বাংলা ১ম পত্র • Barishal Board • বরিশাল বোর্ড ২০২৩
বাংলা ১ম পত্র প্রশ্ন
আরশি সাহিত্য আড্ডায় প্রতিদিন নানা বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়। রকিব স্যার আড্ডায় বলেন কেবল শিশুদের পড়তে শেখানোই যথেষ্ট নয়। তাদের পড়ার উপযুক্ত কিছু দিতে হবে, এমন কিছু যা তাদের ধারণাগুলোকে প্রসারিত করবে, এমন একটি জিনিস যা তাদের জীবনের অনুভূতি তৈরি করতে এবং তাদের জীবন থেকে পৃথক হওয়া মানুষের দিকে এগিয়ে যেতে উৎসাহিত করবে। ফারুক স্যার বলেন শুধু তাই নয়, নিজের অন্তর আত্মাকে বিকশিত করার জন্য নিজ আগ্রহে শিক্ষা লাভ না করলে কেউ খুব ভালোভাবে শিক্ষিত হতে পারবে না।
- ক)(1)
যথার্থ শিক্ষিত হতে হলে কী দরকার?
- খ)(2)
লেখক কাউকে শখ হিসেবে বই পড়তে পরামর্শ দিতে চান না কেন?
- গ)(3)
“উদ্দীপকের ফারুক স্যারের মন্তব্যের সঙ্গে 'বই পড়া' প্রবন্ধের প্রাবন্ধিকের মানস চেতনার প্রতিফলন।”— উক্তিটি বিশ্লেষণ করো।
- ঘ)(4)
“উদ্দীপকের রকিব স্যারের মন্তব্যের ভাবার্থ যেন 'বই পড়া' প্রবন্ধের প্রাবন্ধিকের মানস চেতনার প্রতিফলন।”— উক্তিটি বিশ্লেষণ করো।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
যথার্থ শিক্ষিত হতে হলে নিজের অন্তরাত্মার বিকাশের জন্য নিজের আগ্রহে শিক্ষা অর্জন করা, অর্থাৎ স্বশিক্ষিত হওয়া দরকার।
- খ)
লেখক কাউকে শখ হিসেবে বই পড়তে পরামর্শ দিতে চান না, কারণ শখ মানে সময় কাটানোর বিলাস বা হালকা বিনোদন।
লেখকের মতে বই পড়া মনের বিকাশ ও জীবনের জন্য অত্যন্ত প্রয়োজনীয় ও গুরুত্বপূর্ণ কাজ। একে শখের স্তরে নামিয়ে আনলে এর প্রকৃত মূল্য কমে যায়। তাই তিনি বই পড়াকে শখ নয়, বরং শিক্ষা ও আত্মোন্নতির জন্য অপরিহার্য কর্তব্য হিসেবে দেখেন।
- গ)
উদ্দীপকে ফারুক স্যার বলেছেন, নিজের অন্তরাত্মাকে বিকশিত করতে নিজ আগ্রহে শিক্ষা না নিলে কেউ ভালোভাবে শিক্ষিত হতে পারবে না। 'বই পড়া' প্রবন্ধের প্রাবন্ধিকের মানস চেতনাও একই।
প্রাবন্ধিক মনে করেন, শিক্ষা কেউ কাউকে দিতে পারে না। যথার্থ শিক্ষিত মানুষ মাত্রই স্বশিক্ষিত, অর্থাৎ নিজের চেষ্টা ও আগ্রহে জ্ঞান অর্জন করেন। ফারুক স্যারের বক্তব্যে এই স্বশিক্ষার ধারণাই ফুটে উঠেছে। দুই ক্ষেত্রেই নিজের আগ্রহ ও মনের বিকাশের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।
- ঘ)
রকিব স্যারের বক্তব্যের ভাবার্থ 'বই পড়া' প্রবন্ধের প্রাবন্ধিকের মানস চেতনার সাথে মিলে যায়।
১. শুধু পড়তে শেখানো যথেষ্ট নয়: রকিব স্যারের মতে শিশুদের কেবল পড়তে শেখালে চলবে না, তাদের পড়ার উপযুক্ত কিছু দিতে হবে। প্রাবন্ধিকও বলেন, শুধু পাঠ্যবই বা পড়ার ক্ষমতাই যথেষ্ট নয়; ভালো সাহিত্য পড়া জরুরি।
২. ধারণার প্রসার: স্যারের মতে এমন বই দিতে হবে যা ধারণা প্রসারিত করে। প্রাবন্ধিকের মতে বই মনের দিগন্ত বিস্তৃত করে ও মনকে সরস ও সক্ষম করে।
৩. অনুভূতি ও মানুষের প্রতি আগ্রহ: বই জীবনের অনুভূতি তৈরি করে ও ভিন্ন জীবনের মানুষকে জানতে উৎসাহিত করে। সাহিত্যচর্চা মানুষকে সহমর্মী ও মানবিক করে তোলে।
সুতরাং, উক্তিটি যথার্থ।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও