বিজ্ঞান • Chattogram Board • চট্টগ্রাম বোর্ড ২০২৪

বিজ্ঞান প্রশ্ন

ইদানীং বাংলাদেশে খুব ঘন ঘন ভূমিকম্প হচ্ছে। নিম্নচাপের কারণে আইলা এবং সিডরের মতো দুর্যোগ দ্বারা আমরা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছি। এ রকম আরো একটি সামুদ্রিক ঝড় আছে যা ভিন্ন উৎস ও কারণে সৃষ্টি হয়, যাকে পৃথিবীর তৃতীয় প্রাকৃতিক দুর্যোগ হিসেবে আখ্যায়িত করা হয়েছে।

  1. ক)

    টেকটনিক প্লেট কাকে বলে?

    (1)
  2. খ)

    সেন্টমার্টিনের প্রবাল বিলীন হওয়ার কারণ কী? ব্যাখ্যা করো।

    (2)
  3. গ)

    উদ্দীপকের প্রথম দুর্যোগটি ঘটার পূর্বে আমাদের করণীয় কী? ব্যাখ্যা করো।

    (3)
  4. ঘ)

    উদ্দীপকের দ্বিতীয় ও তৃতীয় দুর্যোগ দুটির মধ্যে কোনটি বেশি মারাত্মক? যুক্তিসহ বিশ্লেষণ করো।

    (4)

উত্তর ও ব্যাখ্যা

  1. ক)

    পৃথিবীর ভূত্বক কয়েকটি বড় ও আঞ্চলিক টুকরায় বিভক্ত; ভূত্বকের এই বিশাল টুকরাগুলোকেই টেকটনিক প্লেট (Tectonic Plate) বলে।

  2. খ)

    সেন্টমার্টিন বাংলাদেশের একমাত্র প্রবাল দ্বীপ। পানির তাপমাত্রা বৃদ্ধি, সমুদ্রের অম্লত্ব বৃদ্ধি, দূষণ ও স্রোতের গতি পরিবর্তনের কারণে প্রবাল ধ্বংস হচ্ছে। এছাড়া পরিকল্পিত ব্যবস্থাপনা না থাকা এবং পর্যটকদের অসচেতন চলাফেরাও এর অন্যতম কারণ। ফলে ১৯৬০ সালের তুলনায় ২০১০ সালে প্রায় ৭০% প্রবাল বিলীন হয়ে গেছে।

  3. গ)

    উদ্দীপকের প্রথম দুর্যোগটি হলো ভূমিকম্প। ভূমিকম্প আগে থেকে নিশ্চিতভাবে জানা যায় না, তাই আগে থেকেই প্রস্তুতি রাখা জরুরি। এর আগে আমাদের করণীয় হলো:

    ১. ভবন নির্মাণের সময় বিল্ডিং কোড মেনে ভূমিকম্প-সহনশীল কাঠামো তৈরি করা।
    ২. ভূমিকম্পের সময় কী করতে হবে (নিচু হওয়া, মাথা ঢাকা, শক্ত কিছু ধরে থাকা, দরজার চৌকাঠ বা টেবিলের নিচে আশ্রয় নেওয়া) সে বিষয়ে সচেতনতা তৈরি ও মহড়া দেওয়া।
    ৩. প্রাথমিক চিকিৎসার সরঞ্জাম, টর্চ, শুকনো খাবার ও পানি হাতের কাছে রাখা এবং গ্যাস ও বিদ্যুতের লাইন বন্ধ করার নিয়ম জানা।

    এভাবে প্রস্তুতি থাকলে জীবন ও সম্পদের ক্ষতি অনেক কমানো সম্ভব।

  4. ঘ)

    উদ্দীপকের দ্বিতীয় দুর্যোগটি হলো নিম্নচাপজনিত ঘূর্ণিঝড় (আইলা, সিডর) এবং তৃতীয় দুর্যোগটি হলো সুনামি, যা সমুদ্রতলের ভূমিকম্প থেকে সৃষ্টি হয়। আমার মতে সুনামি বেশি মারাত্মক।

    ১. আগাম সতর্কতা: ঘূর্ণিঝড়ের গতিপথ আগে থেকে অনুমান করে সতর্কবার্তা দেওয়া যায় ও মানুষকে আশ্রয়কেন্দ্রে সরানো যায়। কিন্তু সুনামি সমুদ্রতলের ভূমিকম্পের পর খুব অল্প সময়ের মধ্যে উপকূলে আঘাত হানে, তাই প্রস্তুতির সুযোগ কম।
    ২. ধ্বংসের তীব্রতা: সুনামির ঢেউ সাধারণ ঢেউয়ের চেয়ে অনেক বিশালাকৃতির ও অতি দ্রুতগতির। একের পর এক ঢেউ ('ওয়েভ ট্রেন') এসে উপকূলের বিশাল এলাকা ভাসিয়ে নেয়। ২০০৪ সালের ২৬ ডিসেম্বরের সুনামিতে ইন্দোনেশিয়া, শ্রীলংকা, থাইল্যান্ডসহ বহু দেশ ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল।
    ৩. ক্ষতির ব্যাপ্তি: ঘূর্ণিঝড়ে ক্ষতি মূলত ঝড়ের গতিপথে সীমাবদ্ধ থাকে, আর সুনামি একসাথে ভিন্ন ভিন্ন দেশের উপকূলে আঘাত হানতে পারে।

    সুতরাং, আগাম সতর্কতার সুযোগ কম এবং ধ্বংসক্ষমতা বেশি হওয়ায় সুনামি ঘূর্ণিঝড়ের চেয়ে বেশি মারাত্মক।

আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও

সম্পর্কিত প্রশ্ন