হিন্দু ধর্ম • Barishal Board • বরিশাল বোর্ড ২০২৩
হিন্দু ধর্ম প্রশ্ন
মীরা মায়ের সাথে পূজা দেখতে যায়। মন্দিরে গিয়ে দেখল, এক দেবী মূর্তি যিনি দুর্গম নামক অসুরকে বধ করেছেন। তার আর এক নাম মহামায়া। যিনি সকলের দুর্গতি নাশ করেন। অন্যদিকে, তপতীর দীর্ঘ দিন কোনো সন্তান হয় না। তাই সন্তান লাভের জন্য একজন বিশেষ দেবতার পূজার মাধ্যমে নতুন সদস্য লাভ করে সুখে-শান্তিতে বসবাস করে।
- ক)(1)
যজমান কাকে বলে?
- খ)(2)
বৈদিক দেবতা বলতে কী বোঝায়? ব্যাখ্যা দাও।
- গ)(3)
মীরা যে দেবী মূর্তি দর্শন করেছে উক্ত পূজা পদ্ধতি বর্ণনা করো।
- ঘ)(4)
তপতী যে দেবতার পূজা করেন উক্ত পূজার প্রভাব ও গুরুত্ব বিশ্লেষণ করো।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
যার নামে সংকল্প করে পূজা করা হয়, তাকে যজমান বলে।
- খ)
বেদে যে সকল দেবতার কথা বলা হয়েছে, তাঁদের বৈদিক দেবতা বলে। যেমন: অগ্নি, ইন্দ্র, মিত্র, রুদ্র, বরুণ, বায়ু ও সোম। বৈদিক দেবী হিসেবে সরস্বতী, উষা, অদিতি ও রাত্রির নাম উল্লেখ করা যায়। বৈদিক দেব-দেবীর কোনো মূর্তি ছিল না। হোম বা যজ্ঞের অগ্নির মাধ্যমে মন্ত্র উচ্চারণ করে তাঁদের আহ্বান করা হতো।
- গ)
মীরা মন্দিরে যে দেবী মূর্তি দেখেছে, তিনি দুর্গম অসুরকে বধ করেছেন, তাঁর আরেক নাম মহামায়া এবং তিনি সকলের দুর্গতি নাশ করেন। এই বৈশিষ্ট্য দেবী দুর্গার।
দেবী দুর্গা ঈশ্বরের শক্তির প্রতীক, আদ্যাশক্তি মহামায়া। দুর্গম নামক অসুরকে বধ করেছেন বলে তাঁকে দুর্গা বলা হয়। আবার দুর্গতিনাশিনী অর্থাৎ বিশ্বের সকল দুঃখ-কষ্ট বিনাশকারী বলেও তিনি দুর্গা। তাঁর পূজা পদ্ধতি নিচে বর্ণনা করা হলো।
আশ্বিন মাসের শুক্লপক্ষে শারদীয় দুর্গাপূজা পাঁচ দিনব্যাপী হয়। মহালয়ায় দেবীর আগমনী ঘোষিত হয়।
১. ষষ্ঠী: সংকল্প করে প্রতিমা স্থাপন করা হয় এবং সন্ধ্যায় বোধন, অধিবাস ও আমন্ত্রণ হয়।
২. সপ্তমী: মন্ত্র উচ্চারণ করে প্রাণপ্রতিষ্ঠা করা হয়। ফুল, বেলপাতা, নৈবেদ্য ও বস্ত্রাদি দিয়ে পূজা হয় এবং নবপত্রিকা বা কলাবৌ স্থাপিত হয়।
৩. অষ্টমী: অষ্টমীবিহিত পূজা, পুষ্পাঞ্জলি ও কুমারী পূজা হয়। অষ্টমী-নবমীর সন্ধিক্ষণে সন্ধিপূজায় ১০৮টি প্রদীপ জ্বালানো হয়।
৪. নবমী ও দশমী: নবমীবিহিত ও দশমীবিহিত পূজার পর দশমীতে প্রতিমা বিসর্জন দেওয়া হয়, এটি বিজয়া দশমী।সুতরাং, মীরা যে দেবীকে দেখেছে, সেই দুর্গার পূজা এই পদ্ধতিতে সম্পন্ন হয়।
- ঘ)
তপতীর দীর্ঘদিন সন্তান হচ্ছিল না। সন্তান লাভের জন্য তিনি যে দেবতার পূজা করেছেন, তিনি দেবসেনাপতি কার্তিক।
কার্তিক যুদ্ধের দেবতা। আদর্শ ও সুন্দর সন্তান লাভের জন্য তাঁর পূজা করা হয়। ব্রহ্মা ও সরস্বতীর মতো তাঁর পূজাও বিশেষ তিথিতে হয়। এই পূজার প্রভাব ও গুরুত্ব নিচে বিশ্লেষণ করা হলো।
১. পারিবারিক সুখ: সন্তান লাভের পর তপতী সুখে-শান্তিতে বসবাস করেন। পূজা তাঁর পরিবারে আনন্দ ও আশা এনেছে। ঈশ্বরের কৃপায় ইচ্ছাপূরণের বিশ্বাস মানুষকে মানসিক শান্তি দেয়।
২. অন্যায়ের বিরুদ্ধে সাহসের শিক্ষা: কার্তিক দেবসেনাপতি। তিনি অন্যায়, অত্যাচার ও অবিচারের বিরুদ্ধে সোচ্চার হওয়ার শিক্ষা দেন। এই পূজা ভক্তকে ন্যায়ের পক্ষে দাঁড়ানোর সাহস জোগায়।
৩. সামাজিক বন্ধন ও নৈতিকতা: পূজা উপলক্ষে আত্মীয়-প্রতিবেশী একত্র হয়। এতে সামাজিক বন্ধন দৃঢ় হয়। দেবতার প্রতি ভক্তি মানুষকে সংযমী ও নৈতিক করে।
৪. ঈশ্বরের শক্তির প্রতি শ্রদ্ধা: দেব-দেবীরা এক ঈশ্বরের বিভিন্ন গুণ বা শক্তির প্রকাশ। কার্তিক পূজার মাধ্যমে ঈশ্বরের শক্তিকে শ্রদ্ধা জানানো হয় এবং ভক্তি ও আত্মসমর্পণের মনোভাব তৈরি হয়।সুতরাং, কার্তিক পূজা পারিবারিক সুখ-শান্তি, সাহস, নৈতিকতা ও সামাজিক ঐক্য বৃদ্ধিতে গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব রাখে।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও