্মীদের প্রত্যেকের কাজ নির্দিষ্ট করে দেন। ব্যবসায়ের প্রয়োজনীয় মূলধন সংগ্রহে কম খরচের উৎস বিবেচনা করেন। তাছাড়া দেশের বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধাগুলোও গ্রহণ করেন। ভবিষ্যতে পণ্য বৈচিত্র্যকরণের কথাও মাথায় রেখে উৎপাদন করেন। এজন্য বর্তমানে জনাব রহমান একজন সফল ব্যবসায়ী হিসেবে পরিচিত।

  1. ক)

    প্রাক্কলিত নগদান প্রবাহ বিবরণী কী?

    (1)
  2. খ)

    প্রকল্প ধারণা চিহ্নিতকরণে বিবেচ্য বিষয় কী? ব্যাখ্যা করো।

    (2)
  3. গ)

    জনাব নাজিমের পণ্য উৎপাদন প্রক্রিয়াটি ব্যাখ্যা করো।

    (3)
  4. ঘ)

    জনাব রহমানের পরিকল্পনার গুরুত্ব মূল্যায়ন করো।

    (4)

উত্তর ও ব্যাখ্যা

  1. ক)

    প্রাক্কলিত নগদপ্রবাহ বিবরণী হলো এমন একটি বিবরণী, যাতে নির্দিষ্ট সময়ে কী পরিমাণ নগদ অর্থ আসবে এবং কী পরিমাণ ব্যয় হবে, তা অগ্রিম হিসাব করে সংরক্ষণ করা হয়।

  2. খ)

    প্রকল্প ধারণা চিহ্নিত করার সময় উদ্যোক্তাকে কয়েকটি বিষয় বিবেচনা করতে হয়। যেমন, নিজের শখ বা আগ্রহ আছে এমন পণ্য, বাজারে প্রকৃত চাহিদা আছে এমন পণ্য বা সেবা, বিদ্যমান পণ্যের অসুবিধা এবং নতুন প্রযুক্তি ব্যবহারের সুযোগ। এসব বিবেচনা করলে সম্ভাবনাময় ও লাভজনক প্রকল্প বেছে নেওয়া সহজ হয়।

  3. গ)

    জনাব নাজিম সম আয়-ব্যয় বিন্দু (Break Even Point) অনুযায়ী পণ্য উৎপাদন করছেন।

    সম আয়-ব্যয় বিন্দু হলো এমন অবস্থা, যখন মোট বিক্রয়মূল্য মোট ব্যয়ের সমান হয়। তখন লাভও হয় না, ক্ষতিও হয় না। এ বিন্দুর কম পণ্য বিক্রয় করলে ক্ষতি হয় এবং বেশি বিক্রয় করলে লাভ হয়। নাজিম এমনভাবে উৎপাদন প্রণালি তৈরি করেছেন যাতে পণ্য অতিরিক্ত না হয় এবং প্রতিষ্ঠান ক্ষতিতে না পড়ে। এভাবে ক্ষতি এড়িয়ে লাভের সম্ভাবনা বজায় রেখে উৎপাদনের পরিকল্পনা করা সম আয়-ব্যয় বিশ্লেষণের প্রয়োগ।

  4. ঘ)

    জনাব রহমানের পরিকল্পনা অর্থাৎ ব্যবসায় পরিকল্পনা তাঁর সাফল্যের পেছনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে। ব্যবসায় পরিকল্পনা হলো ভবিষ্যৎ কার্যক্রমের প্রতিচ্ছবি ও দিকনির্দেশনা।

    ১. দিকনির্দেশনা: রহমান সাহেব কর্মীদের কাজ আগেই নির্দিষ্ট করে দিয়েছেন। ব্যবসায় পরিকল্পনা কখন, কী কাজ, কীভাবে করা হবে তার দিকনির্দেশনা দেয়।
    ২. মূলধন সংগ্রহ: তিনি কম খরচের উৎস বিবেচনা করে মূলধন সংগ্রহ করেছেন। পরিকল্পনা থাকায় বিনিয়োগকারী ও ঋণদাতার কাছে ব্যবসায় গ্রহণযোগ্য হয় এবং সঠিক উৎস বেছে নেওয়া যায়।
    ৩. সরকারি সুযোগ-সুবিধা: তিনি দেশের বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধা কাজে লাগিয়েছেন। ব্যবসায় পরিকল্পনা সরকারি সুযোগ-সুবিধার সদ্ব্যবহারে সাহায্য করে।
    ৪. সিদ্ধান্ত গ্রহণ: ভবিষ্যতে পণ্য বৈচিত্র্যকরণের কথা ভেবে উৎপাদন করায় সম্প্রসারণ ও নতুন পণ্য উদ্ভাবন সম্পর্কে সঠিক সিদ্ধান্ত নেওয়া সহজ হয়েছে।

    সুতরাং, সুচিন্তিত ব্যবসায় পরিকল্পনার কারণেই জনাব রহমান আজ একজন সফল ব্যবসায়ী।

আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও

সম্পর্কিত প্রশ্ন