হিন্দু ধর্ম • Sylhet Board • সিলেট বোর্ড ২০২৪
হিন্দু ধর্ম প্রশ্ন
পুলক বাবু একজন দরিদ্র ব্রাহ্মণ। তার গ্রামে আগুনে পুড়ে যাওয়া ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের জন্য তার জমানো সমস্ত টাকা জেলা প্রশাসকের হাতে তুলে দেন। অন্যদিকে, রিপন নামে এক বালক আগুন থেকে এক শিশুকে রক্ষা করতে গিয়ে প্রাণ ত্যাগ করেন।
- ক)(1)
মানবতা কাকে বলে?
- খ)(2)
কাকে শ্রেষ্ঠ জীব বলা হয়? ব্যাখ্যা করো।
- গ)(3)
উদ্দীপকের পুলকের চরিত্রের সাথে পাঠ্যবইয়ের কোন চরিত্রের মিল রয়েছে? ব্যাখ্যা করো।
- ঘ)(4)
সামাজিক ও পারিবারিক জীবনে রিপনের কর্মকাণ্ডটির শিক্ষার গুরুত্ব বিশ্লেষণ করো।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
মানুষের প্রতি মানুষের ভালোবাসা ও মমত্ববোধকে মানবতা বলে।
- খ)
মানুষকে শ্রেষ্ঠ জীব বলা হয়। সহজাত প্রবৃত্তি যেমন ক্ষুধা, ক্রোধ, ভয়, হিংসা ও লোভ পশুর মধ্যেও আছে। কিন্তু মানুষের মধ্যে মানবতা নামের একটি বিশেষ নৈতিক গুণ থাকে, যা তাকে অন্য সকল জীব থেকে আলাদা করে। এই মানবতার জন্যই মানুষ শ্রেষ্ঠ। যার মানবতা নেই তাকে প্রকৃত মানুষ বলা যায় না।
- গ)
উদ্দীপকের পুলক বাবুর চরিত্রের সাথে পাঠ্যবইয়ের রন্তিবর্মা চরিত্রের মিল রয়েছে।
রন্তিবর্মার পরিচয়: রন্তিবর্মা ছিলেন একজন প্রজাবৎসল, কৃষ্ণভক্ত রাজা। সম্রাট হয়েও তিনি পার্থিব বিষয়ে আসক্ত ছিলেন না। অযাচক বৃত্তি গ্রহণ করে আটচল্লিশ দিন অনাহারে থাকার পর উনপঞ্চাশতম দিনে একজন ভক্ত তাঁকে খাবার দেন। ঠিক তখন একজন ক্ষুধার্ত ভিক্ষুক ও তার কুকুর উপস্থিত হয়। রন্তিবর্মা নিজে না খেয়ে সব খাবার ভিক্ষুক ও কুকুরকে দিয়ে দেন। এটি মানবতার চূড়ান্ত দৃষ্টান্ত।
উদ্দীপকের সাথে সংযোগ: পুলক বাবু দরিদ্র ব্রাহ্মণ। তবু তাঁর গ্রামে আগুনে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের দুঃখে ব্যথিত হয়ে তিনি নিজের জমানো সমস্ত টাকা জেলা প্রশাসকের হাতে তুলে দেন। রন্তিবর্মা যেমন নিজের জন্য রাখা শেষ খাবার অপরের জন্য ত্যাগ করেছেন, পুলক বাবুও তেমনি নিজের সর্বস্ব অন্যের কল্যাণে দান করেছেন। দুজনের মধ্যেই মানবতা ও ত্যাগের গুণ প্রকাশ পেয়েছে।
অতএব, ত্যাগ ও মানবতার দিক থেকে পুলক বাবু রন্তিবর্মার সাথে তুলনীয়।
- ঘ)
উদ্দীপকে রিপন নামের বালক আগুন থেকে এক শিশুকে রক্ষা করতে গিয়ে নিজের প্রাণ ত্যাগ করেছে। এটি মানবতা ও সৎসাহসের চরম দৃষ্টান্ত। সামাজিক ও পারিবারিক জীবনে এ ঘটনার শিক্ষার গুরুত্ব নিচে বিশ্লেষণ করা হলো।
মানবতা হলো মানুষের প্রতি মানুষের ভালোবাসা ও মমত্ববোধ। সত্য ও ন্যায়ের জন্য ভয় না পেয়ে অন্যের মঙ্গলে নিজেকে উৎসর্গ করা বা বিপদে ঝাঁপিয়ে পড়ার নামই সৎসাহস। এ দুটোই ধর্মের অঙ্গ। রিপনের কাজে দুটি গুণই প্রকাশ পেয়েছে।
১. অপরের বিপদে এগিয়ে আসার শিক্ষা: রিপন নিজের জীবনের ঝুঁকি জেনেও একজন অসহায় শিশুকে বাঁচাতে এগিয়ে গেছে। এই শিক্ষা সমাজের মানুষকে বিপদে একে অপরের পাশে দাঁড়াতে অনুপ্রাণিত করে। এতে সমাজে সহমর্মিতা ও সহযোগিতার মনোভাব তৈরি হয়।
২. ত্যাগ ও আত্মোৎসর্গের আদর্শ: জীবনের সর্বস্ব, এমনকি প্রাণ দিয়েও অন্যের উপকার করা চরম ত্যাগ। রিপনের ঘটনা আমাদের শেখায় যে মানুষের মহত্ত্বের উৎস হলো ত্যাগ ও মানবপ্রেম।
৩. পারিবারিক জীবনে প্রভাব: পরিবারের সদস্যরা এই ঘটনা থেকে দয়া, মমতা ও দায়িত্ববোধের শিক্ষা নিতে পারে। শিশুরা ছোটবেলা থেকে অন্যকে সাহায্য করতে শেখে, যা তাদের নৈতিক চরিত্র গঠনে সহায়তা করে।
৪. সামাজিক কল্যাণ: যে সমাজে সৎসাহসী ও মানবিক মানুষ থাকে, সে সমাজ নিরাপদ ও শক্তিশালী হয়। ভীরু ও স্বার্থপর মানুষ সমাজের উপকারে আসে না।
সুতরাং, রিপনের কর্মকাণ্ড আমাদের শেখায় যে মানবতা ও সৎসাহসই প্রকৃত ধর্ম। এই শিক্ষা অনুসরণ করলে পরিবার ও সমাজ উভয়ই সুখী ও কল্যাণময় হয়।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও