ব্যবসায় উদ্যোগ • Jashore Board • যশোর বোর্ড ২০২২

ব্যবসায় উদ্যোগ প্রশ্ন

কলেজপড়ুয়া জনাব আবির পড়াশোনার পাশাপাশি নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করতে চান। তাই তিনি কলেজের পাশে অল্প মূলধন নিয়ে একটি স্টেশনারি দোকান খোলেন। সততা ও দক্ষতার কারণে তার ব্যবসায়টি খুব লাভজনক হয়ে ওঠে। বর্তমানে সে তার ব্যবসায়টিকে আরও সম্প্রসারণ ও আধুনিকায়ন করতে চান। কিন্তু আর্থিক সীমাবদ্ধতার কারণে তা সম্ভব হচ্ছে না। এই কারণে সে তার দুই বন্ধুকে সমঝোতার ভিত্তিতে ব্যবসায়ে অন্তর্ভুক্ত করেন। তিন বছরের মধ্যেই তারা বিভাগীয় শহরে একটি ডিপার্টমেন্ট স্টোর প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম হন।

  1. ক)

    ব্যবসায়ে স্থান নির্বাচন কী?

    (1)
  2. খ)

    প্রাথমিক মূলধন বলতে কী বোঝায়?

    (2)
  3. গ)

    উদ্দীপকে ১ম পর্যায়ে জনাব আবিরের ব্যবসায়টি মালিকানার ভিত্তিতে কোন ধরনের? ব্যাখ্যা করো।

    (3)
  4. ঘ)

    দ্বিতীয় পর্যায়ে জনাব আবির তার ব্যবসায়ে দুই বন্ধুকে অন্তর্ভুক্ত করার যৌক্তিকতা তুলে ধরো।

    (4)

উত্তর ও ব্যাখ্যা

  1. ক)

    ব্যবসায় স্থাপনের জন্য কাঁচামালের সহজলভ্যতা, বাজারজাতকরণের সুবিধা ও অবকাঠামোগত সুবিধা বিবেচনা করে উপযুক্ত স্থান বেছে নেওয়াকে ব্যবসায়ে স্থান নির্বাচন বলে।

  2. খ)

    ব্যবসায় শুরু ও সফলভাবে পরিচালনার জন্য শুরুতেই যে স্থায়ী ও চলতি মূলধন প্রয়োজন হয়, তাকে প্রাথমিক মূলধন বলে। স্থায়ী মূলধন দিয়ে জমি, দোকান ও আসবাবের মতো সম্পদ কেনা হয় এবং চলতি মূলধন দিয়ে পণ্য কেনা ও দৈনন্দিন খরচ চালানো হয়। পর্যাপ্ত প্রাথমিক মূলধন না থাকলে ব্যবসায়ের পূর্ণ ক্ষমতা ব্যবহার করা যায় না।

  3. গ)

    প্রথম পর্যায়ে জনাব আবির একাই অল্প মূলধন নিয়ে স্টেশনারি দোকান খোলেন। মালিকানার ভিত্তিতে এটি একমালিকানা ব্যবসায়।

    একমালিকানা ব্যবসায়ে একজন ব্যক্তি নিজের মূলধন বিনিয়োগ করে ব্যবসায় গঠন ও পরিচালনা করেন এবং সব লাভ-লোকসানের দায় নিজে বহন করেন। এখানে মালিক একজনই, মূলধন কম এবং আবির একাই ব্যবসায় পরিচালনা করছেন। তাই এটি একমালিকানা ব্যবসায়।

  4. ঘ)

    আবির আর্থিক সীমাবদ্ধতার কারণে ব্যবসায় সম্প্রসারণ ও আধুনিকায়ন করতে পারছিলেন না। তাই দুই বন্ধুকে সমঝোতার ভিত্তিতে যুক্ত করে তিনি অংশীদারি ব্যবসায় গঠন করেছেন। এই সিদ্ধান্ত যুক্তিসংগত।

    ১. অতিরিক্ত মূলধন: একমালিকানা ব্যবসায়ে মূলধন কম থাকে। অংশীদারি ব্যবসায়ে একাধিক ব্যক্তি মূলধন দেওয়ায় মূলধন বাড়ে।
    ২. সম্মিলিত সামর্থ্য: একাধিক ব্যক্তি নিজেদের সামর্থ্য একত্র করায় পরিচালনা আরও ভালো হয়।
    ৩. ঝুঁকি ভাগাভাগি: ব্যবসায়ের ঝুঁকি তিনজনের মধ্যে ভাগ হয়, ফলে একজনের ওপর চাপ কমে।
    ৪. সহজ গঠন: আইনগত ঝামেলা কম থাকায় চুক্তির মাধ্যমে সহজেই এ ব্যবসায় গঠন করা যায়।

    সুতরাং, দুই বন্ধুকে অন্তর্ভুক্ত করার সিদ্ধান্তের ফলেই তারা তিন বছরে বিভাগীয় শহরে ডিপার্টমেন্ট স্টোর প্রতিষ্ঠা করতে পেরেছেন।

আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও

সম্পর্কিত প্রশ্ন