ইসলাম • Barishal Board • বরিশাল বোর্ড ২০১৯

ইসলাম প্রশ্ন

জনাব হালিম পৃথিবীর প্রথম নির্মিত গৃহের দেশে চন্দ্র বছরের শেষ মাসে গমন করেন। তিনি সেখানে ইন্দোনেশিয়া, তুরস্ক এবং নাইজেরিয়াসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশের মুসল্লিদের সাথে সাদা পোশাক পরে একটি বিশাল প্রান্তরে একত্রিত হন এবং সম্মিলিত কণ্ঠে একই ধ্বনি উচ্চারণ করেন। অপরদিকে তার ভাই সেলিম মহান আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনে প্রথমবারের মতো গত বছর বিশ দিন রাতের শেষ প্রহরে কিছু খেয়ে সারাদিন অনাহারে থাকেন। এবছর তিনি ত্রিশ দিন একই নিয়মে কাজটি করেন। একদা এক ক্ষুধার্ত ভিক্ষুককে হোটেলে নিয়ে ইলিশ মাছ ও গরুর মাংস দিয়ে তাকে তৃপ্তিসহ ভাত খাওয়ান।

  1. ক)

    'ইলম' কী?

    (1)
  2. খ)

    'তাওহিদ মানবমনে ঐক্যের চেতনা জাগ্রত করে'- উক্তিটি ব্যাখ্যা করো।

    (2)
  3. গ)

    জনাব হালিম ইসলামের কোন ইবাদতটি পালন করেন? ব্যাখ্যা করো।

    (3)
  4. ঘ)

    জনাব সেলিমের ইবাদতটি চিহ্নিতপূর্বক এর সামাজিক গুরুত্ব বিশ্লেষণ করো।

    (4)

উত্তর ও ব্যাখ্যা

  1. ক)

    ইলম অর্থ জ্ঞান। ইসলামি পরিভাষায় আল্লাহ, রাসুল ও দ্বীন সম্পর্কে অবগতি এবং কুরআন-সুন্নাহর জ্ঞানকে ইলম বলে।

  2. খ)

    তাওহিদ হলো আল্লাহর একত্বে বিশ্বাস। সব মুমিন একই আল্লাহকে স্রষ্টা, প্রতিপালক ও একমাত্র উপাস্য হিসেবে মানে। ফলে জাতি, বর্ণ, ভাষা ও দেশের ভেদাভেদ ভুলে মানুষ একই বিশ্বাসের বন্ধনে আবদ্ধ হয়। এভাবে তাওহিদ মানুষের মনে ঐক্য, ভ্রাতৃত্ব ও সাম্যের চেতনা জাগ্রত করে।

  3. গ)

    জনাব হালিম হজ পালন করেন।

    হজ হলো নির্দিষ্ট সময়ে কাবাঘর ও সংশ্লিষ্ট স্থানসমূহ জিয়ারতের উদ্দেশ্যে সফর ও নির্ধারিত আনুষ্ঠানিকতা পালন। উদ্দীপকে পৃথিবীর প্রথম নির্মিত গৃহ বলতে কাবাঘর বোঝানো হয়েছে, যা মক্কায় অবস্থিত। চন্দ্র বছরের শেষ মাস জিলহজে হজ হয়। বিভিন্ন দেশের মুসল্লিদের সঙ্গে সাদা পোশাক (ইহরাম) পরে বিশাল প্রান্তর (আরাফার ময়দান) একত্রিত হওয়া এবং সম্মিলিত কণ্ঠে তালবিয়া উচ্চারণ হজের বৈশিষ্ট্য। তাই হালিমের পালিত ইবাদতটি হজ।

  4. ঘ)

    জনাব সেলিমের ইবাদতটি সাওম (রোজা)। সে সাহরি খেয়ে সারাদিন পানাহার থেকে বিরত থেকেছে এবং ত্রিশ দিন এ নিয়ম পালন করেছে।

    সামাজিক গুরুত্ব:
    ১. সহমর্মিতা: সাওমে ক্ষুধার কষ্ট অনুভব করে ধনীরা গরিবের কষ্ট বুঝতে পারে। সেলিম ক্ষুধার্ত ভিক্ষুককে তৃপ্তি করে খাইয়েছে, যা এর প্রতিফলন।
    ২. সাম্য ও ঐক্য: ধনী-গরিব সবাই একই সময়ে সাওম পালন করে, এতে সামাজিক ভেদাভেদ কমে।
    ৩. সংযম ও নৈতিকতা: সাওম মিথ্যা, গিবত ও অন্যায় থেকে বিরত রাখে এবং সমাজে শান্তি আনে।
    ৪. দান-সদকায় উৎসাহ: রমজানে দান ও ইফতার করানোর প্রবণতা বাড়ে।

    সুতরাং, সাওম ব্যক্তিগত ইবাদত হলেও সমাজে সহমর্মিতা ও শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠায় এর গুরুত্ব অত্যন্ত বেশি।

আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও

সম্পর্কিত প্রশ্ন