ইসলাম • Dhaka Board • ঢাকা বোর্ড ২০২৬

ইসলাম প্রশ্ন

দৃশ্যপট-১: আকরাম সাহেব একজন উচ্চ পদস্থ কর্মকর্তা। যুক্তরাষ্ট্রের একটি কোম্পানি তাকে দশ গুণ বেশি বেতনে চাকরির জন্য আহ্বান করলে তিনি তা প্রত্যাখ্যান করেন। দেশের জন্য কাজ করতে তিনি অত্যন্ত আগ্রহী।
দৃশ্যপট-২: সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুক ব্যবহার করে অনেকেই পরস্পর পরস্পরের বিরুদ্ধে কুৎসা রটনা করে। জাত বংশ নিয়ে ঠাট্টা বিদ্রূপ করে। এমনকি কারও চরিত্র নিয়েও সমালোচনা করে।

  1. ক)

    জিহাদে কাবির কী?

    (1)
  2. খ)

    “সাউম ঢাল স্বরূপ। ”—ব্যাখ্যা কর।

    (2)
  3. গ)

    জনাব আকরাম সাহেবের সিদ্ধান্তে আখলাকে হামিদার কোন বিষয়টি ফুটে উঠেছে? ব্যাখ্যা কর।

    (3)
  4. ঘ)

    দৃশ্যপট-২ এ যে বিষয়টি ফুটে উঠেছে তা চিহ্নিতপূর্বক এ বিষয়ে ইসলামি বিধান বিশ্লেষণ কর।

    (4)

উত্তর ও ব্যাখ্যা

  1. ক)

    কুরআনের দলিল-প্রমাণ ও যুক্তির মাধ্যমে ইসলামের দাওয়াত দিয়ে বাতিলের বিরুদ্ধে সংগ্রাম করাকে জিহাদে কাবির বলে (সূরা আল-ফুরকান, আয়াত ৫২)।

  2. খ)

    রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর হাদিস অনুযায়ী সাওম মুমিনের জন্য ঢালস্বরূপ। ঢাল যেমন শত্রুর আঘাত থেকে রক্ষা করে, তেমনি সাওম মানুষকে গুনাহ ও কুপ্রবৃত্তি থেকে রক্ষা করে। সাওম পালনকারী নফসকে দমন করতে শেখে এবং অশ্লীল কথা ও কাজ থেকে বিরত থাকে। আখিরাতেও এটি জাহান্নামের আজাব থেকে রক্ষার মাধ্যম হবে। তাই সাওমকে ঢাল বলা হয়েছে।

  3. গ)

    জনাব আকরাম সাহেবের সিদ্ধান্তে আখলাকে হামিদার দেশপ্রেম (হুব্বুল ওয়াতান) বিষয়টি ফুটে উঠেছে।

    দেশপ্রেম হলো নিজের দেশের প্রতি ভালোবাসা ও দেশের কল্যাণে আত্মনিয়োগ। উদ্দীপকে আকরাম সাহেব যুক্তরাষ্ট্রের কোম্পানির দশ গুণ বেশি বেতনের চাকরির প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করে দেশের জন্য কাজ করতে আগ্রহী থাকেন। এখানে তিনি ব্যক্তিগত আর্থিক লাভের চেয়ে দেশের সেবাকে প্রাধান্য দিয়েছেন। রাসুলুল্লাহ (সা.) নিজের জন্মভূমি মক্কাকে গভীরভাবে ভালোবাসতেন। দেশপ্রেম ইসলামে প্রশংসনীয় গুণ, তাই তাঁর সিদ্ধান্তে আখলাকে হামিদা ফুটে উঠেছে।

  4. ঘ)

    দৃশ্যপট-২-এ গিবত (পরনিন্দা), ঠাট্টা-বিদ্রূপ ও কুৎসা রটনার বিষয়টি ফুটে উঠেছে, যা আখলাকে যামিমা বা নিন্দনীয় চরিত্রের অন্তর্ভুক্ত। ফেসবুকে একে অপরের বিরুদ্ধে কুৎসা রটানো, বংশ নিয়ে বিদ্রূপ করা ও চরিত্র নিয়ে সমালোচনা ইসলামে নিষিদ্ধ। এ বিষয়ে ইসলামি বিধান:

    ১. কুরআনে বলা হয়েছে, কোনো সম্প্রদায় যেন অন্য সম্প্রদায়কে বিদ্রূপ না করে এবং একে অপরকে মন্দ নামে না ডাকে (সূরা আল-হুজুরাত, আয়াত ১১)।
    ২. গিবতকে মৃত ভাইয়ের গোশত খাওয়ার সাথে তুলনা করা হয়েছে (সূরা আল-হুজুরাত, আয়াত ১২)।
    ৩. গিবত ও কুৎসা রটনায় সমাজে শত্রুতা, অশান্তি ও বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি হয়।

    সুতরাং, গিবত ও বিদ্রূপ ইসলামে হারাম। এ থেকে বিরত থাকা প্রত্যেক মুসলমানের কর্তব্য।

আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও

সম্পর্কিত প্রশ্ন