বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা • Sylhet Board • সিলেট বোর্ড ২০২৪

বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা প্রশ্ন

  1. ক)

    জাতীয় স্মৃতিসৌধ কীসের প্রতীক?

    (1)
  2. খ)

    মুজিবনগর স্মৃতিসৌধে ২৪টি দেয়াল নির্মাণ করা হয় কেন? ব্যাখ্যা করো।

    (2)
  3. গ)

    উদ্দীপকের চিত্রটি ১৯৭১ সালের স্বাধীনতা যুদ্ধের কোন সমস্যার সাক্ষ্য বহন করে? ব্যাখ্যা করো।

    (3)
  4. ঘ)

    "উক্ত সমস্যা আন্তর্জাতিক অজানে বাংলাদেশের পক্ষে সহানুভূতির জন্ম দিয়েছিল"-বিশ্লেষণ করো।

    (4)

উত্তর ও ব্যাখ্যা

  1. ক)

    জাতীয় স্মৃতিসৌধ মুক্তিযুদ্ধে নাম-না-জানা লক্ষ লক্ষ শহিদের অমর স্মৃতির প্রতীক। এর সাত জোড়া দেয়াল বাঙালির গৌরবময় সংগ্রামের প্রতীক।

  2. খ)

    মুজিবনগর স্মৃতিসৌধ মেহেরপুরের বৈদ্যনাথতলায় অবস্থিত। এখানে ২৪টি ত্রিভুজাকৃতির দেয়াল ২৪ বছরের পাকিস্তানি ঔপনিবেশিক শাসন ও শোষণের প্রতীক। ১৯৪৭ থেকে ১৯৭১ পর্যন্ত বাঙালি ধাপে ধাপে ন্যায্য অধিকার আদায়ে সংগঠিত হয়ে শেষে মুক্তিযুদ্ধের মধ্য দিয়ে স্বাধীনতা অর্জন করে। দেয়ালগুলো ধাপে ধাপে উঁচু হয়ে সেই সংগ্রামের অগ্রগতি বোঝায়।

  3. গ)

    উদ্দীপকের চিত্রটি ১৯৭১ সালের স্বাধীনতা যুদ্ধের শরণার্থী সমস্যার সাক্ষ্য বহন করে।

    ১. ২৫ মার্চের গণহত্যা শুরু হলে প্রাণভয়ে লাখ লাখ মানুষ ভারতের পশ্চিমবঙ্গ, ত্রিপুরা, আসাম ও মেঘালয়ে আশ্রয় নেয়।
    ২. ৫ ডিসেম্বর ১৯৭১ পর্যন্ত শরণার্থীর সংখ্যা ছিল প্রায় ৮৮ লাখ ৯৯ হাজার ৩০৫ জন। এর অধিকাংশ ছিল হিন্দু।
    ৩. শরণার্থী শিবিরগুলোতে খাদ্য, পানীয় জল ও ওষুধের তীব্র অভাব ছিল। অনেকে খোলা আকাশের নিচে, রাস্তায় ও রেলস্টেশনে থাকতে বাধ্য হয়।
    ৪. ত্রিপুরায় ১৪ লাখ শরণার্থী আশ্রয় নেয়, যা সে রাজ্যের মোট জনসংখ্যার সমান।

  4. ঘ)

    শরণার্থী সমস্যা আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বাংলাদেশের পক্ষে সহানুভূতির জন্ম দিয়েছিল—এ মন্তব্য যথার্থ। কারণ—

    ১. সমস্যার ব্যাপকতা: প্রায় ৯০ লাখ মানুষের আশ্রয় নেওয়া বিশ্বের সামনে পাকিস্তানি অত্যাচারের নির্মম চিত্র তুলে ধরে। ইউএনএইচসিআর-প্রধান প্রিন্স সদরুদ্দিন আগা খান একে সমসাময়িক কালের সবচেয়ে বড় সমস্যা হিসেবে চিহ্নিত করেন।
    ২. জাতিসংঘ ও বিশ্বের সাড়া: জাতিসংঘ সবচেয়ে বড় মানবিক সাহায্য নিয়ে এগিয়ে আসে। ভারত শরণার্থীদের আশ্রয় ও সাহায্য দেয়।
    ৩. বিশ্বজনমত: বিবিসিসহ বিভিন্ন দেশের গণমাধ্যম শরণার্থীদের করুণ অবস্থা ও গণহত্যার খবর প্রচার করে বিশ্বজনমতকে মুক্তিযুদ্ধের পক্ষে জাগ্রত করে।

    সুতরাং, শরণার্থী সমস্যা বিশ্ববাসীর সহানুভূতি এনে বাংলাদেশের স্বাধীনতার পক্ষে আন্তর্জাতিক সমর্থন বাড়িয়েছিল।

আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও

সম্পর্কিত প্রশ্ন