হিন্দু ধর্ম • Cumilla Board • কুমিল্লা বোর্ড ২০২৪

হিন্দু ধর্ম প্রশ্ন

মিনতি প্রাকৃতিক দুর্যোগ থেকে রক্ষা পাওয়ার জন্য এক বিশেষ দেবীর 'পূজা করে। এ দেবীর পূজা অমাবস্যা তিথিতে গভীর রাতে করা হয়। গলায় থাকে নরমুণ্ডর মালা। তিনি ভয়ংকর চণ্ডা ও মুন্ডাকে বধ করেন। অপরদিকে, ইমার বিবাহ হয়েছে অনেক বছর। ইমার কোনো সন্তান হয়নি। তাই সে গুরুদেবের কথামতো এক বিশেষ দেবতার পূজা করে সন্তান লাভ করে। বর্তমানে স্বামী সন্তান নিয়ে সুখেই বাস করছে।.

  1. ক)

    লৌকিক দেবতা কাকে বলে?

    (1)
  2. খ)

    পুরোহিত কথাটির অর্থ ব্যাখ্যা করো।

    (2)
  3. গ)

    মিনতি প্রাকৃতিক দুর্যোগ থেকে রক্ষা পাওয়ার জন্য যে দেবীর পূজা করে উক্ত দেবীর পরিচয় পাঠ্যপুস্তকের আলোকে বর্ণনা করো।

    (3)
  4. ঘ)

    ইমা যে বিশেষ দেবতার পূজা করে সন্তান লাভ করেছে উত্ত দেবতার পূজার গুরুত্ব ও প্রভাব বিশ্লেষণ করো।

    (4)

উত্তর ও ব্যাখ্যা

  1. ক)

    বেদ ও পুরাণে যাঁদের কথা বলা হয়নি, অথচ ভক্তগণ যাঁদের পূজা করেন, তাঁদের লৌকিক দেবতা বলে।

  2. খ)

    পুরোহিত শব্দটি 'পুরস্' (পুরঃ) ও 'হিত' শব্দের সমন্বয়ে গঠিত। পুরস্ অর্থ সম্মুখে এবং হিত অর্থ অবস্থান, অর্থাৎ যিনি সম্মুখভাগে অবস্থান করেন তিনিই পুরোহিত।
    সাধারণ অর্থে যিনি পূজা-অর্চনার অনুষ্ঠান পরিচালনায় প্রধান ভূমিকা পালন করেন এবং পূজার সময় সকলের অগ্রভাগে থাকেন, তাঁকেই পুরোহিত বলে। এটি একটি পেশাও।

  3. গ)

    মিনতি যে দেবীর পূজা করে, তিনি দেবী কালী। অমাবস্যা তিথিতে গভীর রাতে পূজা, গলায় নরমুণ্ডের মালা এবং চণ্ড ও মুণ্ড অসুরকে বধ- এসব বৈশিষ্ট্য কালী দেবীর রূপ ও কাহিনির সাথে মিলে যায়।

    পাঠ্যপুস্তকের আলোকে দেবী কালী দুর্গাদেবীর মতোই শক্তির দেবী। তিনি অসুর বিনাশে ভয়ংকরী এবং পৃথিবীর সকল অন্যায় ও অত্যাচার দূর করার জন্য অশুভ শক্তিকে ধ্বংস করেন। তিনি ভগবান শিবের সহধর্মিণী ও বিশেষ শক্তি। কাল ও মৃত্যুর দেবীরূপে আত্মপ্রকাশ করার কারণে তাঁকে শ্মশান কালী বলা হয়। এছাড়া তাঁর আরও নাম ভদ্রকালী, দক্ষিণাকালী, মা তারা, শ্যামা ও মহাকালী। তিনি শাশ্বত ক্ষমতা ও শক্তির আধার। একদিকে তিনি অন্যায় ও অশুভকে ধ্বংস করেন, অন্যদিকে মমতাময়ী মা রূপে বরাভয় দান করেন। এজন্য ঐশ্বরিক মহাশক্তি ও ত্রাণকর্ত্রীরূপে দুর্যোগের সময় তিনি ভক্তের পাশে আবির্ভূত হন বলে বিশ্বাস করা হয়। মিনতি প্রাকৃতিক দুর্যোগ থেকে রক্ষা পেতেই তাঁর পূজা করে।

    সুতরাং, মিনতির পূজিত দেবী হলেন শক্তিময়ী দেবী কালী।

  4. ঘ)

    ইমা গুরুদেবের কথামতো সন্তান লাভের জন্য যে দেবতার পূজা করেছে, তিনি কার্তিক। পাঠ্যপুস্তক অনুযায়ী আদর্শ ও সুন্দর সন্তান লাভের জন্য দেবতা কার্তিকের পূজা করা হয়। ইমার সন্তানলাভ ও সুখী পরিবার কার্তিক পূজার গুরুত্ব ও প্রভাবকেই নির্দেশ করে।

    কার্তিক ভগবান শিবের পুত্র। তিনি যুদ্ধের দেবতা ও দেবসেনাপতি। হিন্দুধর্মাবলম্বীরা তাঁকে রক্ষা কর্মকর্তা হিসেবে পূজা করেন। তাঁর পূজার গুরুত্ব ও প্রভাব নিচে বিশ্লেষণ করা হলো।

    ১. পারিবারিক জীবনে সুখ ও সন্তান লাভ: নিঃসন্তান দম্পতি আদর্শ সন্তান কামনায় কার্তিকের পূজা করেন। ইমার অনেক বছর সন্তান না হওয়ায় পূজার মাধ্যমে সন্তানলাভ হয়েছে এবং সে এখন স্বামী-সন্তান নিয়ে সুখে আছে। এভাবে এ পূজা পরিবারে শান্তি ও আনন্দ বয়ে আনে।
    ২. অন্যায়ের বিরুদ্ধে প্রতিবাদের শিক্ষা: কার্তিক দেবসেনাপতি হিসেবে অন্যায়, অত্যাচার ও অবিচারের বিরুদ্ধে সোচ্চার হওয়ার শিক্ষা দেন। পূজারি এ আদর্শ গ্রহণ করে ব্যক্তি ও সমাজজীবনে সাহসী ও ন্যায়নিষ্ঠ হতে উদ্বুদ্ধ হয়।
    ৩. রক্ষা ও নিরাপত্তার বিশ্বাস: রক্ষা কর্মকর্তা হিসেবে পূজিত হওয়ায় ভক্তের মনে নিরাপত্তা ও মানসিক শক্তি আসে। এতে জীবনের নানা সংকটে মনোবল অটুট থাকে।
    ৪. সামাজিক বন্ধন: পূজা উপলক্ষে আত্মীয়-পরিজন ও প্রতিবেশীরা একত্রিত হয়। ফলে পারস্পরিক সম্প্রীতি ও সামাজিক বন্ধন দৃঢ় হয়।

    সুতরাং, কার্তিক পূজা কেবল সন্তান কামনার উপায় নয়, বরং এটি পারিবারিক সুখ, নৈতিক সাহস ও সামাজিক সংহতি গড়ে তোলার গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম।

আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও

সম্পর্কিত প্রশ্ন