কৃষিশিক্ষা • Chattogram Board • চট্টগ্রাম বোর্ড ২০২৪
কৃষিশিক্ষা প্রশ্ন
গফুর সাহেব উপকূলবর্তী এলাকার বাসিন্দা। তিনি তার জমিতে ধান চাষ করে জমির অবস্থাজনিত সমস্যা ও পোকামাকড়ের আক্রমণের ফলে ভালো ফসল উৎপাদনে বিফল হন। বছর দুয়েক পরেই গফুর সাহেব প্রচণ্ড জলোচ্ছ্বাসের কবলে পড়েন। এর ফলে তার দুইটি গবাদিপশু মারা যায়। অবশিষ্ট গবাদিপশু বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত হয় এবং খাদ্যাভাবে পড়ে। এতে গফুর সাহেব বিপর্যয়ের মুখে পড়েন।
- ক)(1)
খরা প্রতিরোধ কী?
- খ)(2)
শিম-জাতীয় ফসলের খরায় অভিযোজন প্রক্রিয়া ব্যাখ্যা করো।
- গ)(3)
উদ্দীপকের পরিস্থিতিতে গফুর সাহেব কোন জাতের ধান চাষ করলে ভালো ফলন পাবেন? ব্যাখ্যা করো।
- ঘ)(4)
তুমি কি মনে করো, অভিযোজন কলা কৌশলের আশ্রয় নিয়ে গফুর সাহেব বিপর্যয় মোকাবেলা করতে পারতেন? যুক্তিসহ উত্তর দাও।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
খরার সময় ফসলের ক্ষতি কমানো ও উৎপাদন বজায় রাখার জন্য গৃহীত কৌশল বা ব্যবস্থাকে খরা প্রতিরোধ বলে।
- খ)
শিম-জাতীয় ফসল খরায় কয়েকভাবে নিজেকে মানিয়ে নেয়। এদের শিকড় মাটির গভীরে প্রবেশ করে নিচের স্তরের পানি শোষণ করতে পারে। খরার সময় পাতার ছিদ্র বন্ধ করে বা পাতা গুটিয়ে প্রস্বেদনের মাধ্যমে পানির অপচয় কমায়। এছাড়া এদের জীবনকাল তুলনামূলক কম হওয়ায় অনেক সময় খরা তীব্র হওয়ার আগেই ফসল পরিপক্ব হয়ে যায়।
- গ)
গফুর সাহেব উপকূলবর্তী এলাকার বাসিন্দা। এখানকার মাটি ও পানিতে লবণাক্ততা বেশি এবং জলোচ্ছ্বাসের ঝুঁকি থাকে। তাই তাঁর লবণসহিষ্ণু জাতের ধান চাষ করা উচিত।
ব্যাখ্যা: লবণাক্ত মাটিতে সাধারণ ধান ভালো জন্মায় না। বাংলাদেশ ধান গবেষণা ইনস্টিটিউট (ব্রি) এর উদ্ভাবিত লবণসহিষ্ণু জাত, যেমন ব্রি ধান৪০, ব্রি ধান৪১ (আমন) ও ব্রি ধান৪৭ (বোরো) উপকূলীয় লবণাক্ত জমিতে ভালো ফলন দেয়। এসব জাত লবণের ক্ষতিকর প্রভাব সহ্য করে বেড়ে উঠতে পারে। তাই এ জাত চাষ করলে গফুর সাহেব ভালো ফলন পাবেন।
- ঘ)
হ্যাঁ, আমি মনে করি অভিযোজন কৌশল অবলম্বন করলে গফুর সাহেব বিপর্যয় অনেকটাই মোকাবিলা করতে পারতেন।
১. ফসল উৎপাদন: লবণসহিষ্ণু ধানের জাত ব্যবহার, সঠিক সার ব্যবস্থাপনা ও সমন্বিত বালাইব্যবস্থাপনা (IPM) পদ্ধতিতে পোকামাকড় দমন করলে ফসল ক্ষতি কম হতো।
২. জলোচ্ছ্বাস থেকে প্রস্তুতি: আগাম সতর্কসংকেত অনুসরণ করে গবাদিপশুকে উঁচু আশ্রয়কেন্দ্রে বা নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া যেত।
৩. গবাদিপশুর যত্ন: সময়মতো টিকা প্রদান এবং খড়, সাইলেজ বা শুকনো খাবার আগে থেকে মজুদ করে রাখলে রোগ ও খাদ্যাভাব কমত।
৪. উঁচু জায়গায় ঘর নির্মাণ: পশুর ঘর উঁচু ভিটায় তৈরি করলে ক্ষতি কম হতো।সুতরাং, সময়োপযোগী অভিযোজন কৌশল প্রয়োগ করলে গফুর সাহেবের ক্ষতি উল্লেখযোগ্যভাবে কমানো সম্ভব হতো।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও