কৃষিশিক্ষা • Barishal Board • বরিশাল বোর্ড ২০২৩
কৃষিশিক্ষা প্রশ্ন
করিম সাহেবের একটি ৪৫ শতক আয়তনের পুকুর দীর্ঘদিন পরিত্যন্ত অবস্থায় ছিল। বন্যার পানিতে পুকুর প্লাবিত হলে প্রচুর পরিমাণ দেশি মাছ পাওয়া যেত। এটি দেখে করিম সাহেব মাছ চাষে উৎসাহিত হয়ে ঐ পুকুরের পাড় মেরামত, কচুরিপানা পরিষ্কার করে নির্ধারিত হারে চুন ও সার প্রয়োগ করে বুই কাতলা ও মৃগেল মাছের পোনা ছাড়েন। কিন্তু কিছুদিন পর দেখলেন তার পুকুরের পোনা কমে যাচ্ছে।
- ক)(1)
ক্যাটফিশ কাকে বলে?
- খ)(2)
প্লাংকটনের প্রয়োজনীয়তা ব্যাখ্যা করো।
- গ)(3)
করিম সাহেব তার পুকুরে কী পরিমাণ চুন প্রয়োগ করেছিলেন? তা নির্ণয় করো।
- ঘ)(4)
কোন ধরনের পদক্ষেপ গ্রহণ করলে করিম সাহেবের পুকুরে এ ধরনের সমস্যা হতো না? তোমার মতামত বিশ্লেষণ করো।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
যেসব মাছের গায়ে আঁশ নেই এবং মুখের চারপাশে বিড়ালের মতো লম্বা গোঁফ বা শুঁড় থাকে, তাদের ক্যাটফিশ বলে (যেমন শিং, মাগুর, পাঙ্গাস)।
- খ)
প্লাংকটন মাছের প্রাকৃতিক খাদ্য। রুই, কাতলা, সিলভার কার্প প্রভৃতি মাছ প্লাংকটন খেয়ে বাঁচে ও বাড়ে, ফলে খাদ্যের খরচ কমে। উদ্ভিদ প্লাংকটন সালোকসংশ্লেষণের মাধ্যমে পানিতে অক্সিজেন যোগ করে। এছাড়া এরা পানির গুণাগুণ বজায় রাখতেও সাহায্য করে।
- গ)
করিম সাহেবের পুকুরের আয়তন ৪৫ শতক। পুকুরে চুন প্রয়োগের নির্ধারিত হার হলো শতকে ১ কেজি (১ মিটার গভীরতার জন্য)।
চুনের পরিমাণ = কেজি
সুতরাং, তিনি পুকুরে ৪৫ কেজি চুন প্রয়োগ করেছিলেন।
- ঘ)
করিম সাহেবের পুকুর আগে পরিত্যক্ত ছিল এবং বন্যায় প্লাবিত হয়ে প্রচুর দেশি মাছ ঢুকেছিল। এদের মধ্যে রাক্ষুসে ও অবাঞ্ছিত মাছও ছিল, যারা পোনা খেয়ে ফেলে বা খাদ্যে ভাগ বসায়। তাই পোনা কমে যাচ্ছে।
নিচের পদক্ষেপ নিলে এ সমস্যা হতো না:
১. পোনা ছাড়ার আগে পুকুর শুকিয়ে বা বারবার জাল টেনে অথবা রোটেনন প্রয়োগ করে রাক্ষুসে ও অবাঞ্ছিত মাছ সরিয়ে ফেলা।
২. পোনা ছাড়ার আগে পুকুরের পাড় ও পানি নিরাপদ করা, পানি ঢোকার মুখে জাল দেওয়া।
৩. চুন ও সার প্রয়োগের পর পানির গুণাগুণ পরীক্ষা করে পোনা ছাড়া।
৪. নিয়মিত পরিচর্যা ও খাদ্য সরবরাহ করা।সুতরাং, পুকুর প্রস্তুতির সময় অবাঞ্ছিত মাছ দূর করলে করিম সাহেবের পোনা কমত না।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও